হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ছেলে ও মেয়ের বিয়ে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান!

103
প্রতীকী ছবি

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি : সরকারের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা দুই ছেলে- মেয়ের বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার কুশখালী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শ্যামল ও সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোর্শেদের বিরুদ্ধে। তবে ছেলের দাদার দাবি, তার নাতি ভারতে থাকাকালীন বিয়ে করেন, দেশে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় তাদের আবারও বিয়ে দেওয়া হয়। এ বিয়েতে ভোজও খেয়েছেন ওই দুই জনপ্রতিনিধি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, কুশখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মারফত উল্লাহ গাজীর ছেলে মাসুম গাজী, মাসুম গাজীর স্ত্রী ফাইজুন্নাহার ও ছেলে ইলিয়াস গাজী কয়েক বছর আগে কাজের জন্য অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। গত ২৬ মার্চ কেড়াগাছী সীমান্ত দিয়ে তারা আবারও অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তবে তারা সঙ্গে করে নিয়ে আসেন ১৭ বছরের এক কিশোরীকে। এরপর বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সদস্যরা মাসুম গাজীর বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেন। মাসুম গাজীও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার অঙ্গীকার করেন।

তারা আরও জানান, ভারত থেকে সঙ্গে করে নিয়ে আসা মেয়েটির পরিচয় জানতে চাইলে তারা একেকজন একেক উত্তর দেন। এতে গ্রামবাসীর সন্দেহ হয়।

স্থানীয়রা বলেন, হঠাৎ গত ২৯ মার্চ রাতে আমরা শুনতে পাই সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাতক্ষীরা সদরের কুশখালী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শ্যামল ও সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মোরশেদ হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ইলিয়াস গাজী ও ভারত থেকে সঙ্গে আনা ওই মেয়েটির বিয়ে দিচ্ছে। সোমবার সকালে জানতে পারি গতরাতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন গোটা বাংলাদেশ করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত তখন শুধু বিদেশ ফেরত নয় সন্দেহভাজন সকলকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিচ্ছে সরকার আর তা তদারকির দায়িত্ব স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের, ঠিক তখন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এমন কাজ খুবই দুঃখজনক। আমরা সরকারের নিয়মনীতি অমান্যকারী এমন চেয়ারম্যানের বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।

সাতক্ষীরা সদরের কুশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, সকালে শুনেছি চেয়ারম্যান শ্যামল ও চেয়ারম্যান (সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান) মোরশেদ গতরাতে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা দুই ছেলেমেয়ের বিয়ে দিয়ে সেখানে ভোজ খেয়েছেন। মেয়েটা নাকি ভারতীয়। যাচাই ছাড়া এমন বিয়ে দেওয়া তাও এই সময়ে মোটেও উচিত হয়নি।

সাতক্ষীরা সদর থানা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ক্বারী মিজানুর রহমানও এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এ ব্যাপারে কুশখালী ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শ্যামলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা যায়নি।

তবে ছেলের দাদা মারফত উল্যাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার পোতার (পুত্রের পুত্র) আগে বিয়ে হয়েছিল, এই আর একবার হলো। চেয়ারম্যান শ্যামল ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোর্শেদ উপস্থিত থেকে বিয়ের আয়োজন করেন এবং রান্নাবান্না করে খাওয়া-দাওয়া করেন।

LEAVE A REPLY