মাশরাফির এই ব্যাটিং রেকর্ডটি এখনও অক্ষত

0
36

ক্রীড়া ডেস্ক : দেশের সফলতম সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে একটা আফসোস আছে। পায়ে ৭ বার অস্ত্রপচার না হলে বাংলাদেশ হয়তো একজন দুধর্ষ পেস বোলিং অল-রাউন্ডার পেতে পারত। মাশরাফি হতে পারতেন কপিল দেব কিংবা জ্যাক ক্যালিসের মতো কেউ। ২০০৭ সালের ১২ মে মিরপুর স্টেডিয়ামে ভারত বনাম বাংলাদেশের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সেই ম্যাচে মাশরাফির একটি রেকর্ড তো বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান আজও ভাঙতে পারেননি।
সিরিজের বৃষ্টি বিঘিœত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৮৫ রানের টার্গেট দিয়েছিল ভারত। দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন ভারতীয় ওপেনার গৌতম গম্ভীর। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৫.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। তারপরই ব্যাট হাতে নামেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশের হার একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল। কিন্তু মাশরাফি তো এত সহজে হার মানার পাত্র নন। তাই জ্বলে উঠলেন ব্যাট হাতে। ইনিংসের ৪৭ তম ওভার বল হাতে আসেন দিনেশ মোঙ্গিয়া। প্রান্ত বদল করে ম্যাশকে স্ট্রাইক দেন আব্দুর রাজ্জাক।
পরের পাঁচটি বল মাশরাফি একাই খেলেছেন। গড়েছেন রেকর্ড। দ্বিতীয় বলে মোঙ্গিয়ার মাথার উপর দিয়ে মিড অনে লম্বা ছক্কা। তৃতীয় বলে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে। চতুর্থ বলে ওয়াইড লং অন দিয়ে তিন নম্বর ছক্কা। পঞ্চম বলটি আবারও মোঙ্গিয়ার মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন মাশরাফি। শেষ বলে সিঙ্গেল নিলে ৫ বলে আসে ২৫ রান। বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের পাঁচ বলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটাই।
মাশরাফি সেদিন রেকর্ড গড়লেও দলকে জেতাতে পারেননি। পরের ওভারের প্রথম বলেই ম্যাশ আউট হয়ে যান। প্যাভিলিয়নের দিকে ফেরার আগে তার নামের পাশে লেখা হয়ে গেছে ২২ বল ৪২ রান। এরপর ৯ উইকেটে ২৩৮ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ভারত জিতে যায় ৪৬ রানে। চিরস্মরণীয় এই ম্যাচের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও ম্যাশের রেকর্ড অক্ষত আছে। মাশরাফি বেশ কিছুদিন আগে ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন। তবে ক্রিকেট ছাড়েননি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি ততদিন খেলে যাবেন, যতদিন তার ভালো লাগে।

LEAVE A REPLY