বিশ্বের সেরা ১০ কভার্ট অপারেশন : যেগুলির নাম শুনলে শিউরেওঠে অনেকেই

79

আন্ডারকভার এজেন্ট৷ সিক্রেট সার্ভিস৷ কভার্ট অপারেশন৷ যা সব শুনলেই আপনার চোখে ভেসে উঠতে পারে সিআইএ, এফএসবি, এমআই সিক্স, মোসাদের মতো বিশ্বখ্যাত (কারও কারও কাছে কুখ্যাত) সব সিক্রেট সার্ভিস এজেন্সির নাম৷ কিংবা মনে পড়ে যেতে পারে কুখ্যাত সব মিলিটারি স্কোয়াডের কথা৷


আজ এই প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের জানাব, বিশ্বের সেরা ১০টি কভার্ট অপারেশনের কথা৷ যে সমস্ত অপারেশনের কথা জানলে আপনিও শিউরে উঠবেন৷

১০. অপারেশন পেপারক্লিপ

সদ্য তখন শেষ হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ৷ আমেরিকা, ব্রিটেন এবং রাশিয়া মিলে এই কোভার্ট অপারেশেনর ছক কষেছিল৷ মিশনের লক্ষ্য ছিল কয়েকজন নাৎসি বিজ্ঞানী এবং নাৎসি সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে কয়েদ করা৷ মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র নেতৃত্বে এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছিল পেপারক্লিপ৷ পেপারক্লিপ অপারেশন সফল হয়েছিল৷ বিখ্যাত নাৎসি বিজ্ঞানী ভন ব্রাউন এবং আর্থার রুডলফকে জালে পুরেছিল সিআইএ৷

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা এবং চন্দ্র অভিযানে এই দুই বিজ্ঞানীরও অবদান ছিল৷ কিন্তু এরাই পরবর্তীকালে নাৎসিদের হয়ে বহু বিধ্বংসী ক্ষেপনাস্ত্র তৈরি করেছিলেন৷ যার ফলস্বরূপ এদের ধরতে কোভার্ট অপারেশন করেছিল সিআইএ৷ এছাড়াও এই অপারেশেনে ধরা পড়েছিল নাৎসি গুপ্তচর সংস্থার ডিরেক্টর রেইনহার্ড গেহলেন৷ যিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি পৃথক গুপ্তচর স্কোয়াড তৈরি করেছিলেন৷ শুধু তাই নয় ইজরায়েল সিক্রেট সার্ভিস এজেন্সি মোসাদ তৈরিতেও রেইনহার্ডের অবদান ছিল৷

৯. অপারেশন এম কে আল্ট্রা

উত্তর কোরিয়ার মগজধোলাই শিবিরকে (ব্রেনওয়াশিং প্রোগ্রাম) এক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক বলা চলে৷ কারও স্মৃতিকে তাঁর মস্তিস্ক থেকে মুছে দেওয়ায় এই অপারেশেনর লক্ষ্য৷ স্মৃতিকে মুছে দেওয়ার জন্য যে উপায়গুলি সিআইএ অবলম্বন করত তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল৷ এক্ষেত্রে কাউকে দিনের পর দিন এলএসডি’র মতো মারণ ড্রাগ দেওয়া হতো৷ যাতে সে কোনও গোপন তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে চাইলেও ফাঁস না করতে পারে৷ কোনও কোনও সময় হিপনোটাইজও করা হত৷

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাই ডোজের ড্রাগের ব্যবহার করা হতো৷ এক্ষেত্রে একটি ঘটনায় একজনকে দীর্ঘ ৭৭ বছর ধরে টানা ‘এলএসডি’ দেওয়া হয়েছিল৷ ফলস্বরূপ সেই ব্যক্তি কোমায় চলে যান৷ শোনা যায় কোনও কোনও সময় সিআইএ নিজেদের অবসরপ্রাপ্ত এজেন্টদের ওপরও অপারেশন এম কে আল্টা প্রয়োগ করে থাকে৷

৮. অপারেশন অ্যান্ত্রোপোয়েড

১৯৪২ সালে নাৎসি কমান্ডার রেইনহার্ড হেড্রিককে হত্যা করার ছক কষেছিল ব্রিটেনের গুপ্তচর সংস্থা এমআই সিক্স৷ চেকোস্লোভাকিয়ায় ব্রিটেনের মিলিটারি বেস ক্যাম্প থেকে এই অপারেশেনর জন্য দুজনকে নির্বাচন করেছিল এমআই সিক্স৷ ১৯৪২ সালের ২৭ মে ঘটে সেই হত্যাকাণ্ড৷ কীভাবে ঘটানো হয়েছিল এই হত্যাকাণ্ড?

একটি ব্যস্ত রাস্তায় ট্রামের মধ্যে একেবারে জানলার ধারে বসেছিল ওই দুই এজেন্ট৷ সেই সময় ট্রামের গা ঘেঁষে এসে দাঁড়ায় কমান্ডার রেইনহার্ডের হুটখোলা গাড়ি৷ একজন এজেন্ট ট্রামের জানলা থেকে বন্দুক তাক করে গুলি ছুঁড়তে যায়, আর তখনই বন্দুকের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রিগার আটকে যায়৷ সেই সময় তা দেখতে পেয়ে পালটা গুলি চালায় কমান্ডার রেইনহার্ড৷ গাড়ি থেকে নেমে পড়েন তিনি৷ আর সেই সময় আরেক এজেন্ট রেইনহার্ডের গাড়িতে গ্রেনেড ছোঁড়ে৷ প্রবল বিস্ফোরণে গাড়িটি উড়ে যায়৷ কমান্ডার রেইনহার্ড মারাত্মকভাবে জখম হন৷ সেই সময় বেঁচে গেলেও হাসপাতালে অপারেশেনর কয়েকদিন পরই তিনি মারা যান৷

৭.অপারেশন প্লুটো

এই অপারেশনের লক্ষ্য ছিল ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যা করা৷ অবশ্যই নেতৃত্বে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ৷ জে এফ কেনেডি তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট৷ বিশেষভাবে উল্লেখ্য দক্ষিণ কিউবায় এই অপারেশনেক সংঘটিত করার জন্য কোনও আমেরিকান নয়, নিয়োগ করা হয়েছিল কয়েকজন কিউবার নাগরিককেই৷ কিন্তু কাস্ত্রোর জনপ্রিয়তাই তাঁকে সে বার বাঁচিয়ে দিয়েছিল৷ আকাশপথে হামলা চালিয়েও কোনও লাভ হয়নি আমেরিকার৷ কারণ কিউবার স্থানীয় বাসিন্দারাই কাস্ত্রোর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন৷

তাঁকে হামলার সময়ই নিরাপদে অন্যত্রে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ অপারেশন প্লুটো সাফল্য না পেলেও এর তাৎপর্য এতটাই গভীর যে একে সেরা ১০ কোর্ভাট অপারেশেন তালিকায় রাখা হয়৷ এখানে বলে রাখা ভালো, অপারেশন প্লুটো ফেল হওয়ার জন্য তৎকালীন সিআইএ ডিরেক্টরের চাকরি গিয়েছিল৷

৬. অপারেশন ওয়ার্থ অফ গড

বিশ্বের সেরা কোভার্ট অপারেশনগুলির মধ্যে বহুল আলোচিত৷ ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ এই অপারেশন চালিয়েছিল৷ ১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিক চলাকালীন ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর নামের একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এগারোজন ইজারায়েলের অ্যাথলিটকে অপহরণ করে হত্যা করেছিল৷ এই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য অপারেশন ওয়ার্থ অফ গড প্ল্যান করে মোসাদ৷ জানলে অবাক হবেন এই অপারেশন চলাকালীন সারা ইউরোপ থেকে ওই জঙ্গিদের খুঁজে খুঁজে বার করে হত্যা করেছিল মোসাদের এজেন্টরা৷ আর এক একজনকে মারার কৌশলও ছিল চমকপ্রদ৷ যেমন কোরান শরিফের মধ্যে রাখা হয়েছিল বোমা৷ যা খুলতেই বিস্ফোরণে এক জঙ্গির মৃত্যু হয়েছিল৷ প্রায় ১০ বছর ধরে ১২ জন জঙ্গিকে খুঁজে খুঁজে তাদের মেরেছিল মোসাদ৷ যা গুপ্তচরবৃত্তির ইতিহাসে আজও ‘এপিক’ বলে মনে করা হয়৷

৫. অপারেশন পে ব্যাক

যদিও এটি কোনও দেশের নির্দিষ্ট কোনও সিক্রেট এজেন্সির অপারেশন নয়৷ তবুও যেভাবে সিক্রেট অপারেশনের কায়দায় এই গোটা ব্যাপারটিকে সংঘটিত করা হয়েছিল৷ তা উল্লেখযোগ্য কোভার্ট অপারেশন ছাড়া আর কিছুই বলা যাবে না৷ এটা ছিল সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন আপদকালীন পরিষেবাকে পরপর স্তব্ধ করে দেওয়া৷ গোয়েন্দাদের ভাষায় যাকে বলা হয় ডিওএস অ্যাটাক (ডিনায়াল অফ সার্ভিস)৷ একটি বেনামি সিক্রেট এজেন্সি এই অপারেশন চালিয়েছিল৷

LEAVE A REPLY