মিলনমেলার মধ্য দিয়ে ৩৬ বছরে পা দিল দৈনিক কল্যাণ

0
341

কল্যাণ রিপোর্ট : দক্ষিণ জনপদের প্রাচীন দৈনিক মুক্তিযুদ্ধের ধারক ও বাহক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথিকৃত দৈনিক কল্যাণ তাঁর প্রকাশনার ৩৫ বছর পূর্ণ করে ৩৬ বছরে পদার্পণ করায় আজ অপরাহ্নে প্রেসক্লাব যশোরের মিলনায়তনে বসেছিল এক মিলনমেলা।
মিলনমেলায় সভাপতিত্ব করেন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সালাউদ্দীন শিকদার। এ সময় মঞ্চে অতিথিদের সাথে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সংবাদের বিশেষ প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুকুনউদ্দৌলাহ ও পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সংবাদ আব্দুল ওয়াহাব মুকুল।
উক্ত মিলনমেলায় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনীতিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাসহ কল্যাণ পরিবারের সকল স্তরের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মিলনমেলার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন দৈনিক কল্যাণের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মুহাদ্দিস শফিউর রহমান, পরে গীতাপাঠ করেন সুকুমার রায়। পরে দৈনিক কল্যাণের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ দরবারে দোয়া করা হয়।
উদীচী যশোরের শিল্পীদর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ৩৬ বছরে পদার্পণের অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘোষিত হয়।
সভার শুরুতে দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক ও মিলনমেলার সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ তার বক্তব্যে দৈনিক কল্যাণের বস্তুনিষ্ঠতার প্রশংসা করে বলেন। যশোরে যোগদানের আগে থেকেই এ পত্রিকার নামের সাথে আমার পরিচিত। আজকের ৩৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে এসে জানতে পারলাম পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতি ও পাঠকপ্রিয়তা। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইনের ভিড়ে আজও এই দৈনিকটি পাঠকের কাছে সমাদৃত তার সাংবাদিকতার মাধ্যমে।
তিনি বলেন, কল্যাণ সম্পাদক একজন মহান মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক। তাঁর পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের উন্নয়নের ও সমস্যার খবর পরিবেশিত হচ্ছে। আপোসহীনভাবে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লেখনী পরিচালিত দৈনিকটি আজকে হাজারো পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছে। আমি এই পত্রিকাটির উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করি।
তিনি আরো বলেন, কল্যাণসহ যশোর থেকে যে সকল সংবাদপত্র প্রকাশিত হচ্ছে তাদের প্রতিদিনের কপি আমার টেবিলে এসে সেটি দেখে আমি অফিসের দিনের কর্মকান্ড শুরু করি। পত্রিকাগুলো মানুষের সমস্যা এবং তা সমাধানের যে সংবাদ প্রকাশ করে তা দেখে আমরা কাজ করার চেষ্টা করি। অনেকেই বলেন আমরা ভাল কাজ করছি। কিন্তু পত্রিকাগুলোর সংবাদ দেখেই আমরা বুঝতে পারি আমরা কিভাবে প্রশাসন পরিচালনা বা মানুষের জন্য কাজ করছি। এককথায় বলতে গলে বলতে হয় পত্রিকাগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কীভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেস অতিথি অতিরিক্ত শেখ সালাউদ্দীন শিকদার তার বক্তব্যে বলেন, আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নে যে কাজ করছে পুলিশ তার সাথে সংবাদপত্রগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সাংবাদিকদের স্বতস্ফূর্ত সহযোগিতা না পেলে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন করা একা পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। বিশেষ করে দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলা আমাদের বড় ভাই হিসেবে অনেক সময়ই আমাদেরকে বিভিন্ন রকম সুপরামর্শ দিয়ে থাকেন। যা আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে আমাদেরকে অনেক সহায়তা করেছে। আশা করছি তিনি আগামীতেও আমাদেরকে তাঁর সুপরামর্শ দিয়ে যাবেন।
বক্তাদের আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি আগত বিশেষ ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে ৩৬ পাউন্ড ওজনের কেক কাটেন কল্যাণ সম্পাদক। পরে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা কল্যাণ পরিবারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। যা রাত অবধি অব্যাহত ছিল।
প্রেসক্লাবে মিলনমেলা শেষে পত্রিকা দপ্তরে কল্যাণের সকল প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলা। এখানে প্রতিনিধিদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি কাজী শওকত হোসেন ময়না। মতবিনিময় শেষে সম্পাদক পত্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধি ও অফিসে কর্মরত সকলকে নিয়ে মধ্যহ্নভোজে অংশ নেন।

LEAVE A REPLY