যশোরের ডিসিকে ১০ জন বিশিষ্ট নাগরিকের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি প্রদান

171

“নব কিশলয় প্রি-ক্যাডেট নার্সারি স্কুলকে মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টার প্রতিবাদ”

নবনীতা সাহা : মঙ্গলবার যশোরের ১০ জন বিশিষ্ট নাগরিক নব কিশলয় প্রি-ক্যাডেট নার্সারী স্কুলকে মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত করবার প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন উপ পরিচালক (স্থানীয় সরকার বিভাগ) নুর-ই-আলম।
স্মারকলিপি প্রদান করেন কলামিস্ট ও আইইডি’র সাবেক সভাপতি এম আর খায়রুল উমাম, দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক ও যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ দ্দৌলা, সিনিয়র সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা রুকুনউদ্দৌল্লাহ, আইনজীবী নবী নেওয়াজ, মুজিবুদ্দৌলা সরদার কনক।
এছাড়া স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রদানকারী ব্যক্তিত্বরাসহ গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অশোক রায় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হাচিনুর রহমান, রাজনৈতিক জন তসলিম উর রহমান, প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান এবং সমাজের কথার বার্তা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন।
নব কিশলয় প্রিক্যাডেট নার্সারী স্কুলকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করার উদ্যোগ চলছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কাছে এ আবেদন করেছেন। শিক্ষানীতির প্রস্তাব মতো দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাড়ানোর সরকারী উদ্যোগ যখন স্থবির হয়ে পড়েছে, ঠিক সেই সময় বিদ্যালয়টির এহেন উদ্যোগ। বিদ্যালয়টি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনকারী অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। যশোরে মানসম্মত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংকটের কারণে সাধারণ অভিভাবকরা মনে করেন বিদ্যালয়টা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাড়ানো হলে নিচের শ্রেণীগুলোতে শিক্ষার্থীরা অবহেলিত হবে।
শহর থেকে বিডিআর ক্যাম্প সরিয়ে নিয়ে জেলা প্রশাসক ফজলুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠা পায় প্রিক্যাডেট নার্সারী স্কুল । ১৯৮১ সাল থেকে পরিচালিত বিদ্যালয়টি প্রাথমিক শিক্ষায় যশোরের মানুষের আস্থা অর্জন করায় দিনে দিনে শিক্ষার্থীর চাপ বেড়েই চলেছে। বিদ্যালয়টির প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ হয়তো কর্তৃপক্ষকে উৎসাহিত করেছে আপাতত অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নত করতে যা পরবর্তীতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রুপান্তরে সহায়ক হবে।
আমাদের শিক্ষানীতিতে বর্তমানের ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবনা রয়েছে। অনেকে মনে করছেন শিক্ষা নীতির প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যালয়টির এমন উদ্যোগ। কিন্তু শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন কর্মসূচি মোতাবেক ২০১২ সালে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে তা স্থবির হয়ে পড়েছে। তাই শিক্ষানীতির আলোকে নবকিশলয়ের উন্নয়ন যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছে না সাধারণ মানুষ।
শিক্ষা ব্যবস্থার প্রথম সোপান প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ । যশোরে মানসম্মত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চাইতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক কম। বিদ্যালয়টির সবুজ অঙ্গণ প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ স্থান। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন জেলা প্রশাসক, সাবেক শিক্ষা সচিব জনাব ফজলুর রহমান নিজেও বিদ্যালয়টির চরিত্র পরিবর্তন না করে যশোরের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ভিত মজবুত করবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
দেশের সর্বত্র মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি শিক্ষার্থীদের চাইতে অভিভাবকদের চাহিদা ব্যাপক। যশোরে মানসম্মত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চাইতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভাব প্রকট। যশোরবাসী দেখেছে অতীতে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন করা হয়েছে সেখানে নি¤œ শ্রেণী গুলো অবহেলিত হয়েছে। যশোরের মানুষ নতুন করে পুরাতন অভিজ্ঞতা মানুষ আর নিতে চায় না। তাই নবকিশলয় প্রিক্যাডেট নার্সারি স্কুলকে উন্নত করণের প্রক্রিয়া বন্ধ করা জরুরী। শিক্ষা কর্তৃপক্ষের বিষয়টা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করায় ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও মান অবনতি হচ্ছে। বিগত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি প্রাপ্তি নাই এবং বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য নিজস্ব বিধিবিধান থাকলেও তা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে না বলে প্রতীয়মান।

LEAVE A REPLY