করোনায় এক কাতারে ইহুদি-খ্রিষ্টান-মুসলিম, জেরুজালেমে সম্মিলিত প্রার্থনা

0
94

কল্যাণ ডেস্ক : নোভেল করোনাভাইরাস এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্বজুড়ে। ছড়িয়ে পড়ছে ১৯৯টি দেশ ও অঞ্চলে। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৬৮ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩১ হাজার ১৭ জনের। প্রতি মুহূর্তে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই সংখ্যা। ভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে গোটা বিশ্ববাসী। তবে খুশির খবর হচ্ছে করোনাভাইরাস ধর্মীয় বিভেদ ভুলে খ্রিষ্টান, মুসলিম ও ইহুদিদের এক কাতারে নিয়ে এসেছে। করোনামুক্তির জন্য জেরুজালেমে একসঙ্গে প্রার্থনায় লিপ্ত হয়েছেন এই তিন ধর্মের অনুসারীরা! এটা নিঃসন্দেহে একটি বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

তিনটি আব্রাহামিক ধর্মের নেতারা বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারি থেকে মুক্তির জন্য একসঙ্গে প্রার্থনা করেছেন বলে ভ্যাটিকান নিউজের খবরে বলা হয়েছে।

পবিত্র নগরী জেরুজালেমের মেয়র কর্তৃক গৃহীত এই উদ্যোগে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২ টায় ‘জেরুজালেম সিটি হলে’ সম্মিলিত এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ড্রুজ ও বাহাই সহ অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিদেরও উপস্থিতি থাকতে দেখা যায়।

সাধারণ প্রার্থনার আগে পবিত্র ভূমির ফ্রান্সিসকান কাস্টোডিয়ান ফাদার ফ্রান্সেস্কো প্যাটন বিরল এই মুহুর্তের তাৎপর্য তুলে ধরে ভ্যাটিকান রেডিওতে বক্তব্য রেখেছিলেন। সেখানে তিনি প্রতিটি ধর্মকে তার নিজস্ব ঐতিহ্য অনুসারে প্রার্থনা পাঠ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে সর্বশক্তিমান ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব যাতে এই মহামারিটি বন্ধ হয়।’

উদ্যোগটির একটি গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে উল্লেখ করে ফাদার প্যাটন বলেন, ‘এটি নিজেদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমরা সকলেই একই শিকড়ের বিশ্বাসী। এই একই মূলের জন্য আমরা বিশ্বাস এবং আস্থা সহকারে সর্বশক্তিমান ইশ্বরের কাছে আমাদের প্রার্থনা জানাতে পারি।’

তিন ধর্মের সম্মিলিত সাধারণ প্রার্থনার বিষয়টি গত ২১ মার্চ জারি হওয়া একটি যৌথ ইশতেহারের শীর্ষে ছিল। যেখানে চার্চ অব দি হলি সেপুলচার (লাতিন, গ্রীক অর্থোডক্স এবং আর্মেনিয়ান) নেতারা এই আশা প্রকাশ করেছিলেন যে,এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আব্রাহামের সমস্ত সন্তানেরা সুরক্ষা ও করুণা প্রার্থনা করার জন্য সর্বশক্তিমানের কাছে একত্রে প্রার্থনা করতে পারেন।

LEAVE A REPLY