রমজানুল মোবারক

0
52

মুহাদ্দিস শাফিউর রহমান আফসারী
পবিত্র রমজানের আসল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া বা খোদাভীরুলোক তৈরী করা । এবং এটাই আল্লাহর একমাত্র লক্ষ্য। আল্লাহ রব্বুল আলামিন কুরআনে রমজানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এরশাদ করেন, ইয়া আয়্যুহাল্লালিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন কবলিকুম লায়্ল্লাাকুম তাত্তাকুন। অর্থাৎ ‘হে ঈমানদার বান্দারা ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে,যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ,যেন তোমরা তাকওয়া বা খোদাভিরু তা অর্জন করতে পার। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত রহমত রোজার আসল উদ্দেশ্যই হচ্ছে খোদাভিরু তা অর্জনের এক মিশন। আর যদি আমরা রোজার মাধ্যমে আল্লাহর ভয় আমাদের মনে-প্রানে যথার্থ ভাবে প্রবেশ করাতে পারি, তবেই রোজার মাধ্যমে আল্লাহর আসল উদ্দেশ্য বা মিশন সফল হল। রোজার মিশন হলো তাকওয়া, আর তাকওয়া হলো আল্লাহর ভয় এবং ভালোবাসার অনূভুতি। আলাহ তায়ালার প্রতি ঈমান আর তার সিমাহীন অনুগ্রহের অনুভূতি থেকে তার প্রতি আমাদের ভালবাসা তৈরি হয়। আর তাঁর অনান্য গুনাবলী রাগ-ক্ষোভ শাস্তি দানের ক্ষমতার ধারণা বিশ্বাস থেকে আল্লাহর প্রতি ভয়ের সৃষ্টি হয়। আর এ ভালবাসা আর ভয়ের মানসিক অবস্থার নাম তাকওয়া। আর তাকওয়া সকল ভাল কাজের উৎস এবং মন্দ কাজ থেকে বেচে থাকার উপায়। এ জন্যই পবিত্র কুরআনের একেবারে প্রথম দিকে সুরা বাকারায় এরশাদ হচ্ছে , এ কিতাব অর্থাৎ কুরআন থেকে তাকওয়া অর্জনকারী মুত্তাকিগনই হেদায়েত লাভ করেতে পারবে। আর এ মিশন সফল হবে যদি আমরা রোজার প্রকৃত হক আদায় করে রোজা পালন করতে পারি। আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার উপর সর্বদা হাজারো রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। আমরা আল্লাহর রহমতের বাইরে একটা মুহুর্ত ও থাকতে পারিনা। এমনকি মুসলমান ছাড়াও অন্যন্য সকল জাতি এমনকি পৃথিবীর এমন একটা প্রাণীও নেই যে আল্লহর রহমতের গন্ডির বাইরে আছে। অর্থাৎ সকল কিছু আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভরশীল। আল্লাহর রহমতের বর্নণা দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,আমি আমার রহমতের এক’শ ভাগের একভাগ মানুষ সহ পৃথিবীর সকল প্রাণীকে ভাগ করে দিয়েছি আর বাকি নিরানব্বই ভাগ রহমতই আমি আল্লাহ আমার কুদরতে রেখে দিয়েছি। আর পবিত্র রমজানেই আল্লাহর রহমতের মহিমা সবচেয়ে বেশী পরিমান বর্ষণ হয়ে থাকে। আল্লাহর মহিমা আমরা রোজা রেখে দুনিয়ায় যেমন পেতে থাকব তেমনিভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে চির কল্যানের জান্নাতি মহিমা আমরা পাব আখেরাতে। আল্লাহর রাসুলের একটি হাদিস তুলে ধরছি, হযরত সাহল ইবনে সায়াদ (রা:) হতে বর্নিত আছে ,তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স:)এরশাদ করেন,বেহেস্তের আটটি দরজা আছে। তার মধ্যে একটি দরজার নাম হলো রাইয়্যান। আর উক্ত দরজা দিয়ে শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করতে পারবে। (বুখারী-মুসলীম)।পবিত্র রমজান আমাদের মাঝে আসলে সমাজ জীবনেও একটা পবিত্রতার ছোয়া দেখা যায়। মাহে রমজান আসলে আমরা আল্লাহর ইবাদতে বেশী করে মাশগুল থাকি এবং আল্লাহর ভয়ে সকল প্রকার গোনাহ থেকে আমরা যথাসাধ্য বিরত থাকি। আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে রোজা আমাদের জন্য একটা মহা নেয়ামত। আর আল্লাহর দেয়া এই মহা নেয়ামতকে আমাদের অবশ্যই এই মাহে রমজানে কাজে লাগাতে হবে।

LEAVE A REPLY