বিষাক্ত মদে যশোর শহরে আরো দুইজনের মৃত্যু : মদ বিক্রেতা হাসান আটক

0
46

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোরে বিষাক্ত মদপানে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই দুইজনই শহরের বাসিন্দা। হাসপাতাল থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, ভেজাল ও বিষাক্ত মদ বিক্রিতে অভিযুক্ত হাসানের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটিতে মদ খাইয়ে মানুষ হত্যা, আর দুটি অবৈধ মদ বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে।
বহুল আলোচিত এই হাসানের দোকানের বিষাক্ত বা ভেজাল মদপানে এই পর্যন্ত জনাদশেকের মৃত্যু হয়েছে বলে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে যশোর শহর, শহরতলি ছাড়াও চৌগাছা ও মণিরামপুরের বাসিন্দারা রয়েছেন। ইতিমধ্যে আটক হাসানের দোকানে তল্লাশি করে সেখান থেকে মদের স্যাম্পল উদ্ধার করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভেজাল বা বিষাক্ত মদপানে নতুন করে যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, তারা শহরের রেলগেট চোরমারা দীঘির পাড় ও বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মৃতদের মধ্যে একজন বিকাশ সাহানি (৩৮); অন্যজন ওজিয়ার ওরফে ওলিয়ার। বিকাশ শহরের বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার দামোদর সাহানির ছেলে। আর ওলিয়ার শহরের রেলগেট চোরমারা দীঘির পাড়ের মৃত কুরবান গাজীর ছেলে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ব্রাদার মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, গতকাল সকাল দশটা আট মিনিটে বমি, মাথা ঘোরাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ওলিয়ার। আসলে তিনি অ্যালকোহল পয়জনিংয়ের শিকার। জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওলিয়ারকে মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন কর্তব্যরত ডাক্তার। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে রিপোর্ট আসার পরে জরুরি বিভাগের খাতায় তথ্য সংশোধন করে ‘অ্যালকোহল পয়জনিং’ লেখা হয় বলেও জানান এই ব্রাদার।
হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ডাক্তার রুবেল হাওলাদার বলেন, ‘বিকাশ সাহানি রাত দুইটা ২৫ মিনিটে শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি হতে আসে। তখন আমার সন্দেহ হয়েছিল। রোগীর কেস হিস্ট্রি জেনে চিকিৎসা দেওয়ার স্বার্থে বিকাশের পরিবারের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তারা জানায়, সে মদ খেয়েছে। ভোর চারটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাশ মারা যায়।’
পান করা অ্যালকোহলে পয়জন থাকার কারণে বিকাশের মৃত্যু হয় বলে মনে করছেন ডাক্তার রুবেল।
বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রতিবেদক টিবি ক্লিনিক এলাকায় বিকাশের বাড়িতে যান। কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা এ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। তারা বিষয়টি নিয়ে ‘খোঁচাখুঁচি’ না করার অনুরোধ করেন।
তবে সেখানে উপস্থিত এলাকার একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেন, বিষাক্ত মদপানেই বিকাশের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল দুইজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আগে থেকেই পুলিশ বিষয়টি গভিরভাবে খতিয়ে দেখছে।
এদিকে, বহুল আলোচিত ভেজাল ও বিষাক্ত মদের কারবারি মাহমুদুল হাসান ওরফে হাসানের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মোট পাঁচটি মামলা (নম্বর ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬ ও ৫০, তারিখ ২৫.৪.২০) হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় মদ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অন্য দুটি মামলায় অবৈধভাবে মদ বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, একটি মামলার বাদী যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুর বালিয়াডাঙ্গা এলাকার মৃত ফজলুর রহমান চুটকির স্ত্রী সাথী বেগম (৪০)। এই চুটকি ভেজাল বা বিষাক্ত মদপানে মারা গেছেন বলে এই সংক্রান্ত প্রথম রিপোর্টে উল্লেখ করে। অন্য দুটি মাদক মামলার বাদী থানার এসআই কাইয়ুম মুন্সি ও এসআই হারুনার রশিদ।
কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসনিম আলম মদের কারবারি হাসানের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এর মধ্যে তিনটি হত্যার, দুটি মাদকের।
থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, হাসানকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
মাহমুদুল হাসান ওরফে হাসান যশোর শহরের নিরালাপট্টি এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মদের কারবার করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। শহরের কেন্দ্রস্থলে কোতয়ালী থানা ও মাড়োয়ারি মন্দির-সংলগ্ন পতিতালয়ের গা-ঘেঁষে তার দোকান। অভিযোগ আছে, হাসানসহ বেশ কয়েক ব্যক্তি ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে মদ বেচা-কেনা করলেও কর্তৃপক্ষ দেখেও দেখে না। ওপেন সিক্রেট এই কারবার নাকি কর্তৃপক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করেই চালানো হয়।

LEAVE A REPLY