শিক্ষিকা সুমাইয়ার দম্ভোক্তি : কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই

144

সবুজ মিয়া, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহে ১১ বছর ধরে সুমাইয়া খানম নামে একজন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মেডিকেল সনদ দেখিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ এসেছে। শিক্ষিকা সুমাইয়া খানম জেলার শৈলকুপা উপজেলার রতিডাঙ্গা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের কন্যা।
জানা গেছে,শিক্ষিকা সুমাইয়া খানম চাকুরী জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই তিনি মেডিকেল সার্টিফিকেট জোগাড় করে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চাকুরী করে যাচ্ছেন। শিক্ষিকা সুমাইয়া খানম চাকুরী বিধি অনুযায়ী সিভিল সার্জন অফিসের শারীরিক অক্ষমতার সার্টিফিকেট নিয়ে অবসরে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার কারণে বিভাগীয় কৈফিয়ত তলব এবং মামলা কোন কিছুই তাকে আটকিয়ে রাখতে পারেনি। বরং উপর মহলকে ম্যানেজ করেই তিনি চাকুরী টিকিয়ে রেখেছেন। শৈলকুপা উপজেলার ২৩ নং কচুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুমাইয়া খানম ২০০১ সালের ২৯ মার্চ যোগদান করেন বলে জানান স্কুল কর্তৃপক্ষ। ঢাকায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকে কর্মরত আছেন শিক্ষিকা সুমাইয়া খানমের স্বামী, সে সুবাদে তিনিও ঢাকাতে থাকেন।
এ বিষয়ে কচুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শিরিন আক্তার জানান, তিনি প্রধান শিক্ষক হিসাবে ২০০৯ সালে এই স্কুলে যোগদান করার পর থেকেই দেখে আসছেন সুমাইয়া খানমের মেডিকেল সার্টিফিকেটের কেরামতি। তিনি স্কুলে না আসলেও শিক্ষক হিসাবে তার পদ থাকায় সেখানে আর কেউ যোগদান করতে পারছেন না। কর্মস্থলে না আসলেও ২০১৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের খুলনা বিভাগীয় উপ-সহকারী পরিচালক এ কে এম গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে দেখা যায় সুমাইয়া খানমের সব কিছু সঠিক পন্থায় হওয়ায় তাকে পাওনাদি প্রদানের সুপারিশ করেন। ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি আবার বিনা বেতনে চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেন এবং ২০১৮ সালে ঢাকা থেকে একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকুরী থেকে অব্যাহতি প্রদানের আবেদন জানান।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শৈলকুপা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন জানান, সুমাইয়া খাতুন দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া চলছে।কর্মস্থলে অনুপস্থিত নিয়ে শিক্ষক সুমাইয়া খানমের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন, আমি কচুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তবে অনুপস্থিতির ব্যাপারে কারো কাছে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই।

LEAVE A REPLY