মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেড় কিলোমিটার ধাওয়া : গণধোলাই ৩ জনের মৃত্যু

156


কল্যাণ রিপোর্ট : যশোর সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রাম থেকে সোমবার ১৩ জানুয়ারি ভোরে তিনটি গরু চুরি করে পিকআপ গাড়িতে নিয়ে পালানোর সময় গ্রামবাসীরা ধাওয়া করে দেড় কিলোমিটার দুরে অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ মজুমদার পাড়ায় রেলক্রসিয়ের সামনে গাড়ীটি ধরে ফেলে। এ সময় জনতার গণধোলাইতে ঘটনাস্থলে দুই জন ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছে।

ঘটনার পর বসুন্দিয়া বাজার থেকে পুলিশের হাতে আটক গরুচোর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী গ্রামের ওহাব শেখের ছেলে জনি শেখ মৃত দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এরা হলো সোহেল (২৭) ও সৈকত (৩০)। মৃত দু‘জনই খুলনার খানজাহান আলী থানার রেলিগেট এলাকার বাসিন্দা। বাকিজনের পরিচয় এখনও উদ্ধার হয়নি। এ সময় তিনটি গরু উদ্ধার হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল যশোর সদর উপজেলার গাইদগাছি ও প্রেমবাগ রেলক্রসিং এলাকা পরিদর্শন করেছেন যশোরের জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেনসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

পুলিশ জানায়, যশোর সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রামের খোরশেদ আলমের তিনটি গরু নিয়ে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) টাটা পিকআপ গাড়িতে নিয়ে ৮/৯ জন চোর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয়রা মসজিদের মাইকের মাধ্যমে প্রচার করে তাদেরকে ধাওয়া করে। এ সময় গ্রামবাসীরা দেড় কিলো মিটার ধাওয়া করে অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ মজুমদার পাড়ায় রেলক্রসিয়ের সামনে গিয়ে গাড়ীটি ধরে ফেলে। তখন প্রেমবাগ এবং গাইদগাছি গ্রামের উত্তেজিত জনতা তিনজনকে ধরে গণধোলাই দিলে দুইজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এর মধ্যে অভয়নগর থানার পুলিশ একজনকে উদ্ধার করে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। কিছু সময় পর সেও মারা যায়। পুলিশ জনগণের কাছ থেকে চোরের ব্যবহৃত টাটা গাড়িটি উদ্ধার করে। পুলিশ এক পর্যায়ে বসুন্দিয়া বাজার থেকে জনি শেখ (২৩) নামে এক চোরকে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে গরু চুরির সাথে জড়িত এবং আটক দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত করে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) তৌহিদুল ইসলাম দুইজনের পরিচয় পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেছেন, এলাকার সার্বিক আইন-শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। উক্ত এলাকায় আইন-শৃংঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়নসহ গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত আছে।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন মারা গেছেন। তিনটি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত জনি শেখ এর বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ জেলায় একটি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অপর একটি চোরাই উদ্ধার মামলা আছে মর্মে জিজ্ঞাসাবাদে এবং সিডিএমএস ডাটাবেজ পর্যালোচনায় জানা যায়। ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যহত আছে।

LEAVE A REPLY