নড়াইলে গধহবধূকে পিটিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা

56
নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়ায় তামান্না (২১) নামে এক গধহবধূকে পিটিয়ে আহত করে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর গভীর রাতে লাশ বাড়িতে ফেলে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের পারবিষ্ণুপুর গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
শনিবার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
নিহত তামান্না উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের আকতার মোল্যার মেয়ে ও পুরুলিয়া ইউনিয়নের পারবিষ্ণুপুর গ্রামের ভ্যানচালক শিপন শেখের স্ত্রী।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, চার বছর আগে তামান্নার সঙ্গে শিপন শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শাশুড়ির সঙ্গে তামান্নার বনি-বনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত। শাশুড়ির নির্যাতনে টিকতে না পেরে তামান্না মাঝে মাঝে বাবার বাড়ি চলে যেত।
কিছুদিন আগেও একই কারণে তামান্না বাবার বাড়িতে চলে গেলে প্রায় ১৫-২০ দিন আগে স্থানীয়ভাবে শালিস মীমাংসার মাধ্যমে শিপন ও তার পরিবারের লোকজন তামান্নাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
ঘটনার রাতে শিপন তার স্ত্রীর অসুস্থতার খবর জানিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফোন করলে তামান্নার স্বজনরা রাতেই জামাতার বাড়িতে এসে ঘরের মধ্যে তামান্নাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে কালিয়া থানা পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের বাবা আক্তার মোল্যা বলেন, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি এলাকার লোকজন আমাকে মুঠোফোনে জানান মেয়ে তামান্নাকে হত্যা করে রেখে জামাতার পরিবারের সবাই পালিয়েছে। খবর পেয়ে মেয়ের বাড়ি গিয়ে দেখি খাটের ওপর মেয়ের নিথর দেহ পড়ে আছে। লাশের পাশে দেড় বছরের নাতনী কান্নাকাটি করছে।
জামাতা শিপন সম্প্রতি বিদেশ যাওয়ার কথা বলে তামান্নাকে তার বাবার নিকট থেকে চার লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দিচ্ছিল। টাকা দিতে না পারায় তার মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই মারধর করত। নিহতের স্বজনদের দাবি, তামান্নার গলায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
কালিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তামান্নাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। তামান্নার স্বামী শিপনসহ তার পরিবারের লোকজন পালিয়েছে। নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

LEAVE A REPLY