বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি ডা. মোজাম্মেল হোসেন আর নেই

64

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পাঁচবারের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী ডা. মোজাম্মেল হোসেন আর নেই। শুক্রবার রাত পৌনে ১টায় ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)।
গতকাল শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) জুম্মাবাদ বাগেরহাট শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে এ জানাজা হয়।
বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবিদের জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। এর আগে দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ স্টেডিয়ামে আনা হয়। পরে রেল রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে নেওয়া হয় মরদেহ। সেখানে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগ, খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, বাগেরহাট পৌর আওয়ামী লীগ, জেলা যুবলীগসহ বাগেরহাট জেলা ও সব উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা মরহুমের কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
পরে জানাজার জন্য মরহুমের মরদেহ পুনরায় শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়। সেখানে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোজাম্মেল হোসেনের কফিনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
এসময় বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাবু, খুলনা বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফায়েকুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মীর শওকত আলী বাদশা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন, জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামান টুকু, মরহুম ডা. মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনসহ দলীয় ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হোসেন, এমপির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হোসেনের কফিনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মোজাম্মেল হোসেনের কফিনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোজাম্মেল হোসেনের কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এরপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাদের নিয়ে কফিনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।


পরে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম কফিনে শ্রদ্ধা জানান।
পরে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ দলীয় জাতীয় নেতারা অংশ নেন।
দুপুরে বাগেরহাট স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে ডা. মোজাম্মেল হোসেনের মরদেহ নিয়ে মোরেলগঞ্জ এসএম কলেজ মাঠের উদ্দেশ্যে রওনা দেন স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা। সেখানে জানাজা শেষে তার নিজ জন্মস্থান উপজেলার কচুবুনিয়া গ্রামে শেষবারের মতো জানাজার পরে দাফন করা হয়।
১৯৪০ সালের ১ অক্টোবর মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কচুবুনিয়া গ্রামের বর্ধিষ্ণু পবিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হাজী রহমত আলী; মা ময়ফুল বিবি। তিনি একমাত্র পুত্রসন্তান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মাহমুদ হোসেনসহ বহুগুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ডা. মোজাম্মেল হোসেন বাগেরহাটের খুবই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে পাঁচবার জয়লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি এসএসসি, ১৯৬১ সালে এইচএসসি, ‘৬৪ সালে চিটাগং মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। চিটাগং মেডিকেলে পড়াকালীন তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।
১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭৩ সালে মোড়েলগজ্ঞ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। পর পর দুবার তিনি এই পদে নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে বর্ষীয়ান এই নেতা বাগেরহাট মহাকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি তিনি এই পদে ছিলেন।
দীর্ঘ ৫০ বছরে বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে অনেক চড়াই-উতরাই পার করে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে ডা. মোজাম্মেল হোসেন এক পরম অভিভাবক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
১৯৯১ সালে বাগেরহাট-১ আসন থেকে তিনি জয়লাভ করে প্রথমবার বাংলাদেশ জাতীয় সংদদে বাগেরহাটের প্রতিনিধিত্ব করেন। পরে তিনি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়েই বিধবাভাতা, দারিদ্র্য ভাতা, বয়স্কভাতাসহ দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণকর অনেক সুযোগ-সুবিধা প্রদান শুরু হয়।

ত্যাগী এই নেতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত কাছের মানুষ হিসেবে অন্যদের থেকে পরিচিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY