টি-টোয়েন্টির কারণেই এখন টেস্ট ক্রিকেট উপভোগ্য

44

ক্রীড়া ডেস্ক : টি-টোয়েন্টির ধুম ধারাক্কা ব্যাটিংয়ের কারণে টেস্ট ক্রিকেট এখন উপভোগ্য ও উত্তেজনাপূর্ণ বলে মনে করেন ক্রিকেটের সাবেক তিন তারকা খেলোয়াড় ও অধিনায়ক বাংলাদেশের হাবিবুল বাশার, ভারতের রাহুল দ্রাবিড় ও শ্রীলঙ্কার অর্জুনা রানাতুঙ্গা। এএফপিকে হাবিবুল বলেন, টেস্ট ফরম্যাটে এখন বড় রানের পেছনে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাটিং ও ফ্লাট উইকেটের অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অতীতে প্রতিটি দল দিনে ১৫০ থেকে ২০০ রান করলেই সন্তুস্ট থাকতো। কিন্তু বর্তমানে দিনে ৩শ রান চায় দল। বড় স্কোরের আরও একটি কারণ হলো ফ্লাট উইকেট। আমরা সবুজ ঘাসের উইকেট দেখতে পাই। তবে সবচেয়ে বড় কারণ হলো, সীমিত ওভারের ম্যাচগুলো।’
হাবিবুলের সুরে ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএক্রিকইনফোতে ভারতের সাবেক সঞ্জয় মাঞ্জেকারের সাথে ভিডিও চ্যাটে আলাপকালে একই কথা বলেন দ্রাবিড়। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিকারর্থে বিশ্বাস করি, টেস্ট ব্যাটিং এখন অনেক বেশি উপভোগ্য, আগের চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক। টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানরা বেশি শট খেলছে, যা দুর্দান্ত।’
টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম টেকনিক্যাল ব্যাটসম্যানের খ্যাতি পেয়েছিলেন দ্রাবিড়। ১৯৯৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ১৬৪টি টেস্ট খেলেন তিনি। তার ব্যাটিং গড় ছিল, ৫২. ৩১। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ‘দ্যা ওয়াল’ উপাধি পেয়েছিলেন দ্রাবিড়। তার উইকেটে আকঁড়ে থাকার প্রবল ক্ষমতা ছিল। টেস্টে তার স্ট্রাইক রেট ৪২. ৫১ ও ওয়ানডেতে ৭১.২৩। তারপরও টেস্টে ১৩ হাজার ২শ ৮৮ ও ওয়ানডেতে ১০ হাজার ৮শ ৮৯ রানের মালিক দ্রাবিড়।
দ্য ওয়াল খ্যাত এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে যদি, আমি আগের মত ব্যাটিং করতাম তবে টিকতে পারতাম না। বর্তমানের স্ট্রাইকের দিকে দেখুন। ভারতের জন্য দুর্দান্ত হলো, বিরাট কোহলি টেস্ট ক্রিকেটকে অনেক বেশি প্রাধান্য দেন। কোহলি দেখিয়েছেন, কিভাবে তিন ফরম্যাটেই ধারাবাহিকভাবে খেলতে হয়। অবশ্যই আমি নিজেকে কোহলি বা রোহিতের সাথে তুলনা করবো না। কারণ তারা ওয়ানডে ক্রিকেটকে নতুন স্তরে পৌছে দিয়েছে।’
শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা মনে করেন, সীমিত ওভারের ক্রিকেটের জন্য টেস্ট ফরম্যাটে আগ্রাসন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘১০ বা তার বেশি বছর আগের কথা বলা যাক, বড় শট নেয়ার জন্য ব্যাটসম্যানরা আলগা বলের অপেক্ষা করতেন, কিন্তু বর্তমানে অর্ধেক ভালো ডেলিভারিতেও শর্ট নিয়ে থাকে।’
১৯৮২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলেছেন রানাতুঙ্গা। টেস্ট ও ওয়ানডে, দুই ফরম্যাটেই ৩৫এর ওপর ব্যাটিং গড় তার। পাঁচ দিনের ক্রিকেটকে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতে তিনি। রানাতুঙ্গা বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট মায়ের হাতের তৈরি খাবারের মত। যা অনেক ভালোবাসা-যতœ ও ধৈর্য্য দিয়ে তৈরি হয়, যা পুষ্টিকর খাবারের মত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট হলো তাৎক্ষণিক বানিয়ে দেয়া নুডুলসের মতো।’

Previous articleযশোরের অভ্যন্তরে করোনায় প্রথম মৃত্যু
Next articleযশোরসহ পাঁচ জেলার ২৪ নমুনা পজেটিভ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here