রমজানুল মোবারক

0
60

মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান আফসারী
পবিত্র মাহে রমজান কে আল্লাহ পাক তিনটি পর্বে ভাগ করেছেন।এর প্রথম ভাগ রহমত আর দ্বিতীয় ভাগ মাগফিরাত এবং শেষ ভাগ হচ্ছে নাজাত বা জাহান্নাম থেকে মুক্তি। পবিত্র রমজানের আসল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া বা খোদাভীরুলোক তৈরী করা । এবং এটাই আল্লাহর একমাত্র লক্ষ্য। আল্লাহ রব্বুল আলামিন কুরআনে রমজানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এরশাদ করেন, ইয়া আয়্যুহাল্লালিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন কবলিকুম লায়্ল্লাাকুম তাত্তাকুন। অর্থাৎ ‘হে ঈমানদার বান্দারা ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে,যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ,যেন তোমরা তাকওয়া বা খোদাভিরু তা অর্জন করতে পার। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, আল্লাহ তায়ালার দেয়া রোজার আসল উদ্দেশ্যই হচ্ছে খোদাভিরু তা অর্জনের এক মিশন। আর এ মিশন সফল হবে যদি আমরা রোজার প্রকৃত হক আদায় করে রোজা পালন করতে পারি। আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার উপর সর্বদা হাজারো রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। আমরা আল্লাহর রহমতের বাইরে একটা মুহুর্ত ও থাকতে পারিনা। এমনকি মুসলমান ছাড়াও অন্যন্য সকল জাতি এমনকি পৃথিবীর এমন একটা প্রাণীও নেই যে আল্লহর রহমতের গন্ডির বাইরে আছে। অর্থাৎ সকল কিছু আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভরশীল। আল্লাহর রহমতের বর্নণা দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,আমি আমার রহমতের এক’শ ভাগের একভাগ মানুষ সহ পৃথিবীর সকল প্রাণীকে ভাগ করে দিয়েছি আর বাকি নিরানব্বই ভাগ রহমতই আমি আল্লাহ আমার কুদরতে রেখে দিয়েছি। আর পবিত্র রমজানেই আল্লাহর রহমতের মহিমা সবচেয়ে বেশী পরিমান বর্ষণ হয়ে থাকে। এবং পবিত্র কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীর মানুষদের জন্য এমনি একটি শাšি ও রহমতের গ্রন্থ যার যথার্থ অনুস্বরণ আজো এই অশাš পৃথিবীতে শাšি নিশ্চিত করতে পারে। আর আমাদেরকেও মাহে রমজানের রহমত বরকত ও মাগফিরাত পাওয়ার জন্য পরিকল্পনা করতে হবে যে, কুরআন নাজিলের মাসে কুরআন পড়ব,বুঝব এবং কুরআনের আলোকে আমরা আমাদের ব্যক্তি,সমাজ ও পরিবার গঠন করব। আর এ জন্য রমজান মাস আসলে প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানকে আল্লাহর এ ফরজ ইবাদত পালন করতে হবে। তবে আল্লাহপাক এরশাদ করেন, “ লা ইয়ুকাল্লি ফুলল্লাহু নাফছান ইল্লা উসআহা ” অর্থাৎ আল্লাহ কোন জাতি বা ব্যক্তির উপর এমন কোন বোঝা চাপিয়ে দেন না, যা উক্ত ব্যক্তি বহন করতে না পারে। এজন্য রমজান মাস আসলেও যারা রোগাগ্রস্ত ব্যক্তি, সফরে থাকা ব্যক্তি, দুগ্ধপোষ্য শিশুর মা, বার্ধক্যগ্রস্ত দূর্বল ব্যক্তি এবং আল্লাহর পথে জিহাদে বা যুদ্ধে থাকা ব্যক্তির জন্য আল্লাহ পাক অবকাশ দিয়েছেন যে, তারা রমজান পরবর্তী সুবিধামত সময়ে রোজা পালন করতে পারবে। আর যদি বার্ধক্যগ্রস্ত দূর্বল ব্যক্তির পক্ষে কোন ভাবেই রোজা পালন করা সম্ভব না হয় তবে উক্ত ব্যক্তি রোজার কাফফারা হিসেবে একজন গরীবকে রোজার মাস ব্যাপি আহারের ব্যবস্থা করবে।

LEAVE A REPLY