সরকার একাই মাঠে : করোনা মোকাবেলায় সবাই এগিয়ে আসুন

0
109

করোনাভাইরাসের প্রবল তান্ডবে সারা দুনিয়া আজ বিপর্যস্ত। আক্রান্তে র সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ লাখ, মারা গেছে দেড় লাখের বেশি মানুষ। বাংলাদেশও সেই তান্ডব থেকে মুক্ত নয়। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের হার, সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। শুধু আক্রান্ত বা মৃত্যুই নয়, অর্থনীতিকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে। শিল্প-কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্রুত বাড়ছে বেকারত্ব। এক যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় তিন কোটি মানুষ বেকার হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পসহ অন্য রপ্তানি খাতগুলোও ধুঁকছে। ক্রমেই কমছে রপ্তানি আয়। বিশ্বমন্দার করালগ্রাস শুরু হয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী বাড়ছে চরম খাদ্যাভাব বা দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, করোনার পাশাপাশি খাদ্যাভাবেও বহু মানুষ মারা যাবে। দেশেও লকডাউনের কারণে উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বহু শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে ছোটখাটো কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, দিনমজুর, হকারসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। পর্যাপ্ত খাদ্য সাহায্য ছাড়া পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁদের বেঁচে থাকাই কঠিন। সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি স্বল্প মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করছে। এক কোটি পরিবার তথা প্রায় পাঁচ কোটি মানুষকে খাদ্য সাহায্যের আওতায় আনার জন্য রেশন কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে সরকার একাই লড়ে যাচ্ছে। এমন জাতীয় দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে এনজিওগুলোর নিষ্ক্রিয়তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ব্যবসায়ীদের বড় বড় সংগঠন, বড় বড় শিল্প গ্রুপের ভূমিকাও অনাকাক্সিক্ষত।
দেশের এই দুর্যোগময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের একার পক্ষে খুবই কঠিন। দেশে কয়েক হাজার এনজিও আছে। কিন্তু ব্র্যাক ও হাতে গোনা কয়েকটি এনজিও ছাড়া কেউই মাঠে নেই। অথচ প্রতিটি এনজিও প্রতিদিন ১০০ পরিবারকে সহায়তা করলে কয়েক লাখ পরিবার উপকৃত হতো। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে দেশে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান আছে ৭৮ লাখ। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে উৎপাদনশীল কারখানার ৩৭ শতাংশ ক্ষুদ্র এবং ১৪ শতাংশ মাঝারি হলেও ৮ শতাংশ বৃহৎ শিল্প, যাদের হাতে রয়েছে মোট পুঁজির একটি বড় অংশ। এ ছাড়া আছে অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, যারা প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা লাভ করছে। তারা যদি এই সময়ে এগিয়ে আসে এবং লভ্যাংশের ৫ শতাংশও দরিদ্রদের জন্য ব্যয় করে, তাহলে বর্তমান দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা মোটেও কঠিন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে তারা তা করছে না। তারা কোনো সহযোগিতা তো করছেই না, বরং সরকারের সঙ্গে আরো বেশি সহযোগিতা পাওয়ার জন্য দেন-দরবার করে যাচ্ছে। আমরা চাই, দেশের চরম দুর্যোগে বর্তমানে সরকারের পাশাপাশি এনজিও এবং বেসরকারি খাতও সমান তালে এগিয়ে আসুক। এগিয়ে আসুক সক্ষম ব্যক্তিরাও।

LEAVE A REPLY