বড় সংকট সামনে : খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

0
119

বিশ্বমারি কভিড-১৯ সব দেশকেই বড় সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। একটি হিসাব বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কম-বেশি পাঁচ কোটি। করোনার কারণে নতুন করে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হবে। এর ফলে যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দরিদ্র মানুষের খাদ্য চাহিদা তৈরি হবে, তা কিভাবে পূরণ করা হবে,এই চ্যালেঞ্জ আসবে সরকারের সামনে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সোমবার গণভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আটটি জেলার জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে করোনাভাইরাসজনিত মহামারির কারণে সারা বিশ্বে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশে খাদ্যসংকট হবে না। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে চলতি মৌসুমে ২১ লাখ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলন হতে চলেছে। ধান কাটা শুরু হয়েছে। সরকার ২০ লাখ টনের বেশি নিজেই কিনে মজুদ করবে আপৎকালে সরবরাহ করার জন্য। খাদ্যসংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা অন্যখানে। তাঁরা বলছেন, করোনার কারণে যারা দরিদ্র ও কর্মহীন হবে, তাদের অনেকের কেনার সামর্থ্য থাকবে না। এমনিতেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় চলমান সাধারণ ছুটির জেরে সৃষ্ট অচলাবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। ফলে খাদ্যের সরবরাহ থাকলেও তা কাজে আসবে না। এ সময় দরিদ্রদের জন্য খাদ্য সহায়তা নিরবচ্ছিন্ন রাখাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবার এরই মধ্যে সরবরাহব্যবস্থায় কিছুটা হলেও বিঘ্ন ঘটতে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারেও। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে ৩৫টি নিত্যপণ্য ভোক্তাকে কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। রমজানে বেশি ব্যবহৃত পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বিক্রয়কেন্দ্রে দিন দিন ভিড় বাড়ছে। অন্যদিকে টিসিবির ন্যায্য মূল্যের পণ্য কালোবাজারে পাচার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। দেশ যখন সংকটকাল পার করছে, তখন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী, ডিলার ও টিসিবির কর্মকর্তার যোগসাজশে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খোলাবাজারে বিক্রি করতে বরাদ্দ পণ্য কালোবাজারে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে। মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার সফল হবে,এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

LEAVE A REPLY