অভিনব পোশাকে ডাকাতদল : জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি

0
68

করোনা পরিস্থিতিতে অভিনব কায়দায় ডাকাতি-তৎপরতা শুরু হয়েছে। মাস্ক-প্লাভস পরে, পিপিই ও র‌্যাব-পুলিশের পোশাক পরে করোনায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে ডাকাতদল বাড়িতে ঢুকে ডাকাতির চেষ্টা করছে। কয়েক জায়গায় এ কায়দায় ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে। এমন ছদ্মবেশে রাজধানী ঢাকার ও টাঙ্গাইল জেলা শহরের কিছু বাড়িতে ডাকাতদলের হানার কথা জানা গেছে। তবে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী ও বাসিন্দাদের সতর্কতার কারণে বেশির ভাগ অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এমন কায়দায় বাসাবাড়িতে ডাকাতি বা ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা উদ্বেগজনক বটে।
জানা যায়, গত ১ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কলেজ গেটে এবং ৫ এপ্রিল খিলগাঁওয়ে মাস্ক পরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ দুটি ঘটনার পর পুলিশ নজরদারি বাড়ায়। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একটি চক্রকে গ্রেপ্তারও করেছে। দলটি ওই দুই ঘটনা ছাড়াও শতাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের একটি বাড়ির গেটে গিয়ে তিন-চার ব্যক্তি নিরাপত্তারক্ষীকে ডাকাডাকি করতে থাকে। নিরাপত্তাকর্মী গিয়ে দেখতে পান কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছে। দুজন মাস্ক ও গ্লাভস পরা এবং দুজন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক পরা। তিনি তাদের পরিচয় জানতে চান। তারা হাসপাতাল থেকে গিয়েছে বলে জানায়। তাদের কাছে তথ্য রয়েছে, ওই ভবনে করোনায় আক্রান্ত রোগী রয়েছে। তাকে নিয়ে যেতে চায় তারা। নিরাপত্তাকর্মী তাদের সকাল পর্যন্ত বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। তখন ওই ব্যক্তিরা তাঁকে ভয় দেখিয়ে গেট খোলার তাগাদা দেয়। গেট না খোলায় নিরাপত্তাকর্মীকে তাঁরা যাচ্ছেতাই ভাষায় গালাগাল দিয়ে চলে যায় এবং শাসিয়ে যায়,সকালে তাঁকে দেখে নেওয়া হবে। অবশ্য পরদিন সকালে আর কেউ ওই বাড়িতে যায়নি। প্রসঙ্গত, বাড়িটিতে কোনো করোনা রোগী নেই। একই রকম ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান-১, গুলশান-২ ও উত্তরায়।
করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ এমনিতেই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যেও রয়েছে। এ অবস্থায় এজাতীয় ঘটনার খবরে তারা আরো বিপন্ন বোধ করবে। তাদের বিপন্নতা দূর করতে হবে। ঘটনাবলি সম্পর্কে জেনে সংশ্লিষ্ট জেলা বা থানার পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে। জনগণকেও পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে বাড়ির বা বাসার গেট না খোলার পরামর্শ দিয়েছে। সন্দেহ হলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে কল করতে বলেছে। কিন্তু এটুকুই যথেষ্ট নয়। এসব দলকে আটক করার জন্য সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে। এই দুর্যোগের সময় মানুষ যাতে আরো বিপন্ন বোধ না করে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

LEAVE A REPLY