যশোর-খুলনা মহাসড়কে অনিয়ম

194

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোর-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের যশোর সড়ক বিভাগের অধিনে শহরের পালবাড়ী মোড় থেকে রাজঘাট পর্যন্ত মাটি সরবরাহ করে মহাসড়কের বর্ধিত অংশ ভরাটের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। অন্য স্থান থেকে বালু ও মাটি সরবরাহ করে মহাসড়কের বর্ধিত অংশ ভরাটের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদাস ও জয়েন্ট ব্রাদাস টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ মহাসড়কের পাশের গর্ত থেকে ভ্যাকু দিয়ে মহাসড়কের বর্ধিত অংশ ভরাট করা হচ্ছে। ফলে সড়কের পাশে তৈরি হচ্ছে বিশাল খাল। এতে রাস্তা নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, যশোর-খুলনা মহাসড়কের রামনগর,গোপালপুর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভ্যাকু দিয়ে বড় বড় গর্ত করে মাটি তুলে সড়ক বর্ধিত করা হচ্ছে। স্থানীয়রা রাস্তা ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ঠিকাদারের লোকজন তা মানছেন না। ওই এলাকার বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম বলেন, যেভাবে গর্ত করে মাটি তোলা হচ্ছে তাতে রাস্তা বেশিদিন টিকবে না। কারণ, গর্তগুলো তো আবার রাস্তার মাটি দিয়েই ভরাট হবে।


গোপালপুর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, রাস্তার দুই পাশ থেকে মাটি ওঠানোর ব্যাপারে আমরা কথা বলতে গেলে তারা উল্টো খারাপ আচরণ করছে। বলে, আপনাদের রাস্তা হলেই হলো, এত কিছু দিয়ে আপনাদের কাজ কী? রাস্তার মাটি যেখান থেকে খুশি সেখান থেকে নিয়ে আসব।
রাজারহাটের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, রাস্তা তৈরি করা নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তামাশা করছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র থেকে জানা যায়, ২০১৭-১৮ চলতি অর্থ বছরে যশোর পালবাড়ির মোড় থেকে অভয়নগর রাজঘাট পর্যন্ত রাস্তায় ২টি প্যাকেজ প্রকল্পের আয়তায় এডিপির বরাদ্দ পায় ৩২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে রাস্তা নির্মাণের জন্য চুক্তি হয় ৩০৪ কোটি টাকা। যশোর পালবাড়ির মোড় থেকে সদর উপজেলার ঘুনির রাস্তার মোড় পর্যন্ত ১৫৭ কোটি টাকা মুল্যে রাস্তাটির কাজ পায় মাহাবুব ব্রাদাস ও জয়েন্ট ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

Previous articleবীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপনের স্ত্রীর হাতে জনপ্রশাসান সচিবের শোকবার্তা হস্তান্তর
Next articleস্থানীয়ভাবে রাজাকারের তালিকা যাচাইয়ের চিন্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here