বস্তুনিষ্ঠতা ধারণ করেই দৈনিক কল্যাণের তিন যুগে পদার্পণ

0
187

কল্যাণ রিপোর্ট  : ‘বস্তুনিষ্ঠতাই আমাদের অহংকার’ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এমন এক মূলমন্ত্র ধারণ করে আমরা এগিয়ে চলেছি। পরম দয়ালু মহান আল্লাহ পাকের অসীম করুণাধারায় সিক্ত হয়ে দৈনিক কল্যাণ সেই পথচলা আজ ৩৫ বছর পূরণ করে ৩৬ বর্ষে পা রাখলো। পাঠক শুভানুধ্যায়ীদের অকৃত্রিম সহযোগিতায় এ পথ চলা শতবর্ষী হবে এ প্রত্যাশা আমাদের। কন্টকাকীর্ণ না হয়ে কুসুমাস্তীর্ণ হোক এ যাত্রা, মহামহিম আল্লাহর কাছে কায়োমনবাক্যে এই প্রর্থনা করি।
ঐতিহ্যের গৌরবদীপ্ত জেলা শহর যশোর থেকে ১৯৮৫ সালের ১৫ ফেব্রয়ারি নতুনত্বের স্বাদে ভরা দৈনিক কল্যাণ গণমাধ্যম জগতে সংযোজিত হয়। যাত্রা শুরুতেই আমরা পত্রিকার প্রাণশক্তি পাঠকদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা থেকে সুদীর্ঘ প্রায় তিন যুগ একটুও বিচ্যুৎ হইনি। বস্তুনিষ্ঠতা না থাকলে হলুদ সংবাদ তৈরির যথেষ্ট সুযোগ জুটে যায়। দৈনিক কল্যাণ প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী এই ধরনের সাংবাদিকতাকে পরিহার করে চলেছে। সাংবাদিকতার ব্যাকরণে কোন কিছু না ঘটলে সংবাদ হয় না। সেই ঘটনাটি সঠিকভাবে পরিবেশন করলে হলুদ সাংবাদিকতার সুযোগ থাকে না। কোন ঘটনা ঘটলে তা যার বিরুদ্ধেই ঘটুক না কেন, ভাষার কারুকার্যতায় হৃদয়গ্রাহী করে পাঠকের কাছে পরিবেশন করে এসেছি। আমরা দৃঢ়ভাবে আস্থাশীল এতে আমরা বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করতে পেরেছি। যেহেতু আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সেহেতু সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে একচোখা নীতি পরিহার করে চলছি। আমাদের নীতির আলোকে পরিবেশিত সংবাদে যার যতটুকু প্রাপ্য তাকে ততটুকু মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মূল্যায়নের দায়িত্ব পাঠকের। আমরা মনে করি এ ক্ষেত্রে পাঠক দক্ষ বিশ্লেষক।
আমাদের যাত্রা পাঠকদের নিয়ে। আমরা বিশ্বাস করি পাঠকরা পত্রিকার প্রাণশক্তি। প্রতিদিন যা নিয়ে একটি পত্রিকা প্রকাশ হয় তার প্রতি পাঠকের আগ্রহ সৃষ্টি হলে পত্রিকাটির স্থায়িত্ব হয় দীর্ঘ। এর বিপরীত হলে তার মৃত্যু আতুর ঘরে হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমরা এও বিশ্বাস করি পাঠকের প্রত্যাশা অনুযায়ী তথ্যের দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে আগ্রহে ভাটা পড়বে। যার পরিণতি পত্রিকার জন্য শুভ নয়। আমরা তথ্যের প্রবাহ সৃষ্টিতে সংকল্পবদ্ধ এবং সাধ্যের সীমায় তা করে চলেছি।
দ্ব্যর্থহীনভাবে আমাদের লক্ষ্যের ঘোষণা ছিল, আমরা তথাকথিত নিরপেক্ষ নই। আমরা স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মুক্তচিন্তা, প্রগতি, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতাসহ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে। মৌলবাদ, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ, নাশকতার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান। আমরা কোনোক্রমেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সঙ্গে আপোষে বিশ্বাসী নই। এতে যদি কেউ আমাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষহীনতার অপবাদ দেয় তাহলে মনে করবো আমরা সঠিক পথে আছি। এ ক্ষেত্রে আমরা নিরপেক্ষ নই। কেউ যদি স্বাধীনতার বিপক্ষে দাঁড়ায়, গণতন্ত্রের প্রশ্নে তো তার পক্ষে দাঁড়ানো যায় না। যে চেতনার আলোকে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দেশটা হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের দখল থেকে মুক্ত করা হয়েছে সেই চেতনা সমুন্নত রাখতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। আমরা নিরপেক্ষতার প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী পক্ষের পাশে দাঁড়াতে পারিনে। প্রগতি বিরোধী যে মহলটি পবিত্র ধর্মের অপব্যাখ্যা করে দেশ ও দেশের মানুষকে পেছনে ঠেলে দিতে চায়, আমাদের গতি তার উল্টো দিকে। কারণ উন্নয়নের স্বার্থে প্রগতির বিপক্ষ শক্তিকে সমর্থন করা যায় না। আমরা মুক্তচিন্তা বিকাশের পক্ষে। কুসংষ্কার পক্ষ নেয়া মূর্খতা। মানবিক গুনাবলীর বিকাশ ও বিস্তারে আমরা ক্লান্তিহীন। সব ধর্মের মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে যে দেশটি আজ বিশ্ব দরবারে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ বলে পরিচিত সেই দেশে সব ধর্মের সমানহারে সুযোগ সুবিধা আদায়ে আমাদের কন্ঠ উচ্চকিত থাকবে এবং থাকছিও। জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও নাশকতা সৃষ্টিকারীদের সমূলে উৎখাত করতে আমাদের মেধার সবটুকু ব্যয় করতে কার্পণ্য থাকবে না। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। পিছু টান আমাদেরকে রুখতে পাবে না। পঞ্জিকার পাতা থেকে একটি দিন বিদায় নেয়া মানে মহাকালের বুকে একটি সোপান রচিত হওয়া। আমরা সেই সোপানে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ও এ দেশের মানুষ নিয়ে সুন্দরের স্বপ্ন দেখি, আমরা সে স্বপ্ন সবাইকে দেখাতে চাই। আমরা কতটুকু পেরেছি তার মূল্যায়নের ভার বিজ্ঞ পাঠকের ওপর।
যশোরের ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচার, শিল্প-সাহিত্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি, ক্রীড়া-বিনোদন, মানুষের দুঃখ-কষ্ট, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, সমস্যা-সম্ভাবনার নিখুঁত চিত্র আঁকার চেষ্টায় নিয়ত সচেষ্ট থাকবে দৈনিক কল্যাণ। এ যাত্রায় পাঠক আমাদের সাথে ছিলেন, আগামীতেও থাকবেন এ প্রত্যাশা আমাদের।

LEAVE A REPLY