এক্সট্র্যাকশন : জন কবির বনাম ব্যাচেলর পয়েন্ট তর্কযুদ্ধ

0
44

বিনোদন ডেস্ক : ২৪ এপ্রিল ভিডিও স্ট্রিমিং ওয়েবসাইট নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে হলিউডের চলচ্চিত্র ‘এক্সট্র্যাকশন।’ ঢাকার ওপর নির্মিত এই চলচ্চিত্রটির নাম প্রথমে ঢাকা-ই ছিল। পরে নাম বদলে করা হয় ‘এক্সট্র্যাকশন।’ এছাড়া ছবির শুটিং লোকেশনও বদলে ফেলা হয়। ভারতের মুম্বাই, আহমেদাবাদ ও থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ঢাকার সেট বানিয়ে শুটিং করা হয় সেখানেই। সাথে জুড়ে দেওয়া হয় ভিএফএক্স-এর কারিকুরি।

বাংলাদেশের রাজধানীর মতোই বাংলায় লেখা সাইনবোর্ড, অটোরিকশা আর রিকশা, রাস্তা সাজিয়ে বানানো হয়েছে কৃত্রিম ঢাকা। ছবির ক্যামেরা অপারেটর মার্ক গোলনিশ ঢাকা ছবির শুটিং সেট থেকে তাঁর ইনস্টাগ্রামে বাংলায় লেখা সবুজরঙা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ছবি পোস্ট করেছিলেন। তাতে স্থান হিসেবে উল্লেখ ছিল ব্যাংককের কথা।

অন্যদিকে ভারতে নিজেদের অবস্থানের কথা প্রকাশ করে ছবির পরিচালক স্যাম হারগ্রেভ সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম পাতায় পোস্ট করেছেন ঢাকা ছবির ফাইট কো–অর্ডিনেটর জন উকিমের একটি স্থিরচিত্র। তাতে দেখা যায়, জন পরে আছেন বাংলায় ‘এলিট’ লেখা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‌্যাবের পোশাকসদৃশ পোশাক। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন হলিউড সুপারহিরো ক্রিস হেমসওর্থ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল তর্ক যুদ্ধ। এই তর্কযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন তারকারাও। অভিনেতা ও গায়ক জন কবির নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ইধপযবষড়ৎ চড়রহঃ দেখা জাতি যখন ঊীঃৎধপঃরড়হ ভালো হয় নাই বলে ংঃধঃঁং দেয়…’ আর এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে যায় তর্কযুদ্ধ। ব্যাচেলর পয়েন্ট ওয়েবসিরিজটি বেশ জনপ্রিয়। সিরিজের পাশা চরিত্রে অভিনয় করেছেন মারজুক রাসেল। তিনি স্ক্রিনশটটি শেয়ার করে কবি আব্দুল হাকিমের একটি কবিতার উদ্ধৃতি দিয়েছেন , ‘যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।’

জন কবিরের পোস্টে গিয়ে অভিনেতা সিয়াম নাসির লিখেছেন, ‘ভাইজান এইটা ভুল বললেন, এই সিরিয়ালটা সাধারণ মানুষ দেখে এবং জনপ্রিয় একটা নাটক। এর মানে তা না এইটা নিয়ে মজা করতে হবে। ভাই আপনি প্রিয় মানুষ বেয়াদবি হলে মাফ করবেন অন্য কিছু দিয়ে এক্সাম্পল দিতে পারতেন। নিজের দেশের নিজের নাটক দিয়ে নয়।’

ব্যাচেলর পয়েন্টের নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি বলেন, বাংলাদেশে আমরা যারা মিডিয়াতে কাজ করি, সিনেমা বানানো, নাটক নির্মাণ, গান, অভিনয় কিংবা অন্য যেকোনো কাজ। আমরা অনেক কষ্ট করে ভালবেসে, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে দিয়ে করি যেটা অবশ্যই দর্শক এবং জন ভাই নিজেও জানেন। বাংলাদেশে বহু আলোচিত, সমালোচিত নাটক, সিনেমা তৈরি হয়েছে সামনেও হবে। মতের মিল অমিল থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি যদি মনে করি আমার মতের সাথে যাদের মিল আছে তারাই শুধুমাত্র স্মার্ট আর বাকিরা ক্ষ্যাত তাহলে নিজেকে অতিরিক্ত বুদ্ধিমান ভাবা হবে।

সিরিজের অভিনেতা শামীম হাআন সরকার জন কবিরকে মেয়াদোত্তীর্ণ উল্লেখ করে বলছেন, ‘আপনি সত্যিই দারুণ কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ জনাব জন ভাই..!’

পলাশ লিখেছেন, ‘জন কবির ভাই, আপনার এই ফ্রাসট্রেটেড স্ট্যাটাস দেখে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের নাটক নিয়ে আপনি হতাশায় ভুগছেন। আপনি বাংলাদেশের একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তি হয়ে বাংলাদেশের কনটেন্টকেই ক্ষ্যাত বানিয়ে ফেল্লেন! আপনি নিজেও তো একজন অভিনেতা। বাংলাদেশের নাটকেই তো আপনি একটিং করেন। তাই নাহ? তাহলে “এক্সট্রাকশন” ভালো কিংবা খারাপ সেই মুল্যায়ন করতে গিয়ে আপনি আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় ( দর্শক জরিপে) সিরিজকে অবমুল্যায়ন করতে পারেন না৷ যারা “ব্যাচেলর পয়েন্ট” দেখে তারা সবাই কি ক্ষ্যাত? মনে রাখবেন ভাইয়া, যে জাতি “ব্যাচেলর পয়েন্ট” দেখে সেই জাতিই কিন্তু আপনাকে জন কবির বানাইছে৷’

জন কবিরকে সমর্থন জানিয়ে একজন বলছেন, এগুলাই আবার মন বসেনা পড়ার টেবিলে, অস্ত্র ছাড় কলম ধর, বউ বড় না মা বড় ছবি দেইখা হাত তালি দেয়!
আবার উড়থা পাঞ্জাব, গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর দেইখা ক্রিটিক করে! অদ্ভুত। এদের আংশিক আবার বাহুবলী ফ্যান!

আরেকজন ভক্ত বলছেন, ‘জন কবির ব্ল্যাকের ভোকাল ছিল। ব্ল্যাক কি লেভেলের জনপ্রিয় ব্যান্ড ছিলো তা সম্পর্কে আর না-ই বলি। অন্তত, তিনি জনপ্রিয়তার জন্য এই পোস্ট দেন নি। তবে আমি ব্যাচেলর পয়েন্ট দেখি না। কিন্তু, এক্সট্রাকশান দেখে আমি বিরক্ত।’

LEAVE A REPLY