মাদ্রাসার নিয়োগ কমিটি : স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও প্রতিনিধিত্বশীল হওয়া প্রয়োজন

70

দেশের সাড়ে ৭ সহস্রাধিক মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ কমিটিতে প্রতিনিধি মনোনয়নকে কেন্দ্র করে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ (টিএমইডি) এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের (ডিএমই) মধ্যে ‘ঠাণ্ডা লড়াই’ শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং সুপার ও সহকারী সুপারের প্রায় ১৫ হাজার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অধিদফতরের কর্মকর্তারা যোগ দিচ্ছিলেন।
সম্প্রতি কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের নির্দেশে অধিদফতরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা তার মনোনীত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।
আশ্চর্যজনক হল, সার্কুলার জারির দুই সপ্তাহ না যেতেই এটি সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে নাকি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর থেকে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে ফাইলও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিনিধি নিযুক্ত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের কয়েকজন অসৎ কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত অযোগ্যদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করতেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিক যোগ্য প্রার্থী ইতিমধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে লিখিত অভিযোগও করেছেন।
এ অবস্থায় নতুন নির্দেশনা জারির পর স্বাভাবিকভাবেই সারা দেশের মাদ্রাসা শিক্ষকরা খুশি হয়েছিলেন। কারণ এর ফলে অসৎ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, হয়রানি ও দুর্ব্যবহার থেকে মুক্তির পথ তৈরি হয়েছিল। জানা গেছে, ‘উপরি কামাইয়ের’ সুযোগ নস্যাৎ হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের দুর্নীতিবাজরা অসন্তুষ্ট হন এবং পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে তদবির করলে এরই মধ্যে এ ব্যাপারে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং সেই নির্দেশনার আলোকে আরেকটি চিঠির খসড়া অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রতিনিধি সংক্রান্ত আগের নিয়মটি বহাল করা হলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাণিজ্য ফের রমরমা হয়ে উঠবে। দুঃখজনক হল, যে স্বপ্ন ও আশা নিয়ে সরকার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করেছে, বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। সেখানে অযোগ্য ও অসৎ কর্মকর্তাদের বসানো হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
উৎকোচ ও ব্যক্তিবিশেষের পছন্দ-অপছন্দই যদি মাদ্রাসাগুলোয় নিয়োগ লাভের মাপকাঠি হয়, তাহলে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বে। অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যারা চাকরি পায়, তাদের কাছ থেকে সততা ও নৈতিকতা আশা করা দুরাশা মাত্র।
এর ফলে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উল্লেখ্য, দেশের হাইস্কুল ও কলেজগুলোয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি দেয়ার বিধান রয়েছে। মাদ্রাসার ক্ষেত্রেও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের প্রতিনিধি হিসেবে রাখা যেতে পারে। কারণ শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়গুলো তারাই ভালো বোঝেন।

LEAVE A REPLY