বিপুল অঙ্কের টাকার দুর্নীতি, কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক

101

প্রায় প্রতিদিনই দুর্নীতির কোনো-না-কোনো খবর প্রকাশিত হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে। দুর্নীতির এসব খবরের কিছু আবার বড় আকারের অভিযোগ। ব্যাংকিং খাতের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির খবরও জেনেছে দেশবাসী।

নিয়োগ-বাণিজ্যও এখন ওপেন সিক্রেট দুর্নীতি বলা যায়। আবার কখনও কখনও ব্যক্তিবিশেষের বড় আকারের দুর্নীতি মানুষকে স্তম্ভিত করে দেয়।

এমনই এক দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়েছে গতকাল যুগান্তরে। এতে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।

তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে, নিজের পদ-পদবি ব্যবহার করে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ লুটে নিয়েছেন। আরও উদ্বেগের বিষয়, জানা গেছে এ অর্থের সিংহভাগই তিনি বিদেশে পাচার করেছেন, যার পরিমাণ তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।

অর্থাৎ একই সঙ্গে তিনি অর্থ পাচারকারীও বটে। এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা সেলসহ বিভিন্ন সংস্থা ও যুগান্তরের অনুসন্ধানে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে প্রশান্ত কুমার হালদারের নাম সামনে এলে তদন্তে নামে দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থা। দুদকের অনুরোধে বিএফআইইউ প্রশান্তের অর্থ লেনদেন নিয়ে এক প্রতিবেদন তৈরি করে। এতেও তার ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে।

প্রশান্ত কুমার হালদারের এত বড় দুর্নীতির খবর অনেককেই হতবাক করে দেবে সন্দেহ নেই। বড় দুর্নীতিবাজরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অথবা প্রভাব খাটিয়ে এভাবেই দুর্নীতি করে থাকে। তবে মনে রাখতে হবে, কারও একার পক্ষে এত বড় দুর্নীতি করা সম্ভব নয়।

এ ক্ষেত্রে অন্যদের সহযোগিতা অবশ্যই থাকে। জানা গেছে, প্রশান্ত কুমার হালদারের অবৈধ কর্মকাণ্ডে নানাভাবে সমর্থন ও সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক অসাধু কর্মকর্তা। কাজেই প্রশান্তের পাশাপাশি তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমরা মনে করি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অঙ্গীকার ঘোষিত হয়েছে।

তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে মানুষ আশাবাদী হয়েছে এই ভেবে যে, দুর্নীতিবাজ যত ক্ষমতাবানই হোক তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে। সে ক্ষেত্রে বড় দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে আগে, এমনটিই প্রত্যাশা করে মানুষ।

জানা গেছে, প্রশান্ত কুমার হালদার বর্তমানে বিদেশে পালিয়ে আছেন। তার বিদেশযাত্রার ওপর নাকি নিষেধাজ্ঞা ছিল। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে পালিয়ে গেলেন সেটাই প্রশ্ন। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে অবশ্যই। তিনি যে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন, তাও ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

সাম্প্রতিককালে দুর্নীতির বিষয়ে দুদক বেশ তৎপর হয়েছে, এটি আশাব্যঞ্জক। বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি। আমরা মনে করি, এককভাবে দুদকের পক্ষে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হবে না, কিছুটা প্রতিরোধ করা যাবে হয়তো। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবে এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

Previous articleচালের দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মনিটরিং টিম
Next articleশেখ মুজিব : বাঙালীর ভাষা রাষ্ট্রের পিতা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here