বিজয়ের মাসেই চিরবিদায় নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী স্বপন

131
যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার প্রদান

কল্যাণ রিপোর্ট : এ পৃথিবীতে কেউ অবিনশ্বর নই। সবাইকে একসময় এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। তেমনিভাবেই পরম সত্যের মুখোমুখি হয়ে জীবনের সর্বশেষ পরিণতি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হলো একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী স্বপনকে, মাত্র ৬৮ বছর বয়সে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী স্বপন মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তাঁর এই মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে যশোরের মুক্তিযোদ্ধা, পরিবহণ শ্রমিক, রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বমহলে এবং মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শোক জানাতে তাঁর পশ্চিম বারান্দিপাড়া অম্বিকাবসু লেনের বাসায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা ছুটে যান।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও ছেয়ে যায় এই বীরমুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুসংবাদের শোক। সর্বস্তরের মানুষ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার মো. নূর-ই-আলম রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার প্রদান করেন। সেখানে উপস্থিত জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সকল রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ সময় তারা তাদের দীর্ঘদিনের সঙ্গীকে স্যালুট দিয়ে বিদায় জানায়। অনেকে এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।

দীর্ঘদিনের সঙ্গীকে স্যালুট দিয়ে বিদায় জানায় মুক্তিযোদ্ধারা

এরপর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই মুক্তিযোদ্ধার কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে স্বপন নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোহাম্মদ আলী স্বপন ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। স্বপন বনগাঁ টালিখোলা রিক্রুটিং ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম লেখান। তারপর কলকাতার বারাকপুর ক্যান্টনমেন্টে কিছুদিন প্রশিক্ষণ নেন সেখান থেকে আসামের জাফলং এ এক মাস উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। অস্ত্র ও গোলা নিয়ে বয়রায় ফিরে আসেন। সেখান চৌগাছার সীমান্ত পেরিয়ে যশোর সদরের কাশিপুর গ্রামে অবস্থান নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন।


স্বপন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর সদর উপজেলা কমান্ডের সদ্যবিদায়ী কমান্ডার। বামধারার রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। পরিবহন শ্রমিকনেতা হিসেবে তিনি সুপরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন যশোর জেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পরিষদ যশোরের সাধারণ সম্পাদক, যশোর ইনসটিটিউট, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।


মোহাম্মদ আলী স্বপন স্ত্রী, দুই ছেলেসহ বহু আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন। তাকে মাগরিববাদ কারবালা মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে কারবালা কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Previous articleস্বাধীনতাবিরোধীর তালিকা : ভুল শোধরান, বিভ্রান্তি দূর করুন
Next articleযুদ্ধাপরাধী কসাই কাদের যখন ‘শহীদ’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here