বেনাপোল-শার্শার ‘রেড জোনে’ লকডাউন কার্যকর

99

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি : রেড জোন ঘোষিত যশোরের বেনাপোল পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ড ও শার্শা উপজেলার নাভারন সদর এলাকার কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে।
এইসব এলাকার দোকানপাট ও হাটবাজার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চলছে পুলিশের টহল। বাইরের লোকজনকে ঘরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
‘রেড জোন’ ঘোষিত এলাকার মধ্যে পড়েছে বেনাপোল পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের নামাজগ্রাম ও দুর্গাপুর এবং শার্শা সদর ইউনিয়নের কাজিরবেড়, নাভারন রেলবাজার, উত্তর ও দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রাম। সোমবার যশোর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য প্রশাসন যে ১৭টি এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে, শার্শার এই দুটি এলাকা রয়েছে তার মধ্যে।
মঙ্গলবার দেখা যায়, বাঁশের বেড়া দিয়ে তাতে লকডাউন ব্যানার টানিয়ে দিচ্ছেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলককুমার মণ্ডল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোরশেদ আলম চৌধুরী, বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান, শার্শা থানার ওসি বদরুল আলম খানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, বাজার কমিটি ও পৌরসভার কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ঘর থেকে বের হলেই পুলিশের জেরায় পড়তে হচ্ছে মানুষকে। বাইরে বের হওয়ার উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলে বাড়িতে ফেরত পাঠাচ্ছে পুলিশ। এলাকার দোকানপাট ও হাটবাজার বন্ধ রয়েছে। তবে বিভিন্ন ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের চলাফেরার ফাঁক দিয়ে মানুষ লাল জোন এলাকায় ঢুকে পড়ছে।
বেনাপোলের দুর্গাপুরের লোকেরা তাদের ওয়ার্ড লকডাউন প্রসঙ্গে বলছেন, তাদেরকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। রেড জোনের মধ্যে বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কী কী সুযোগ-সুবিধা থাকবে সেটাও তারা জানে না। কতদিন লকডাউন থাকবে সে বিষয়েও তারা অন্ধকারে।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলককুমার মণ্ডল বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে উপজেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি এলাকা ‘রেড জোন’ ঘোষণাপূর্বক একটি আদেশ জারি করেছে যশোর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। মানুষ কারণে-অকারণে নানা অজুহাতে বাইরে চলাচলের চেষ্টা করছে। অকারণে বাইরে বের হওয়া মানুষদের বুঝিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কেউ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, মঙ্গলবার প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। বুধবার পৌরসভা থেকে মাইকিং করে নাগরিকদের সতর্ক ও অবহিত করা হবে। লকডাউন ২১ দিন বলবৎ থাকবে বলে তিনি জানান।

Previous articleকরোনাভাইরাস থেকে ‘জীবন বাঁচাতে পারে’ ডেক্সামেথাসোন
Next articleবিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রতিকার : যেমন আইনের, তেমন আর্তমানবতার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here