নড়াইলে চিকিৎসকসহ ১০ জন করোনাভোইরাস থেকে মুক্ত

67

# করোনা উপসর্গ নিয়ে কালিয়ায় একজনের মৃত্যু

লোহাগড়া (নড়াইল) পৌর প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪ চিকিৎসক, মাও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের দুই চিকিৎসক এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ডিসি সিএসহ ১০ জন করোনা মুক্ত হয়েছেন। দুই দফা পরীক্ষায় এদের শরীরে করোনা উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল মোমেন।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১০ মে) পর্যন্ত পেন্ডিং থাকা ৭০টি নমুনার ৪৯টি নমুনার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ থাকা নড়াইল সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ তিনজন চিকিৎসক, লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনজন চিকিৎসক, একজন প্যারামেডিক্যাল চিকিৎসক ও একজন ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট এবং নড়াইলের জেলা প্রশাসকের গোপনীয় সহকারীসহ ১০ জনের করোনার রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া গেছে।

গত ২২ এপ্রিল লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেকের ৩ জন চিকিৎসসহ ৫ জন, ২৫ এপ্রিল নড়াইল সদরের ৩ চিকিৎসক এর করোনা পজিটিভ আসে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ল্যাবে এই পরীক্ষার পর ২ মে এবং সর্বশেষ ৯ মে পুনরায় নমুনা পাঠানো হলে ১০ মে প্রত্যেকের করোনা নেগেটিভ আসে। এই পরীক্ষার পরে জেলায় ১৩ জন করোনা পজিটিভ এর মধ্যে ১০ জনই করোনা মুক্ত হলেন। লোহগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ হাসপাতালের সহকর্মীরা।

নড়াইল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল মান্নান বলেন, যশোর থেকে প্রথম টেস্টে কভিড পজিটিভ আসায় খুব ভেঙে পড়েছিলাম। আমার তেমন উপসর্গ ছিল না। একটু কাশি ছিল। তারপরও সাবধানে থেকেছি, গরম পানিসহ সব নিয়ম মেনেছি। পরবর্তী দুটি টেস্টে নেগেটিভ আসায় এখন করোনা আতঙ্ক দূর হলো।

সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল মোমেন জানান, রবিবার (১০ মে) পর্যন্ত পেন্ডিং থাকা ৭০টি নমুনার ৪৯টি নমুনার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত ৭ চিকিৎসক নড়াইলের জেলা প্রশাসকের গোপনীয় সহকারিসহ ১ জনের করোনার রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া গেছে। বাকি তিনজনের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে আপাতত নড়াইল জেলা করোনা মুক্ত হবে।

এদিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে কালিয়ায় একজন মারা গেছেন। ঢাকা থেকে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের বাড়িতে ফেরার দুদিন পর বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী (৫০) নামে একব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে তিনি মারা যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলের বড়দিয়া গ্রামের নির্মল রায় চৌধুরীর ছেলে বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরি করতেন। তিনি কাশিতে আক্রান্ত হয়ে দুদিন আগে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আলাদা ভাবে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয় তাকে। শনিবার রাতে তিনি মারা যান। রবিবার সকালে বাড়ির লোকজন তার মৃত্যুর বিষয়টি টের পান।

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুদা বলেন, মৃত বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরীর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সৎকারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY