করোনা : পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই

0
101

করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস সম্প্রতি করোনা পরীক্ষার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এ পরীক্ষার ওপর জোর দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন : সব দেশের প্রতি আমাদের খুব সাধারণ একটি বার্তা, তা হলো- পরীক্ষা, পরীক্ষা, পরীক্ষা। সব দেশেরই উচিত সন্দেহজনক সব রোগীকে পরীক্ষা করা। চোখ বন্ধ করে থাকলে দেশগুলো এই মহামারির সঙ্গে লড়াই করতে পারবে না। পরীক্ষা ছাড়া সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা যাবে না, সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙা যাবে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের এ পরামর্শকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। চীন থেকে শুরু করে ইটালি, ইউরোপ, আফ্রিকাসহ সব মহাদেশেই ছড়িয়ে গেছে এ মহামারী। তবে করোনা ভাইরাস এত জ্যামিতিক হারে ছড়িয়ে পড়ছে যে, এতে যেকোন দেশে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এরপরও পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে আমরাও মনে করি।
সোমবার আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বাংলাদেশে আরও একজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে নতুন করে ৬ জনের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে এখনও পর্যন্ত মোট তিনজনের মৃত্যু এবং ভাইরাসে মোট ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর সারাদেশে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। এ তথ্য আমাদের শঙ্কিত করে তোলে।
শুরু থেকে করোনা মোকাবেলায় নানা ধরনের আশ্বাস শোনা গেলেও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীন আচরণ আমরা লক্ষ্য করেছি। এমনকি বিদেশফেরতদের কথিত আন্দোলনের কারণে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের বদলে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠাতে হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে তারা এসব নিয়মাবলীর তোয়াক্কা করেননি। চ্যানেল আই, চ্যানেল আই অনলাইনসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে তাদের প্রকাশ্যে জনগসমাগমস্থলে ঘুরে বেড়ানোর খবর আমরা দেখেছি। প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের অনেকে আবার তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি, এমনটাও দেখা গেছে।
আইইডিসিআর এর পরিচালক জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫৬ জনের করোনা পরীক্ষা করেছেন তারা। এরমধ্যে ৬ জন আক্রান্ত পাওয়া গেছে। এ ভাইরাসটির গতিপ্রকৃতি এমন যে, মানুষ থেকে মানুষে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। নতুন করে আক্রান্তদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদেরকেও কোয়ারেন্টাইনে রাখা জরুরি। নয়তো আরও ব্যাপক আকারে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে।
এক্ষেত্রে আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের সাথে একমত পোষণ করছি। পরীক্ষার বিষয়টি যদিও কষ্টসাধ্য, কিটসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্বল্পতার কারণে, তবুও এর কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ৫৬ জনের মধ্যে যদি ৬ জন আক্রান্ত পাওয়া যায়, তাহলে করোনা সন্দেহ হলেই গণহারে পরীক্ষা করতে হবে বলে আমরা মনে করি। এজন্য জনগণকে যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারের সব নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, তেমনই পরীক্ষার বিষয়ে আরও উদ্যোগী হতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

LEAVE A REPLY