মুজিববর্ষে মুজিব পাঠ

57

এম আর খায়রুল উমাম
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া একটি গল্প দিয়েই শুরু করি- একদিন এক ইঁদুর তাড়াহুড়ো করে ছুটতে গিয়ে এক ঘুমন্ত সিংহের মুখের উপর দিয়ে ছুটে গেল। সিংহের ঘুম গেল ভেঙ্গে আর ভীষণ রাগে সে খপ করে ইঁদুরটাকে ধরে ফেলল। মুঠোর মধ্যে সে এবার ইঁদুরটাকে পিষে মেরে ফেলবে। ইঁদুরটা তখন খুব করুণ স্বরে তাকে মিনতি করে বললো “মহারাজ কসুর হয়েছে আমার, ক্ষমা চাইছি। আমায় ছেড়ে দিন, কোন একদিন আমি ঠিক আপনার এই দয়ার প্রতিদান দেব।” ইঁদুরের কথা শুনে হাসি পেল সিংহের। এ ব্যাটা বলে কি! যাই হোক কথা শুনে হাসতে হাসতেই সে ছেড়ে দিল ইঁদুরটাকে। কয়েকদিন পরের কথা। সিংহ একদল শিকারীর ফাঁদে ধরা পড়লো। শিকারীরা শক্ত দড়ি দিয়ে মাটিতে গাঁথা খুঁটির সাথে সিংহকে বেঁধে রেখে দিল। অনেক চেষ্টা করেও ফাঁদের বাঁধন থেকে নিজেকে মুক্ত করতে না পেরে সিংহটি বিকট গর্জন করতে থাকলো। গর্জন শুনে তাকে চিনতে পেরে সেই ইঁদুর তখন সিংহের কাছে এসে হাজির হলো। কুট কুট করে তার ধারাল দাঁত দিয়ে সেই ইঁদুর সিংহের দড়ি কেটে তাকে মুক্ত করে দিল। সিংহ ফাঁদ থেকে মুক্তি পাবার পরে সে সবিনয়ে তাকে বলে “মহারাজ, সেদিন আপনাকে আমার সাহায্য করতে পারার কথায় আপনি হেসেছিলেন। আপনি ভাবতেই পারেননি যে আমি কোনদিন আপনার দয়ার প্রতিদান দিতে পারবো। এখন দেখুন আপনার দয়ার প্রতিদানে ক্ষুদ্র হলেও আমি কোন কিছু করতে পারলাম কিনা।” দেশের সাধারণ জনগণ এখন সিংহের থাবার মধ্যে পড়ে আছে। এই সিংহরা সারাদেশে নিজ নিজ এলাকায় রাজত্ব করছে। ছোট বড় সব সিংহই নিজেদের মত্ততা প্রকাশ করে থাবার জোর দেখিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের নজির রাখছে। কেউ বিশ্বাস রাখতে পারছে না ইঁদুর বাহিনীর উপর।
সম্প্রতি চলতি পথে শুনি এক ব্যক্তি চিৎকার করে বলছেন তিনি রাজনীতি করেন তাই ‘ক’ বললেই কলিমউদ্দিন বুঝে নিতে পারেন। পরের দম্ভোক্তিগুলো এখানে আলোচনার বিষয় না হওয়ায় প্রকাশ থেকে বিরত থাকলাম। তিনি সরকারি দলের রাজনীতি করেন, নিজেকে এলাকার রাজা মনে করেন তাই জানেন অনেক বেশি অতএব কম বুঝবেন কেন? কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই ছোট সিংহগুলো ‘ক’-তে কাদের-কাসেম-কল্লোলও হতে পারে সে বিষয়ে ধারণা রাখার প্রয়োজন বোধ করেন না বা জানেন না। এমন বাস্তবতায় দাড়িয়ে দেশব্যাপী সাড়ম্বরে মুজিববর্ষ পালন করা হচ্ছে। মুজিববর্ষের প্রধান লক্ষ্য দেশের তরুণ ও আগামী প্রজন্মকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জীবনাচার, তাঁর রাজণীতি, আন্দোলন-সংগ্রাম, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি করা। আগামী প্রজন্ম যেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেদের তৈরি করে সেটাই ম্বপ্ন। সোনার বাংলা গড়তে আদর্শিক মানুষ প্রয়োজন। আদর্শিক সৈনিক ছাড়া সোনার বাংলা গড়া এবং তা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। সেই ভাবনা থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধান মন্ত্রীর মুজিব বর্ষ উদযাপনের ভাবনা কিনা জানিনা। তবে সাধু উদ্যোগ হিসেবে বিষয়টি অভিনন্দনযোগ্য।
মুজিববর্ষের প্রধান লক্ষ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের ভাবনায় সামান্য ভিন্নতা দেখা যায়। কারণ সাধারণ মানুষ রাজধানী থেকে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে যে সব সোনার বাংলা গড়ার আদর্শিক সৈনিকদের দেখে থাকে তাদের সাথে বঙ্গবন্ধুকে মেলাতে পারে না। মত ও পথের ভিন্নতা সত্ত্বেও পরস্পরকে সম্মান, চরম শত্রুকেও বিপদে সাহায্য করা, বিরোধী রাজনীতিকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ক্ষমতাশীলতা, সহমর্মিতা দিয়ে বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষের মধ্যে আকাশসমান স্বপ্ন সৃষ্টি করেছিলেন। যদিও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ তিনি পাননি। পঁচাত্তরে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করার মধ্য দিয়ে তার স্বপ্নের যবনিকা টানা হয়। তারপর থেকে এ স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব তিনি যে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন সে দল এবং তাঁর অনুসারীদের। সাধারণ মানুষের দুর্ভাগ্য তিনি দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎস্বর্গ করতে অনুপ্রাণিত করতে পারলেও অণুসারীদের ন্যায় ও ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত করতে পারেন নি। বঙ্গবন্ধু হত্যার সুবিধাভোগীদের সাথে অনুসারীদের একটা অংশ হাত মিলিয়ে নিজেদের স্বরূপের যে প্রকাশ ঘটিয়েছিল সে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা এখনও চলমান। সবকিছু নিজের স্বার্থের অণুকূলে আনার প্রতিযোগিতা। সেখান থেকে আধিপত্য বিস্তারে শক্তি প্রদর্শন। সুবিধাবাদিতার শেকড় গভীরে নেয়ার প্রচেষ্টা। এখানে মুজিব পাঠ কাদের জন্য জরুরী তা বিবেচনার দাবী রাখে।
বাঙালির পরাধীনতার ইতিহাস দীর্ঘ। পরাধীন জীবনে সাধারণ মানুষ নিজেদের স্বাবলম্বী ভাবতে পারেনি। সবসময় পরনির্ভরতার মধ্যেই বাস করেছে তারা। রাজারা, জমিদাররা তাদের সকল মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্র তৈরি করে দেবেন-সেই মানসিকতা থেকেই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তাদের সব সমস্যার সমাধান করবেন। একজন মানুষ হিসেবে সীমাবদ্ধতা, সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি এবং বঙ্গবন্ধুর অকাল মৃত্যু সাধারণ মানুষের সে প্রত্যাশাতে ইতি টানতে পারেনি। বরং স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাশার ফানুসকে আকাশ ছোঁয়া করেছে। দেশে স্বাধীনতার শক্তির জাগরণ সৃষ্টি হল না। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা অতীত ঐতিহ্যের ধারক হয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে রাজা হয়ে ‘আমরা সবাই রাজা’ তা ভুলে গেল। সারাদেশে ‘ক’ শুনলে কলিমউদ্দিন বোঝার লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। এরা নিজেদের থাবার মধ্যে মানুষকে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে গেল। নিজের ভাগে কম পড়লে বা স্বার্থে টান পড়লে এরা কী ভয়ংকর হতে পারে তার নমুনা আজ পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত বিস্তত। এমনকী যখন বাইরের কাউকে পাওয়া যায় না তখন তারা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে শক্তি পরীক্ষায় নিবেদিত হয়ে পড়ছে। এখানে মুজিববর্ষ আর মুজিব পাঠ কাদের জন্য জরুরী তা আশু বিবেচ্য।
বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশের রাজণীতিতে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যায়। ক্ষমতার মসনদে সামরিক শাসন এসেছে, স্বাধীনতা বিরোধীরা রাজণীতিতে পুনর্বাসিত হয়েছে, অভ্যন্তরীণ রাজণীতিতে বৈদেশিক আনুকূল্য প্রাপ্তির প্রতিযোগিতা এসেছে, নেতাদের কোন্দলে রাজণীতিতে পারিবারিক উত্তরাধিকারের আগমন ঘটেছে, রাজণীতিকরা রাজণীতি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি শুরু করেছে, পরমতসহিষ্ণুতা কমেছে, অনুসারীদের মধ্যে নতুন কিছু গ্রহণ করার প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়েছে, প্রশাসনের আধিপত্য বেড়ে চলেছে, জীবনের অর্জন বিসর্জন দিয়ে পদ-পদবি প্রাপ্তির প্রতিযোগিতা বেড়েছে, পেশাজীবীদের রাজনৈতিক বিভক্তি স্পষ্ট হয়েছে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েছে, ব্যাংক জালিয়াতি আর শেয়ার ধ্বস শুরু হয়েছে, সিন্ডিকেট ব্যবসা জোরদার হয়েছে, সন্ত্রাস তোষণ বেড়েছে। উল্লেখ করতে চাইলে এ তালিকা আরো দীর্ঘ হতে বাধ্য। রাজণীতিতে আসা এই যে পরিবর্তনের ¯্রােত, সব রাজনৈতিক দলের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও সে ¯্রােতের বাইরে থাকতে পারেনি। অথচ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অণুপ্রাণিত এ রাজনৈতিক দলটির কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক। বর্তমানে দলের প্রধানের দায়িত্বে বঙ্গবন্ধু কন্যা থাকায় জনগণের আস্থা আকাশ ছোঁয়া। সেই আস্থা দলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া দল ও জনগণের কল্যাণে জরুরী। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির দল ও দেশ ফিরিয়ে আনতে মুজিব বর্ষে মুজিব পাঠ কোথা থেকে শুরু করা প্রয়োজন তা বোধকরি ভাববার সময় এসেছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ চলমান। আমাদের রাজণীতি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় নিবেদিত। সেই ভোটাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা হয়েছে আবার তা আবার বাতিলও হয়েছে। এভাবে এগিয়ে চলতে চলতে আজকের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে অনেক প্রশ্ন। আজ সেসব প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করবো না। মহান জাতীয় সংসদে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বা জনগণ দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন যাদের তারা যথাযথ দায়িত্ব পালনে কতটা আন্তরিক তা বিবেচনার রাখে। সাধারণ মানুষ দেখেছে সরকার বিরোধী সদস্যরা মহান জাতীয় সংসদে হাজিরা দিতে আগ্রহী নন। শুধু তাই নয় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের অনীহার কারণে নিয়মিত কোরাম সংকট দেখা যায়। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও গা’ছাড়া ভাবে লক্ষণীয়। দশম জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নে মাত্র ১২ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে। গড়ে ৩১ মিনিটে একটা বিল অণুমোদন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। ভারতে লোকসভায় একটা বিল অনুমোদনে সময় লাগে ১৪১ মিনিট এবং আইন প্রণয়নে ব্যয় হয় ৩২ শতাংশ সময়। সংসদ সদস্যদের যথাযথ দায়িত্ব পালনে মুজিববর্ষে মুজিব পাঠ কোথা থেকে শুরু করা প্রয়োজন তা ভেবে দেখা জরুরী।
বাংলাদেশে সুশীল সমাজ হিসেবে খ্যাত ব্যক্তিদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার ভিত নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। বিবেকের তাড়নায় গণমানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব পালন করা এ মানুষগুলোও আজ রাজনৈতিক দলের মতাদর্শে নিবেদিত হয়ে পড়ছে। রাষ্ট্রক্ষমতার অংশ হওয়ার বাসনায় আঁতাত করে চলেছেন। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অগ্রসর মানুষদের এমন পরিণতির ফলে সাধারণ মানুষের অধিকার ও সুবিধা পদদলিত হচ্ছে প্রতিক্ষণে। অতীতের দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখি জাতির প্রতিটা সমস্যায় এই শ্রেণীর মানুষেরাই দিক নির্দেশনা দিয়েছে। আজ রাজনৈতিক চেতনার কারণে তাদের আপোষকামিতা প্রকট হয়ে উঠছে। এতে সাধারণ মানুষ সামাজিক ন্যায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ৫০০ টাকার সামাজিক নিরাপত্তা বলয় নিয়ে আপ্লুত হওয়ার প্রতিযোগিতাই সাধারণ জনগণের অবস্থা পরিস্কার করে। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সত্য, ন্যায়, মানবাধিকার, গণতন্ত্রসহ সাধারণ জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পক্ষে সুশীল সমাজের সাহসী ভূমিকা দেশ ও জাতির স্বার্থে জরুরী। মুজিব বর্ষে মুজিব পাঠের প্রয়োজনীয়তার কথা বলার সাহস এখানে নেই তারপরও বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ জানাই।
শুরুতেই উল্লেখ করা ছেলেবেলায় পড়া গল্পটি তাই মুজিব বর্ষে বারবার স্মরণে আসছে। দূর্ভাগ্য আমাদের স্বাধীনতা আমাদের সবাইকে রাজা করতে পারেনি। দেশে একটা শ্রেণী নিজেদের রাজা বিবেচনা করে অন্যদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে। মানুষের জীবন একাকিত্বের নয়, প্রতিবেশী-পরিজন-প্রতিজন নিয়েই জীবন। আর মানুষের সাথে অন্য প্রাণীর পার্থক্য সে নিজের জীবন নিজেই রচনা করে। সে জীবন রচনার প্রধান নিয়ামক সংস্কৃতি। মানুষ সংস্কৃতিবান হয়ে অন্যায় করে না, অকল্যাণকে প্রশয় দেয় না, অমঙ্গলে কষ্ট পায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙালিকে তার শ্রেষ্ঠ উপহার স্বাধীনতা এনে দিয়ে ¯িœগ্ধ ও সুন্দর জীবন রচনার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশে মানুষ শুধু নিজের প্রতি নয়, সবার প্রতি নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য স্বীকার করে নিজেদের সুন্দর করে সৃষ্টি করবে। সে সপ্নকে ধারণ করেই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী দলের তরুণ প্রজন্মকে মুজিব আদর্শে বলীয়ান করতে মুজিব পাঠের উদ্যাগ নিয়েছেন। অপ্রাসঙ্গিক হলেও মুজিব পাঠের জন্য বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আতœজীবনী বইটি প্রচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বইটি প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হলে বইটির মূল্য বর্তমান মূল্যের এক-চতুর্থাংশ বা এক তৃতীয়াংশের মধ্যে রাখা সম্ভব হতো। সাধারণ মানুষের জন্য বইটি সহজলভ্য করা সম্ভব হলে মুজিব বর্ষে মুজিব পাঠ স্বার্থক করা সম্ভব। আশাকরি সরকার বিষয়টি বিবেচনার নেবেন। কারণ সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর এ সাধু উদ্যোগকে স্বাগত জানায় এবং দেশের তরুণ প্রজন্ম হৃদয় দিয়ে মুজিব পাঠের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলুক এই কামনা করে। কামনা করে তরুণ প্রজন্ম দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিতে সহায়ক হোক। সেবা ও ত্যাগের মহিমায় তাদের মনে মানুষের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত হোক। তারা ব্যক্তি জীবনে মর্যাদা, সামাজিক জীবনে সাম্য, সাংস্কৃতিক জীবনে সুন্দরকে ধারণ করে রাষ্ট্রীক জীবনে নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত হোক।

LEAVE A REPLY