অবসরে পাকিস্তানের নারী ক্রিকেটের মুখ

0
35

ক্রীড়া ডেস্ক : নতুন সহস্রাব্দের প্রথম দিকেও পাকিস্তানে উন্মুক্ত মাঠে মেয়েদের খেলাধুলা ছিল নিষিদ্ধ। এমন রক্ষণশীল পরিবেশে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন সানা মির। ২০০৫ সালে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক। আর গতকাল যখন তিনি ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন, তার পেছনে ১৫ বছরের উজ্জ্বল এক ক্যারিয়ার এবং সেজন্য পাচ্ছেন একজন নারীযোদ্ধার স্বীকৃতি।
পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সানা মির শনিবার অবসর ঘোষণা করলেন ৩৪ বছর বয়সে। পাকিস্তানকে দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও পাঁচটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়া সানা ২২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। স্পিনিং অলরাউন্ডার সানা বিশ্বের ৯ জন নারী ক্রিকেটারের একজন যাদের ১০০০ রানের পাশাপাশি আছে ১০০ উইকেট। ২০১৮ সালে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা সানা অধিনায়ক হিসেবে ২০১০ ও ২০১৪ এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সোনা জিতিয়েছেন পাকিস্তানকে।
গত অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাকিস্তান দল থেকে সানাকে বাদ দেন নির্বাচকেরা। তখনই যেন ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল ক্যারিয়ারের একেবারে প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন। আর শনিবারই তিনি অবসরের ঘোষণায় বলে দিলেন, ‘জীবনের এগিয়ে চলার এটাই সঠিক সময়। আমার বিশ্বাস, আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়েই আমি দেশের ও ক্রিকেটের সেবা করেছি ‘
নারীদের ক্রিকেট এখনও উজ্জ্বল আলোর বৃত্তে ঢুকতে পারেনি, যে আলোয় ঝলমল করে পুরুষদের ক্রিকেট। তাই পাকিস্তানের ক্রিকেট কিংবদন্তি বললে প্রথমটায় ভেসে উঠবে ইমরান খান, জাভেদ মিয়াঁদাদ কিংবা ওয়াসিম আকরামদের মুখ। কিন্তু উত্তর প্রজন্মের কাছে সানা মিরও পাকিস্তানের এক ক্রিকেট কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম খান এক বিবৃতিতে সেই স্বীকৃতিই তাকে দিয়েছেন, ‘মির (সানা) বহু বছর ধরে পাকিস্তান ক্রিকেটের মুখ এবং তরুণ নারী ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণার সত্যিকারের এক উৎস হয়ে থাকবেন। নিজের প্রতিজ্ঞা ও ভালোবাসা দিয়ে মির দেশের নারী ক্রিকেটের কাচের ছাদটা ভেঙে এগিয়ে গেছেন। নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি যে শুধু দেশের ক্রিকেটের মান বাড়িয়েছেন তাই নয়, বহির্বিশ্বে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিও বাড়িয়েছেন।’

LEAVE A REPLY