শুভ জন্মদিন কল্যাণ

148

ফখরে আলম
১৫ ফেব্রুয়ারী দৈনিক কল্যাণের শুভ জন্মদিন। কল্যাণের অনেক ভাই রয়েছে। এক ভাইয়ের নাম মঙ্গল। আরেক ভাইয়ের নাম সুখ সমৃদ্ধি। আরেকজনের নাম কুশল। আরেক ভাইয়ের নাম হিত। কল্যাণের এই ভাইয়েরা মঙ্গলময়। ৩০ বছর কল্যাণের সঙ্গে আমার স্মৃতি আষ্টেপৃষ্টে রয়েছে। কল্যাণ পত্রিকায় আমি ছড়া লিখেছি। নিবন্ধ, প্রবন্ধও লিখেছি। ঢাকার ঠাটারি বাজার থেকে শীষের টাইপ কিনে এনেছি। কল্যাণকে ভাত বাড়িও করেছি।
শহীদ মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে কল্যাণের অফিস ছিল। সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলার বাসাও ছিল। আমার তখন সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। একরাম ভাই আমাদের সিনিয়র। প্রতিদিন বিকেলে আমি, শামছুর রহমান, শাহাদাৎ হোসেন কাবিল, ফারাজী আজমল হোসেন, রুকুনউদ্দৌলাহ, কিরণ সাহা, অশোক সেন, মকবুল হোসেন, দারা মাহমুদ বসতাম। বলা যায় কল্যাণ ছিল আমাদের ভাত-বাড়ি। কল্যাণে গিয়ে আমরা খবরের সন্ধান করতাম। আমি ভালো খবর লিখতে পারতাম না। ছড়া কবিতা লিখতে পারতাম। ১৯৯০/৯১ সালে জেল পুলিশের সঙ্গে যশোর শহরবাসীর দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়। এমনকি যশোরে হরতাল পালিত হয়। আমি কল্যাণের প্রথম পাতায় এ নিয়ে ছড়া লিখি, ‘জেল পুলিশের মুত্র/ গন্ডগোলের সূত্র/ মুত্রে বড় গন্ধ/ যশোর শহর বন্ধ-’ এই ছড়ার জন্যে কল্যাণ পত্রিকা যশোর শহরের নাগরিকদের হাতে হাতে ঘুরে ফিরেছে। এই ছড়া ছাপার পর প্রতিদিনই আমি কল্যাণে ছড়া লিখেছি। আমার জানামতে দেশে কোনো দৈনিক পত্রিকায় কল্যাণের মত ছড়া আলো ছড়ায়নি। খ্যাতি অর্জন করেনি। কল্যাণ অফিসে আমি দেখেছি খবর নিয়ে গল্প হচ্ছে। অশোক দাদা এডিটোরিয়াল লিখছেন। আর দেখেছি তিন চারজন মহিলা শীষের টাইপ সাজিয়ে খবর কম্পোজ করছেন। একটি একটি অক্ষরের মালাগেঁথে আস্ত একটি খবরের কাগজ বের করা আমি অবাক হয়ে দেখেছি। একবার ‘শ’ টাইপের সংকট দেখা দেয়। আমি ঢাকায় যাচ্ছি। একরাম ভাই আমাকে ঢাকার ঠাটারি বাজার থেকে টাইপ কিনে আনতে বলেন। আমি ঠাটারি বাজারে গিয়ে ‘আফাতাপ টাইপ ঘর’ থেকে কিছু টাইপ কিনে আনি। সেই টাইপ কি ভার! এরপর সমবায় ভবনের নিচে দৈনিক কল্যাণের অফিস সরে আসে। এই অফিসেও কয়েক বছর ধরে আমি আড্ডা দিয়েছি।
একরাম-উদ-দ্দৌলার সাংবাদিকতার গুরু ছিলেন তারই দুলাভাই কবি নাসির উদ্দীন। কবি নাসির উদ্দীন ছিলেন সাপ্তাহিক গণদাবী’র সম্পাদক। পত্রিকাটির অফিস ছিল রেলগেটে। এই পত্রিকায় পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে তিনি নিয়মিত লিখেছেন। এ কারণে হানাদার বাহিনী ‘গণদাবী’ পত্রিকার অফিস পুড়িয়ে দেয়। নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে। এ ঘটনায় নাসির উদ্দীন ঘা-ঢাকা দেন। একরাম-উদ-দ্দৌলাও ঘা-ঢাকা দেন। নাসির উদ্দীনের হাত ধরেই একরাম-উদ-দ্দৌলা সাংবাদিক হয়েছেন। পরবর্তীতে একরাম-উদ-দ্দৌলার ছেলে মিথুনও সাংবাদিক হয়েছেন। এর মূল কল্যাণ অফিসেই পোতা। কল্যাণের শুভ জন্মদিনে কল্যাণের শুভ কামনা করি। স্বপ্নদেখি কল্যাণ সুখ সমৃদ্ধির আগমন ঘটাবে। আমাদের জন্যে মঙ্গল বয়ে আনবে। জনহিতকর কাজ করে কল্যাণ তার নামের স্বার্থকতাকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে।

LEAVE A REPLY