চীনে গেল হাজার হাজার শূকরছানা ৭৪৭ জাম্বো জেট বিমানে চড়ে!

73

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনাভাইরাস মহামারির ফলে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে বিমান সংস্থাগুলো। তবে এইলোকসানের আঁচ লাগেনি ভলগা-নিপার গ্রুপের গায়ে। ওই সংস্থাটি মূলত মালবাহী বিমান চালায়। তারা লকডাউনের মধ্যে এবছর ফ্রান্স থেকে চীনে নিয়ে গিয়েছে তিন হাজার শূকরছানা। বোয়িং ৭৪৭ কার্গো বিমানে চড়ে শূকরছানাগুলি পাড়ি দিয়েছে ১০ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। বিমানের ভেতরে কাঠের ক্রেটে তাদের রাখা হয়েছিল।
গত বছর চীনে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুর প্রকোপে বহু সংখ্যক শূকর মারা যায়। এর পরেই সেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। ফলে চীনে শূকর চাষ ব্যাপক ধাক্কা খায়। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে চীন আমেরিকা থেকে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৩ টন শূকরছানা আমদানি করে। এর আগে ইউরোপ থেকে চীনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শূকরছানা আমদানি হত। কিন্তু চলতি বছরে ইউরোপকে টপকে গিয়েছে আমেরিকা। ২০১৯ সালে চীন যত টন শূকরছানা আমদানি করেছিল, চলতি বছরে আমদানি করেছে তার চেয়ে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার টন বেশি।
যে বিমান সংস্থাটি ফ্রান্স থেকে চীনে শূকরছানা নিয়ে গিয়েছে, তার মালিকের নাম আলেক্সেই ইসায়কিন। তার মতে, করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে বিমানে পণ্য পরিবহণ ফের বাড়তে চলেছে। চীনে বিপুল সংখ্যক শূকরছানা পরিবহণের অর্ডার পাওয়াই তার প্রমাণ।
এর আগে ওই সংস্থা উপগ্রহ ও আপৎকালীন সেতু সরঞ্জাম পরিবহণ করেছে। মহামারির সময় রাশিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানিতে হাজমত স্যুট, ডাক্তারির যন্ত্রপাতি ও রাস্তাঘাট জীবাণুমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় গাড়িও পরিবহণ করেছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ভোলগা-নিপার কম্পানির ব্যবসা বেড়েছে ৩২ শতাংশ।
মস্কো থেকে এক সাক্ষাৎকারে ইসায়কিন বলেন, ‘বিমান সংস্থাগুলো বিশ্বজুড়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কিন্তু মালবাহী বিমানগুলো মহামারির সময় ব্যবসা বাড়াতে পারে। আগে যাত্রীবাহী বিমানের লাগেজ কম্পার্টমেন্টে অনেকের পণ্য পরিবহণ করা হত। এখন সেই সুযোগ কমেছে। তাই পণ্যবাহী বিমানের চাহিদা বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পণ্য পরিবহণের ভাড়া।’
সূত্র- ইকোনমিক টাইমস।

Previous articleবিএনপি থেকে আ.লীগে যোগ দেয়া নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত
Next articleপোল্ট্রি শিল্পে সুখবর, কমবে হাঁস-মুরগির খাদ্যের দাম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here