মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা : আলোকিত হোক নতুন প্রজন্ম

40

গতকাল থেকে শুরু হয়েছে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা। দিনটি ছিল একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তজীবন লাভ করে লন্ডন ও দিল্লি হয়ে এ দিনেই ফিরে এসেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে।
তাই এ দিনটিকে বেছে নেয়া হয়েছে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার দিবস হিসেবে। বলা দরকার, বঙ্গবন্ধু জন্মেছিলেন ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ। এ বছর তার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বছরব্যাপী অনুষ্ঠান।
শুধু বাংলাদেশ নয়, ইউনেস্কোর সদস্যভুক্ত ১৯৫টি দেশে একযোগে পালিত হবে এ মুজিববর্ষ। ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির উপস্থিতিতে সর্বসম্মতভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনেস্কোভুক্ত দেশগুলোয় মুজিববর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
২০২০ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তটি যথার্থই বলতে হবে। কারণ একশ’ বছর আগে যে মানুষটির জন্ম হয়েছিল, তারই নেতৃত্বে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ।
বস্তুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে অথবা তিনি রাজনীতিতে অংশ না নিলে পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র ২৩ বছরের মাথায় আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম কিনা, তা এক বড় প্রশ্ন।
হাজার বছরের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুই সেই ব্যক্তি, যিনি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন এবং তাদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে। প্রকৃতপক্ষে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পরই বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পর্যায়ক্রমিকভাবে আন্দোলন করে গেছেন।
এজন্য তাকে সহ্য করতে হয়েছিল জেল-জুলুম, মুখোমুখি হতে হয়েছিল মৃত্যুর। অবশেষে সব বাধা অতিক্রম করে, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়।
দেশে নানা আয়োজন ও উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হতে যাচ্ছে মুজিববর্ষ। এই উদযাপনের একটি অন্যতম লক্ষ্য হল নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু ও তার জীবন, তার আদর্শ সম্পর্কে অবহিত করা।
বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক নির্মম হত্যাকান্ডে নিহত হন সপরিবারে। এই হত্যাকান্ডের পর সামরিক শাসকদের দীর্ঘ শাসনামলে তাকে উপেক্ষাই শুধু করা হয়নি, চেষ্টা হয়েছিল ইতিহাস বিকৃতির।
এমনও সময় গেছে, যখন বঙ্গবন্ধুর নামটি পর্যন্ত উচ্চারণ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই অপচেষ্টায় বিভ্রান্ত হয়েছিলেন কেউ কেউ। তখনকার নতুন প্রজন্ম বঞ্চিত হয়েছিল স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত ইতিহাস জানা থেকে। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এলে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া। তবে ২০০১ সালে ক্ষমতার পালাবদলের মাধ্যমে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে আবারও শুরু হয় ইতিহাস বিকৃতির পালা।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট আবারও ক্ষমতায় এলে ইতিহাস বিকৃতির ধারা থেমে যায়। বস্তুত গত ১১ বছর যাবত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় রয়েছে বলে স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস এখন সুপ্রতিষ্ঠিত। এ প্রেক্ষাপটেই শুরু হয়েছে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা। আমরা মুজিববর্ষের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি। আশা করছি, দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রত্যেক নাগরিক এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে কার্পণ্য করবেন না।

LEAVE A REPLY