সাকিব বললেন, সময়ই দেবে উত্তর

82

ক্রীড়া ডেস্ক : সাকিব আল হাসানের কাছে জিজ্ঞাসা অনেক। লোকের আগ্রহ তার অনেক কিছুকে ঘিরে। আপাতত সবচেয়ে জরুরি জিজ্ঞাসা সম্ভবত, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে তিনি নিজেকে তৈরি রাখছেন কীভাবে। তবে সেই কৌতূহল জিইয়েই রাখলেন সাকিব, উত্তর তুলে রাখলেন সময়ের জন্য।
একটি পণ্যের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে চুক্তি নবায়নের অনুষ্ঠানে বুধবার ঢাকায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন সাকিব। নিষেধাজ্ঞার সময়টায় কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন, সেটি জানতে অপেক্ষা করতে বললেন নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়া পর্যন্ত।
“সেটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে আমি ফিরে আসা পর্যন্ত। বলে দিলাম যে অনেক কিছু করছি, কিন্তু ফেরার পর কিছু প্রমাণিত হলো না। তখন তো সেটির ফল ভালো হবে না, গ্রহণযোগ্যও হবে না। অপেক্ষা করুন, সব ঠিকঠাক থাকলে উত্তর সময়ই বলে দেবে।”
ক্রিকেটবিহীন জীবন কেমন কাটছে, সেটির উত্তরও রেখে দিলেন নিজের ভেতরই। ক্রিকেট মাঠকে কতটা অনুভব করছেন, সেটি অবশ্য বললেন। তবে নিজের মতো করেই।
“এই জিনিসগুলো আমি খুব একটা শেয়ার করতে চাই না (কেমন সময় কাটছে)। যদি ওরকম কোন পরিস্থিতি আসে, তখন যদি মনে হয় শেয়ার করা দরকার, তখন দেখা যাবে। তার আগে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে আমি স্বাচ্ছন্দবোধ করব না।”
“একটা জিনিসের সঙ্গে যদি আপনার সম্পৃক্ততা থাকে, সেটা আপনার পছন্দের হোক বা না হোক, আপনি সেটাকে মিস করবেন, এটা খুবই স্বাভাবিক। আমার ক্ষেত্রেও ভিন্ন কিছু না।”
বছরের পর বছর ধরে ক্রিকেট নিয়ে যে তুমুল ব্যস্ততা, হঠাৎ করেই এখন সেটা নেই। খানিকটা রসিকতা করেই সাকিব জানালেন, কিভাবে কাটাচ্ছেন এই অফুরন্ত সময়।
“আসলে সব কিছু বাদ দিয়ে একটা কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলাম, এখন কাজটা নেই। এখন অন্য সব কাজ করার সুযোগ হচ্ছে।”
নিষেধাজ্ঞার পরও ক্রিকেট অনুসারীদের প্রবল ভালোবাসা পেয়েছেন সাকিব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সব জায়গায় পেয়েছেন সমর্থন। জনপ্রিয়তা যেন বেড়ে গেছে আগের চেয়ে। সেটির একটি বড় প্রমাণ, নিষেধাজ্ঞার সময়েও অনেক পণ্যের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে তাকে বেছে নেওয়া।
মানুষের এই ভালোবাসায় সাকিব অভিভূত। অনুভব করছেন দায়িত্ববোধও।
“বাংলাদেশে অনেকবারই শুনেছেন কিংবা এই কথা প্রচলিত আছে যে জীবিত থাকতে মর্মটা বোঝা যায় না। আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, আমি জীবিত থাকতে মর্মটা বুঝতে পারছি। আমি খুশি, যেহেতু সবার ভালোবাসা আছে। এখানে দায়িত্বটা বেড়ে যায় স্বাভাবিকভাবে। আমি চেষ্টা করব এই দায়িত্ব পালন করতে।”
জুয়াড়ির সঙ্গে কথোপকথন গোপন করায় গত ২৯ অক্টোবর সাকিবকে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। তার শাস্তি দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা। তবে এক বছরের শাস্তি স্থগিত হওয়ায়, আইসিসির কোনো বিধি না ভাঙলে এক বছর পর ফিরতে পারবেন ক্রিকেটে।

LEAVE A REPLY