চৌগাছার বিপুলকে যেভাবে খুন করা হয়

0
601

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোরের চৌগাছায় বিপুল নামে এক ব্যক্তিকে কারা কীভাবে খুন করে, তা বিস্তারিত জানতে পেরেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে তারা হত্যার পরিকল্পনা, হত্যা ও লাশ ফেলে দেওয়ার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে।
গত ৫ জুন সকালে চৌগাছা উপজেলার বেড়গোবিন্দপুর মুলিখালী বটতলায় রাস্তার পাশে ঝোপের মধ্যে বিপুলের বস্তাবন্দি লাশ হয়। এর আগে তাকে ফুঁসলিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়েছিল।
নিহত বিপুল চৌগাছা উপজেলার হিজলী গ্রামের জামাল হকের ছেলে৷ নিহতের ছেলে রকি আহমেদ এর অভিযোগের ভিত্তিতে একই দিন চৌগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়৷ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের দায়িত্ব দেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মদের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীম হোসেন ও আইটি শাখার এসআই মফিজুল ইসলাম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ৬ জুন দুপুরে মণিরামপুর উপজেলার গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সবুজ হোসেন (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করেন। এই সবুজ হলেন বিপুল হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি চৌগাছা উপজেলার হিজলী গ্রামের আবু শামার ছেলে। এছাড়া গ্রেফতার করা হয় সবুজের মা ও আবু শামার স্ত্রী ফুলবানু বেগম (৩৮)। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক সহযোগী একই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে তুহিনকে (২৫)হিজলী বাজার থেকে একই দিন বিকেলে গ্রেফতার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে চৌগাছার পুড়াপাড়া এলাকায় জনৈক ইদ্রিস আলীর পাটক্ষেতের মধ্যে থেকে একটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিম উদ্ধার করা হয়। এরপর হত্যার স্থান পলাতক আসামি রফিকুলের বসতবাড়ি চৌগাছার দক্ষিণ কয়ারপাড়া থেকে একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়; যেটি বিপুল খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া চৌগাছা বাজারের যে দোকান থেকে চটের বস্তা কেনা হয়েছিল, সেটিও শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা।
ডিবির (ওসি) মারুফ আহম্মেদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পেরেছেন ফুল বানুর সঙ্গে নিহত বিপুলের তিন বছর ধরে পরকীয়া প্রেম ও দৈহিক সম্পর্ক ছিল। তাদের অনৈতিক সম্পর্ক ফুল বানুর ছেলে সবুজ দেখে ফেলে। বিপুলকে সতর্ক করা সত্ত্বেও নিবৃত না হওয়ায় সবুজ তার ভগ্নিপতি রফিকুলকে সঙ্গে নিয়ে বিপুলকে খুন করার পরিকল্পনা করে।
তিনি জানান, ঘটনার দিন সবুজের ভগ্নিপতি দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের লালনের ছেলে রফিকুল গরু কেনার কথা বলে বিপুলকে ডেকে আনে। এরপর রফিকুলের বসতঘরে নিয়ে শ্বাসরোধ, মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত এবং গোপনাঙ্গ চেপে ধরে হত্যা করা হয় বিপুলকে। লাশ বস্তাভর্তি করে গভীর রাতে বেড়গোবিন্দপুরে ফেলে দেয় খুনিরা।
সবুজের বাবা আবু শামা ১০-১২ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় আছেন জানিয়ে ডিবির ওসি আরো জানান, রোববার আসামিদের আদালতে আনা হয়েছে৷ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হচ্ছে৷

LEAVE A REPLY