বসন্ত উৎসব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে গদখালীতে ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি : বেশি দাম পেয়ে খুশি ফুল চাষিরা

12

ইসমাইল হোসেন : ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালী বাজার। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন এলেই কয়েকগুণ বেড়ে যায় ফুলের চাহিদা। যার মূল অনুসঙ্গ হলো রংবেরঙের ফুল। আর এসব ফুলের চাহিদার ৬০-৭০ ভাগ ফুলের যোগান দিচ্ছে ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালী।
বসন্ত উৎসব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে গদখালী থেকে বিপুল পরিমাণ ফুল সারা দেশে সরবরাহ হয়েছে। গদখালী ফ্লাওয়ার সোসাইটি সূত্রে জানা যায়, বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবসে দেশের বৃহৎ ফুলের পাইকারি বাজার থেকে ২২ থেকে ২৫ কোটি টাকার গোলাপ, জারবেরা ও গ্লাডিওলাসসহ ১০ থেকে ১২ ধরনের ফুল দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। এ দুটি দিবস ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ীদের কাছে অত্যান্ত খুশির দিন। এদিনেই বছরের সবচেয়ে বেশি ফুল কেনাবেচা হয়। ফুলচাষিরা আশা করছেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আরো ৩০-৪০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) যশোরের গদখালীর পাইকারি বাজারে প্রতিটি গোলাপ ১৮-২০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রাতিটি গ্লাডিওলাস ১০-১৫ টাকা, জারবেরা প্রতি পিস ১৫-২০ টাকা, রজনীগন্ধা ৬-৭ টাকা, আঁটি জিপসি ২৫-৩০ টাকা, গাঁদা প্রতি হাজার ২শ-২শ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
গদখালী এলাকার ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, যশোরের ফুলের চাহিদা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফুল প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। সারা বছর ফুল বিক্রি করলেও এই দুটি দিবসের দিকে তাকিয়ে থাকি আমরা। বর্তমানে ফুলের বাজার ভালো। গত এক সপ্তাহ ধরে বেশি করে ফুলের পরিচর্যা করে আসছি।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম দৈনিক কল্যাণকে জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বসন্ত দিবস ও ভালোবাসা দিবসের ফুল বিক্রি শুরু হয়েছে। দেশের ফুলের চাহিদার ৬০ থেকে ৭০ ভাগ সরবরাহ হয় যশোরের গদখালী থেকে। বিভিন্ন দিবসে সারাদেশে যে পরিমাণ ফুল বেচাকেনা হয় তার বেশির ভাগই যশোরের।
সারা বছর ফুল উৎপাদন করলেও বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি এই তিন দিবসকে ঘিরেই মূল লক্ষ্য থাকে ফুল চাষিদের। আর এ তিনটি দিবসে ফুল বিক্রি করেই মূলত সারা বছরের লাভ-লোকসানের হিসাব মেলান এ অঞ্চলের ফুল চাষিরা।
ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কৃষক ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলের উৎপাদন ভালো হয়েছে। অন্যবারের চেয়ে এবার ফুল বিক্রি তুলনা মুলক ভাবে ভাল হয়েছে। ২১ শে ফেব্রুয়ারী সহ এই তিন দিবসে ফুল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।

LEAVE A REPLY