করোনা সংক্রমণ রোধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে উপশহর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশরা

439

এস শামছুদ্দীন জ্যোতি : সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশও করোনার ভয়াল থাবার শিকার হয়েছে। বর্তমানে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। ঢাকা-চট্টগ্রামের পর খুলনা বিভাগের যশোর জেলা বর্তমানে করোনা সংক্রমণের হটস্পট হয়ে উঠছে। এ জেলায় প্রায় ৫০ জন রোগী সনাক্ত হয়েছে। দিনি দিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় করোনা সংক্রমণ বিস্তার রোধে কাজ করে চলেছেন নিরলসভাবে। কাজ করছে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনায় সকল বাহিনীর পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে গ্রাম পুলিশের সদস্যরাও।
যশোর সদর উপজেলার ৫ নং উপশহর ইউনিয়নের ১০ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য বাদল, ঝন্টু, জাভেদ, জামির, মোজাম, রহমান, শহিদুল, তাহের, রুবেল ও রেজাউল দিন রাত এক করে খেটে চলেছেন উপশহর ইউনিয়নকে করোনা আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে। 

চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু । ছবি : ইমন হোসেন

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ সকল গ্রাম পুলিশ সদস্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দিন রাত ২৪ ঘন্টা কাজ করে চলেছেন। উপশহর এলাকাজুড়ে জনসচেতনায় করছেন মাইকিং। এলাকায় বহিরাগতদের ঠেকাতে দিচ্ছেন কড়া প্রহরা। এলাকায় যাতে কোনরকম হকার বা সব্জি এবং মাছওয়ালা প্রবেশ করতে না পারে সেদিকেও থাকছে তাদের কড়া নজরদারি। উপশহর এলাকায় বিদেশ থাকা আসা ব্যক্তিসহ ঝুকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বাড়িতে কোয়ারিন্টাইনের জন্য প্রশাসনের নির্দেশে ওড়াচ্ছেন লাল পতাকা। একই সাথে ওই সকল বাড়ির সদস্যদের জন্য চেয়ারম্যান লিটুর উদ্যোগে করছেন বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা। আক্রান্ত রোগীর বাড়িতে নিয়মিত তদারকি করাসহ সকল প্রকার সুবিধাদি প্রদানের জন্য থাকছেন সদা প্রস্তুত। নিয়মিত আক্রান্তের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন খাবারসহ অন্যান্য সামগ্রি।

প্রতিনিয়ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোজ খবর ও খাবার পৌছে দিচ্ছে ঔ এলাকার গ্রাম পুলিশ। ছবি : ইমন হোসেন

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এই সকল গ্রাম পুলিশ সদস্য দিন রাত এলাকাবাসীকে রক্ষায় কাজ করে গেলেও তাদের নিজেদের রক্ষায় নেই সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা। মুখে মাস্ক পরে বা হাতে বাজার থেকে কেনা মানহীন গ্লোভস পরে তারা কাজ করে চলেছেন। আক্ষেপের সাথে তারা বলেন, আমাদের এলাকায় আক্রান্ত রোগী আছেন, আছেন কোয়ারিন্টাইনে থাকা ব্যক্তিরাও। একই সাথে মাছ বাজার, তরকারি বাজারসহ রয়েছে বহিরাগত প্রবেশের সুযোগ। এই সকল কিছু থেকে এলাকাকে রক্ষা করতে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু সাহেব আমাদের পাশে থাকছেন অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন তাই কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে না। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি তো থেকেই যাচ্ছে তাই না। কারণ আমাদেরকে রোগীর বাড়ি যেতে হচ্ছে, কোয়ারিন্টাইনে থাকা ব্যক্তির বাড়িতে যেতে হচ্ছে। কোথাও থেকে কিছু হয়ে গেলে তো বিপদে পড়ব আমরা। বিপদে পড়বে আমাদের পরিবারের সদস্যরা। তারপরও চেয়ারম্যান লিটু ভাইয়ের অনুপ্রেরণা এবং স্থানীয়দের ভালবাসা থেকে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলেছি। তাই আমাদের নিরাপত্তা জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন এই সকল গ্রাম পুলিশের সদস্যরা।

Previous articleকয়রায় সাংবাদিককে বনদস্যুদের হুমকি
Next article২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ৬৪১, আরও ৮ জনের মৃত্যু

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here