দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস : ব্যাপক প্রস্তুতির বিকল্প নেই

91

দুর্যোগের কারণে প্রতি বছর দেশের বিপুলসংখ্যক জীবন ও সম্পদের ক্ষতি হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নির্মূলের কোনো পদ্ধতি এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে এ বিষয়ে ব্যাপক প্র্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি ন্যুনতম পর্যায়ে রাখা সম্ভব।
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিসহ নানা কারণে বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যাপক প্র্রস্তুতি নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
‘দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসে পূর্বপ্র্রস্তুতি টেকসই উন্নয়নে আনবে গতি’- এ স্লোগান সামনে রেখে আজ জাতীয় দুর্যোগ প্র্রস্তুতি দিবস পালিত হয়েছে। ব্রস্তুত দুর্যোগঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যাপক প্র্রস্তুতি না থাকলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
গত ২০০ বছরে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ২০০-এর বেশি প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। এমন ঘূর্ণিঝড় ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় সারা দেশে, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব বাড়াতে হবে।
কিন্তু হতদরিদ্র মানুষ এ ব্যয়ভার বহন করবে কী করে? আশার কথা, দেশের হতদরিদ্র মানুষের এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে সরকার। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুজিববর্ষে বাংলাদেশের কোনো মানুষ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না।
জানা গেছে, এবারের জাতীয় দুর্যোগ প্র্রস্তুতি দিবসটিকে অর্থবহ করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে দেশের গৃহ ও ভূমিহীন ৬ লাখের বেশি পরিবারকে একটি করে পাকাবাড়ি নির্মাণ করে দেবে সরকার। এ কর্মসূচিতে মোট ব্যয় হবে ২৪ হাজার ৩২০ কোটি টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প, ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। আমরা মনে করি, এটি একটি ভালো পদক্ষেপ।
অতি লোভী ও অপরিণামদর্শী মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশগত বিপর্যয় বেড়েই চলেছে। কাজেই সবাই দায়িত্বশীল না হলে দুর্যোগের সংখ্যা ও মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। নিয়ম মেনে সবাইকে অবকাঠামো ও জীবন গড়ার চেষ্টা করতে হবে।
এর ব্যত্যয় ঘটলে জীবন ও সম্পদ সবকিছুই অতিমাত্রায় ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। ব্যাপক প্র্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো মাত্রার দুর্যোগেই মানুষের দিশেহারা হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
কাজেই দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারিভাবে এবং ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যাপক প্র্রস্তুতির বিকল্প নেই।

LEAVE A REPLY