রমজানুল মোবারক

0
22

মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান আফসারী
আজকে যে সারা দেশে সুদ-ঘুস ও দূর্নীতির বিরু দ্ধে জিহাদ শুরুহয়েছে,সেটা সবচেয়ে সর্বাতœকভাবে সফল করতে পারে রোজাদারগন। কেননা রোজাদারগন জানেন যে, আল্লাহর ভয় অর্জনই রোজার আসলকথা।তবে রোজা পালন যে শুধু পানাহার ত্যাগ করা নয় তা আসলে কিছু রোজাদার যেন বুঝতেই চাই না। তারা মনে করে শুধু খাদ্যও পানীয় ত্যাগ করার নামই রোজা।কিšু আল্লাহর রাসুলের সেই সাবধান বাণী আমাদের মনে থাকে না। আল্লাহর রাসুলের সেই বাণী আমাদের বেশী করে মনে রাখতে হবে তা হলো,‘অনেক রোজাদার আছে যার খাদ্য ও পানীয় ত্যাগ শুধু উপোষ করা হয় কিন্তু রোজা হয় না। হযরত কা’ব ইবনে উজরাহ (রা:) হতে বর্ণিত আছে,একদা মহানবী (স:) বললেন,তোমারা মিম্বরের কাছে এস্ োআমরা হাযির হলাম । অতপর রাসুল (স:) মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে আরোহন করলেন,এবং বললেন আমীন! এরপর দ্বিতীয় সিঁড়িতে আরোহন করে বললেন আমীন! আবার তিনি তৃতীয় সিঁড়িতে আরোহন করে বললেন,আমীন! খুতবা শেষে রাসুলুল্লাহ নেমে আসলে আমরা আরজ করলাম ইয়া রাসুলুল্লাহ আমরা আপনার কাছ থেকে এমন খুতবা তো ইতোপূর্বে আর শুনিনি। তখন রাসুল (স:) বলেন, এইমাত্র জীব্রাঈল (আ:) এসেছেন। আমি যখন মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে আরোহন করি তখন ুতিনি বললেন ধংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমজান মাসের মত একটি মাস পেল অথচ সে নিজের গোনাহ আল্লাহর কাছ মাফ করিয়ে নিতে পারলো না।হযরত জীব্রাঈল (আ:) এর উক্ত ঘোষনার সাথে একমত হয়ে আমি বললাম আমীন! অত্র হাদিসে বোঝা যাচ্ছে যে ,আল্লাহর দেয়া মহান নেয়ামত হলো এই রোজা । আর এ রোজার আসল উদ্দেশ্যেই হলো আল্লাহর বান্দার নেক আমল বৃদ্ধি করা এবং গোনাহ মাফ করিয়ে নেয়া। আজ আমরা নিজেদেরকে নিজেরাই প্রশ্ন করে দেখবো যে, আসলে কি আমরা আমাদের গোনাহ আল্লাহর কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে পেরেছি? গোনাহ মাফ হয়ে যাবে এমন রোজা আমি কি আদায় করতে পারছি? আর এ জন্য আজকের দিনে আর একটি কাজ আমাদের করতে হবে তা হলো আল্লাহর কাছে রোজার নানাবিধ ত্র“টি-বিচ্যুতির জন্য বেশীবেশী পরিমান তওবা বা ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। আর যদি আমরা রোজার মাধ্যমে আল্লাহর ভয় আমাদের মনে-প্রানে যথার্থ ভাবে প্রবেশ করাতে পারি তবেই রোজার মাধ্যমে আল্লাহর আসল উদ্দেশ্য বা মিশন সফল হল। আর আমরা সকলেই জানি যদি কোন ব্যক্তির মনে আল্লাহর ভয় সর্বদা জাগ্রত থাকে তবে ঐ ব্যক্তির দ্বারা গভীর অন্ধকার রাতেও একটা অন্যয় বা পাপকর্ম করা সম্ভব হবে না কেননা উক্ত আল্লাহভীরুব্যক্তি খুব ভালো ভাবেই জানবে যে, এই গভীর অন্ধকারে আমার এ ঘুস-দূপাপ কর্মটি দুনিয়ার অন্য কেউ না দেখলে ও মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন অবশ্যই দেখছেন। রোজার পরিপূর্ণতা লাভ করতে হলে রোজাদারকে ত্যাগের অনূশীলন করতে হবে।নিজেকে এবং নিজের সব অঙ্গ-প্রতঙ্গকেও সব ধরনের গোনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমাদের অঙ্গ-প্রতঙ্গেরও রোজা পালন করতে হবে। আর একজন রোজাদারকে তার অঙ্গ-প্রতঙ্গের রোজাও পালন করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো অঙ্গ-প্রতঙ্গের রোজ আবার কি? অঙ্গ-প্রতঙ্গের রোজর অর্থ হলো রোজা অবস্থায় কোন ভাবেই রোজার নিষিদ্ধ কাজ গুলো আমাদের কোন অঙ্গ দ্বারা করা যাবে না। চোখের রোজা হলো চোখদ্বারা আল্লাহর নিদের্শের বাইরে র কোন কিছু দেখা যাবে না।কানের রোজা হলো কান দ্বারা কোন হারাম গান-বাজনা শোনা যাবেনা। জ্বিহবার রোজা হরো জ্বিহবা দিয়ে এমন কোন কথা বলা যাবেনা যা আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন না অর্থাৎ কারো গীবত করা যাবে না, গালমন্দ করা যাবে না,মিথ্যা বলা যাবেনা এবং বেহুদা বা অপ্রয়োজনীয় কথা বলা যাবে না।

LEAVE A REPLY