যশোরে মুদি দোকান দুপুর ২টা আর কাঁচাবাজার সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে : নির্দেশ না মানলে কঠোর ব্যবস্থা

3687

কল্যাণ রিপোর্ট : কোভিন-১৯ মোকাবিলা এখন একটা যুদ্ধ। যেখানে জনগণের বিরাট ভুমিকা রয়েছে। তারা নিজেরা সচেতন হয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ না রাখলে সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। আর সামাজিক যোগাযোগবিচ্ছিন্নতাই হচ্ছে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর একমাত্র পথ। এসব বিবেচনায় সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে এবং জনগণকে ঘরে থাকার আবহান জানিয়েছে। কিন্তু দু:খজনক যে ঘরে থাকার এই আহবান অনেকেই যথাযথভাবে মানছেন না। ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না যশোরে অনেক জায়গায়। বিভিন্ন অজুহাতে চায়ের দোকান,পাড়া-মহল্লায় ভিড় জমাচ্ছে মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে যশোর জেলা প্রশাসন ব্যবসায়ীদের সাথে জরুরী বৈঠক করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো হলো,এখন থেকে যশোর শহরের সব নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে আর কাঁচা তরিতরকারি এবং মাছ বাজার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ওষুধের দোকান বাদে অন্য সকল দোকানপাট পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই নির্দেশ না মানলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।

আজ বুধবার দুপুরে যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে যশোর শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে জরুরী বৈঠকে সবার সম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন,জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ,পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন,যশোর অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল নেয়ামুল হালিম খান,পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু,প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন,যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা,সাধারণ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন,বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মীর মোশাররফ হোসেন বাবুসহ বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা।


সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল নেয়ামুল হালিম খান বলেন, তারা মানুষের নিরাপত্তার জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছে। কিন্তু কিছু মানুষ তাদের সহযোগিতা করছে না। তাদের ঘরে থাকার কথা বলা হলেও তারা শুনছেন না। তারা সরকারি নির্দেশনা মানছেন না। এখনও পর্যন্ত মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বোঝানোর আর সময় নেই। তিনি সকলকে ঘরে থাকার আহবান জানান।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন,এতদিন কাউকে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু আজ থেকে ঘরে থাকার নির্দেশনা না মানলে পুলিশ কঠোর হবে। তিনি ছুটির এই কয়দিন জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে সবার প্রতি অনুরোধ করেন।


জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, মুদি দোকান কিংবা কাঁচা বাজার বন্ধের পক্ষে তারা কখনোই ছিলেন না। কিন্তু কাঁচা বাজার আর মুদি দোকানকে কেন্দ্র করে বাজারে লোকসমাগম বেড়েছে। চায়ের দোকান খোলা রেখে আড্ডা বসছে। এসব কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে সবাই। তাই সকলের সাথে আলোচনা করে এই সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার বলেন,যশোরে বর্তমানে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেও মানুষ নির্দেশনা না মেনে বাইরে বের হচ্ছেন। যা কারো কাছে কাম্য নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে সকলেই উদ্বিগ্ন। তিনি অসহায় গরীবদের উদ্দেশ্যে বলেন,আপনার খাবার নিয়ে মোটেও চিন্তা করবেন না। আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। খাবার আপনাদের ঘরে পৌঁছে যাবে।আপনারা সবাই ঘরে থাকুন। পৌরবাসীকে সুস্থ্য রাখুন। নিজেরা সুস্থ্য থাকুন।


এছাড়া সভায় উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত দেন,বড়বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী তন্ময় সাহা,হাটচাঁদনির মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা,চুড়িপট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ রফিকুল ইসলাম,সিটিপ্লাজা মার্কেটের সভাপতি একেআজাদ প্রমূখ।
এ সময় ব্যবসায়ী নেতারা জেলা প্রশাসনের দেয়া নির্দেশনা মানার অঙ্গীকার করেন একই সাথে অন্য ব্যবসায়ীরা হাত তুলে তাদের সাথে একাত্ততা প্রকাশ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here