সম্মেলনের উৎসবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা

77

কল্যাণ ডেস্ক : কনকনে শীতের মধ্যে পরিবার নিয়ে ঢাকায় এসেছেন কুষ্টিয়ার আকরাম হোসেন; মাথায় লাল-সবুজের রঙে আঁকা ছোট্ট নৌকা।
পাশে থাকা স্ত্রী আর দুই সন্তানদের পোশাকেও আছে লাল-সবুজের ছোঁয়া। সম্মেলনের কাউন্সিলর কিংবা প্রতিনিধি না হলেও উৎসবে সামিল হতে এসেছেন বলে জানালেন এই আওয়ামী লীগ কর্মী।
“দলকে ভালোবাসি। প্রতিবারের সম্মেলনে এভাবে নৌকার সাজ নিয়ে আসি। অন্যবার একা আসলেও এবার বউ আর ছেলেদের নিয়ে এসেছি,” সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসি ফটকে বলেন আকরাম।
আকরামের মতো এমন হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উচ্ছ্বসিত করতালির মধ্যে শুক্রবার বেলা ৩টার পরপরই দলের ২১তম সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে শেখ হাসিনা জাতীয় পতাকা ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর শেখ হাসিনা শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
জামান অভিসারা দেশ থেকে সাড়ে সাত হাজার কাউন্সিলর ও সাড়ে সাত হাজার প্রতিনিধিসহ প্রায় ৬০ হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত এই সম্মেলনে।
দুই দিন ব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকাল ৩টায় শুরু হলেও সকাল থেকেই ওই এলাকায় হাজির হয়ে যান হাজার হাজার নেতাকর্মী।
উৎসবের আমেজে উদ্যানের বিভিন্ন ফটক দিয়ে সকাল ৯টা থেকে ভেতরে ঢোকার শুরু করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
ঢাকায় বছরের প্রথম শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে শীতের মোটা কাপড় গায়ে জড়ালেও ত্রি-বার্ষিক এ আয়োজনের উৎসবে ভাটা পড়তে দেখা যায়নি।
ব্যান্ডদলের বাদ্যে কিংবা ’জয় বাংলা’ স্লোগানে সম্মেলনস্থল মুখর হন নেতাকর্মীরা। এরপর তাদেরকে সারি বেঁধে নিরাপত্তা দেয়াল পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়।
এর মধ্যে সম্মেলন মঞ্চে চলতে থাকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ভেতরে কাউন্সিলর-প্রতিনিধিসহ আমন্ত্রিত সবার জন্য খাবার এবং জুমার নামাজের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেওয়া হয় সভামঞ্চ থেকে।
সম্মেলনে যোগ দিতে কয়েক দিন আগে দেশে এসেছেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক। সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কথা হয় তার সঙ্গে।
প্রবাসী এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমৃদ্ধশালী উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন, নতুন নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে তা আরও শাণিত হবে।”
বহু সাজে সজ্জিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেতাকর্মীদের অনেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে উপস্থিত হন। লাল-সবুজে রাঙা মাফলার আর ক্যাপ ছিল অনেকের গলা-মাথায়।
দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে উদ্যানের রমনা কালীমন্দির ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশের সময় কথা হয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ আবুধাবি শাখার সভাপতি ইফতেখার হোসেন বাবুলের সঙ্গে।
সম্মেলন থেকে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশ এখন ভালো অবস্থায় আছি। দেশ আরও ভালো অবস্থায় যাক, দেশের সমৃদ্ধি-উন্নয়ন আরও বেগবান হোক এই সম্মেলনের মাধ্যমে, আমি সেটাই চাই।”

Previous articleমোদির শাসনে বিশৃঙ্খলায় পতিত ভারত
Next articleশৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ : দুস্থ ও বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here