সীমান্ত হত্যা থামাতেই হবে

0
78

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যাকান্ড বন্ধই হচ্ছে না। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, বহু দেনদরবার, সালিশ-মীমাংসা ও প্রতিশ্রুতিতে কমছে না একতরফা হত্যা ও নির্যাতন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তরফে আমরা উদ্বেগজনক তথ্য পেয়েছি। গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশিদের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে তিনগুণ। নতুন বছরের শুরুতেই আমরা দুঃখজনকভাবে সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখলাম। বুধবার গভীর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়। সমকালে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, নিহত দু’জনই শিবগঞ্জ উপজেলার এবং এ ঘটনায় আরও অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন। জানা গেছে, নিহতরা উভয়ই গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই দু’জন প্রাণ হারায়, দু’জন আহত। বিএসএফের এমন নির্বিচারে গুলি দুঃখজনক। আমরা দেখেছি, গরু চোরাচালানের কারণেই সীমান্তে অধিক পরিমাণে হত্যাকান্ড ঘটছে। এর আগে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পক্ষ থেকেও বলা হয়- বিজিবি ও বিএসএফ দু’পক্ষই একমত হয়েছে যে, সীমান্তে ৯৫ শতাংশ হত্যাকান্ডই ঘটছে গরু চোরাকারবারকে কেন্দ্র করে। গরু চোরাচালানের সঙ্গে স্বর্ণ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গরু চোরাচালান বন্ধ করা গেলে সীমান্তে হত্যা বন্ধের পাশাপাশি অন্যান্য চোরাচালানও রোধ করা সম্ভব হবে। যে অপরাধেই হোক, সীমান্তে অবৈধ কাউকে দেখলেই গুলি করতে হবে কেন? বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশেরই আইন অনুযায়ী, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার করার কথা রয়েছে। উভয় দেশের সরকারি বাহিনীই যদি এটি মেনে চলে, তাহলে দেখামাত্রই গুলি করার কথা না। কিন্তু আমরা সেটা দেখছি না। এ ধরনের ঘটনা মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘন বলেই আমরা মনে করি। আমরা চাই, উভয় দেশই তাদের আইন মেনে চলুক। এখন আবার ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইনের কারণে সংকট বাড়তে পারে, আরও বেশি মানুষ সীমান্ত পার হতে পারে। সেদিকেও আমাদের নজর রাখতে হবে। সীমান্ত হত্যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ হত্যা থামাতেই হবে।

LEAVE A REPLY