রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু : সংকটের দ্রুত সমাধানই কাম্য

72

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। নির্যাতনের মুখে ১৯৭৮ সাল থেকেই রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে থাকে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে মিয়ানমার বাহিনীর বর্বর অভিযানে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। ২০১৭ সালে রাখাইনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর দ্বারা যে গণহত্যা, ধর্ষণ এবং ঘরবাড়ি পুড়িয়ে মাটিতে যেভাবে মেশানো হয়েছে, তা দেশটি কোনোভাবেই লুকিয়ে রাখতে পারেনি। বিগত দুই বছরে বিশ্বের বহু দেশের স্বাধীন মানবাধিকার সংগঠন, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের তদন্তে বিষয়গুলো প্রমাণিত হয়েছে। হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, গণবাস্তুচ্যুতির মাত্রা দেখে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অভিযানে ‘জেনোসাইডের আলমত’ থাকার কথা বলেছেন।
রোহিঙ্গা মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর জেনোসাইড ও অন্যান্য নিপীড়ন চালানোর দায়ে ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ওআইসির পক্ষে পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট মুসলিম রাষ্ট্র গাম্বিয়া গত মাসে আইসিজেতে মামলা করে। রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ের করা মামলায় সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ, কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। আইসিজেতে মিয়ানমারের বিপক্ষে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ সরাসরি কোনো পক্ষ নয়, তবে গাম্বিয়ার পক্ষে এ ব্যাপারে লজিস্টিক সহায়তা দেবে বাংলাদেশ। গতকাল থেকে তিন দিনের শুনানিতে আইসিজের ১৬ জন বিচারকের প্যানেল রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ‘অন্তবর্তী ব্যবস্থার’ আবেদনের যৌক্তিকতা যাচাই করবে। শুনানি শেষে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রায় হওয়ার কথা রয়েছে।
রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। এই বোঝা বাংলাদেশ কত দিন বহন করবে? মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ এক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। কক্সবাজার ছেড়ে তারা এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকে অবৈধ পথে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সংগ্রহেরও চেষ্টা করছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পর্যটনশিল্প, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ অনেক বিষয়েই হুমকির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের মতো একটি দুর্বল অর্থনীতির দেশের পক্ষে দীর্ঘকাল ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার ভার বহন করা সম্ভব নয়। তদুপরি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদসহ বিভিন্ন অপরাধীচক্র রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ নেটওয়ার্ক তৈরিতে তৎপর রয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গা উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গ্রæপের অস্ত্রবাজি থামছেই না। সংবাদপত্রে গত সোমবার প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কয়েক দিন পর পর গভীর রাতে ক্যাম্পে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর নিজেদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে সাধারণ রোহিঙ্গারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পসংলগ্ন গ্রামে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারাও ভীতসন্ত্র¯Í হয়ে পড়েছে। নিকট ভবিষ্যতে এই চ্যালেঞ্জ আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে নানা মহল থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আদালতে দ্রুত বিচারের মধ্য দিয়ে সংকটের সমাধান হোক,এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Previous articleসুপ্রিয় ভট্টাচার্য্য যশোরের শ্রেষ্ঠ করদাতা
Next articleযশোরে ছাত্রলীগকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here