সর্বস্তরে বাংলা চাই

0
80

‘মোদের গরব মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা’। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, রাষ্ট্রভাষা এবং একুশের পথ ধরে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও। সেই ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত সালাম, বরকত, শফিক, রফিক জব্বারের রক্তস্নাত ভাষার মাস শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে আ থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

মাতৃভাষা বাংলাকে কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু বুকের তাজা রক্তে বাংলার দামাল ছেলেরা নিজের ভাষাকে রক্ষা করেছে। উর্দু নয় বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাতেই তারা কথা বলে, লেখে, স্বপ্ন দেখে। এই ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই এসেছে আমাদের বহুল কাঙ্খিত স্বাধীনতা। ফলে সম্ভব হয়েছে ভাষাভিত্তিক একটি জাতি-রাষ্ট্র গঠনের।

দুঃখজনক হলেও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক অনেক কাজও হয় ইংরেজিতে। চারদিকে তাকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম থেকে শুরু করে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সবকিছু ইংরেজিতে। এটা আমাদের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়।

ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা নতুন করে ভাষা চেতনায় শানিত হই। কিন্তু সারা বছর ধরে বাংলার চর্চা আসলে কতোটা চলে এই আত্মোপলব্ধি অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার যে মর্যাদা প্রাপ্য ছিল সেটি কি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে? তাহলে মিছে হবে শহীদের রক্তদান?

দুঃখজনক হলেও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক অনেক কাজও হয় ইংরেজিতে। চারদিকে তাকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম থেকে শুরু করে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সবকিছু ইংরেজিতে। এটা আমাদের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়।

হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যমণ্ডিত বাংলা সমৃদ্ধ একটি ভাষা। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ দাশের মতো লেখক সৃষ্টি হয়েছে এই ভাষায়ই। কিন্তু সেই ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় পরবর্তী সময়ে তেমন কোনো উদ্যোগ কি নেয়া হয়েছে?

সময়ের অভিঘাতে পাল্টে যাচ্ছে সবকিছু। প্রযুক্তিনির্ভর একবিংশ শতাব্দীতে তরুণ প্রজন্মও বাংলা ভাষার প্রতি চরম উদাসীন। অন্যভাষা শেখায় কোনো দোষ নেই। রবীন্দ্রনাথের শরণ নিয়ে বলতে হয়-‘আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি পরে ইংরেজি শেখার পত্তন।’ মাতৃভাষা ভালো করে না জানলে কোনো ভাষাতেই দক্ষতা অর্জন করা যায় না। এবারের ফেব্রুয়ারিতে আমাদের শপথ হোক মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার।

একুশের আরেক অর্জন বইমেলা। ‘মুক্তধারা’র স্বত্বাধিকারী চিত্তরঞ্জন সাহা যে মেলার বীজ বপন করেছিলেন সেটি ফুলে ফলে এখন এক বিরাট মহীরূহ। আজ এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও জাতিগত আত্মার সঙ্গে সম্পর্কিত এক জাতীয় মেলা। এর রূপ রঙ চরিত্র আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক চেতনার সমার্থক। কেননা বইমেলা প্রাঙ্গণে যারা সমবেত হন তারা কেবল বই কিনতেই আসেন না। আসেন সামাজিক দায় মেটাবার বোধ থেকেও।

প্রতিবছরই ঘুরে ফিরে আসে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। ২ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে মাসব্যাপী এই বইমেলার। একুশের চেতনাসমৃদ্ধ মেলাকে কীভাবে আরও সম্প্রসারণ করা যায়, এর শ্রী বৃদ্ধি করা যায় এ নিয়ে ভাবতে হবে আমাদের।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, সময়ের অভিঘাতে সবকিছু পাল্টাচ্ছে। পাল্টাচ্ছে মানুষের রুচি ও মূল্যবোধও । যে কারণে এর সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য বইমেলার চেতনা, উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। বইকেন্দ্রিক একটি সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণে বইমেলা যেন আরও বেশি অবদান রাখতে পাওে সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।

LEAVE A REPLY