চীন সম্পর্কে মোদীর অদূরদর্শী কৌশলের মূল্য দিচ্ছে ভারত?

23

চিররঞ্জন সরকার
“যারা অতীতকে স্মরণ করেন না তারা এর পুনরাবৃত্তির জন্য নিন্দিত হন।” ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চীন-সম্পর্কিত নয়া কৌশলে স্প্যানিশ দার্শনিক জর্জ সানতায়ানার সেই বিখ্যাত উক্তিটির প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধে নিজের দেশ যে অঙ্গীকার করেছিল তা মনে রাখতে নারাজ মোদী।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু তার রাশিয়াপন্থী সহযোগী ভি কে কৃষ্ণ মেননের পরামর্শের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে যে ভুল করেছিলেন, চীনের প্রতি কৌশল নির্ধারণে মোদীও একই ভুল করছেন। মোদী তার পররাষ্ট্র-বিষয়ক মন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের উপর নির্ভরশীল, যিনি প্রবলভাবে বিশ্বাস করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বাধলেই কেবল ভারতের কৌশলগত স্বার্থ সর্বোত্তমভাবে পূরণ হতে পারে।
মোদী ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভারতের বৈদেশিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কিত দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং রীতিনীতিকে পরিত্যাগ করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়ে নিজের ক্ষমতাকে সুরক্ষিত করতে তিনি বৈদেশিক নীতিকেও ভোটার আকর্ষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি পুলওয়ামার সন্ত্রাসী হামলা এবং তৎকালীন পাকিস্তানের বালাকোটে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক পরিচালিত করে নির্বাচনী এজেন্ডা হিসেবে আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদকে ব্যবহার করেছিলেন। নির্বাচনের সময় মোদী পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর ফিরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
দেশের প্রতিটি ফ্রন্টে ব্যর্থতা সত্ত্বেও, মোদী সফলভাবে তার পররাষ্ট্রনীতি দিয়ে জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং, রাশিয়ার নেতা ভøাদিমির পুতিনসহ বিভিন্ন পরাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত দেশের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে ‘অভ্যন্তরীণ নীতির ব্যর্থতা’ গোপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী, বাজারে পণ্য বা পরিষেবা যা কিছু পাওয়া যায়, তার জন্য ভোক্তাকে অর্থ প্রদান করতে হয়, অর্থাৎ বিনা পয়সায় কেউ কিছু পায় না। তত্ত্বটি এটাই বোঝায় যে, “বিনে পয়সায় মধ্যাহ্নভোজ বলে কিছু নেই।” এটা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং কৌশলের ক্ষেত্রে ভীষণভাবে প্রযোজ্য।
একটি মহাশক্তিধর দেশের নেতার সঙ্গে প্রতিটি আলিঙ্গন এবং হ্যান্ডশেক একটি নির্দিষ্ট মূল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। কখনও কখনও এটা আর্থিক মূল্যে নির্ধারিত হয়। পুতিনের সঙ্গে আলিঙ্গন ও হাত ঝাঁকানোর জন্য প্রতিরক্ষার নামে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র বাবদ ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্য দিয়েছিলেন। ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁয়ের সঙ্গে হ্যান্ডশেকের মূল্য ছিল রাফাল চুক্তির জন্য ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এগুলো ছিল সুস্পষ্ট আর্থিক ব্যয়, পুতিন এবং ম্যাক্রোঁকে জড়িয়ে ধরার সঙ্গে যুক্ত ‘কৌশলগত ব্যয়’ নয়। তবে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে মোদীকে আরও অনেক বেশি ‘কৌশলগত মূল্য’ দিতে হয়েছিল।
উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত “হাউদি, মোদী’’ (টেক্সাসের প্রচলিত একটি শুভেচ্ছামূলক সম্ভাষণ, যার মানে-হ্যালো মোদী, আপনি কেমন আছেন) নামে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানটির কথা উল্লেখ করা যায়।
এই অনুষ্ঠানে আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক অংশ নিয়েছিল। এই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল ট্রাম্পের অংশগ্রহণ যিনি মোদীর সঙ্গে প্রায় এক ঘন্টা কাটিয়েছিলেন।
একইভাবে, ট্রাম্প চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ভারতের গুজরাট রাজ্যে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক লক্ষ ২৫ হাজার মানুষের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। মোদী তার সঙ্গে ট্রাম্পের ‘দৃঢ় বন্ধন’-কে প্রদর্শন করার চেষ্টা করেছিলেন এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ‘একজন ব্যতিক্রমী নেতা এবং এমন একজন মানুষ যাকে আমার বন্ধু হিসেবে পেয়ে সত্যি গর্বিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
তবে এই অনুষ্ঠানগুলোতে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ এবং মোদীকে প্রশংসা করা নিখরচায় হয়নি। বিশ্বস্ত মার্কিন সহযোগী এবং বন্ধুর ভূমিকায় ‘অভিনয়’ করার জন্য এখন ‘কৌশলগত’ মূল্য গুণতে হচ্ছে।
সম্প্রতি ঘোষিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সুরক্ষা কৌশলে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও “এক-চীন নীতি” বিশ্বাস করে এবং আমেরিকা চীনে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন চায় না। তবে, মোদী আমেরিকার এই ‘এক-চীন নীতি’ না মেনে তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতির ভার্চুয়াল শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য দুইজন সংসদ সদস্যকে প্রেরণ করেছিলেন।
লাদাখের চীন-ভারত সামরিক অবস্থান সম্পর্কে মার্কিন রাষ্ট্রপতি নিজে বা চতুর্ভূজ (কোয়াড) মিত্র দেশগুলোসহ ভারতের কোনও বন্ধু ও মিত্র ভারতের পক্ষে বিবৃতি দেননি। এমনকি ৪ জুন মোদী এবং অস্ট্রেলিয়ার নেতা স্কট মরিসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের পর যৌথ বিবৃতিতেও লাদাখের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
মহামারী শুরু হওয়ার আগে থেকেই আমেরিকা অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। সেদেশে সাধারণ ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১২৫% এবং ওয়াল স্ট্রিটের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে এটি জিডিপির ২০০০% এ পৌঁছতে পারে। বিশ্বখ্যাত এশিয়া-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ স্টিফেন রোচ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের ঘাটতির সঙ্গে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন শীঘ্রই ডলারের পতনের একটি কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই চীনের সঙ্গে আরও ভালো বাণিজ্য চুক্তি চায়। আগামী নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরে, এই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারী-উত্তর পৃথিবীতে বৈশ্বিক শক্তির নতুন বিন্যাসে চীন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তাতে ভারতের লাভ হবে-এমন হিসাব অবাস্তব বলে মনে হয়।
মোদীর একটি মিথ্যা আশাবাদ রয়েছে যে, মহামারীর পরে ভারত দ্রুত এবং অপ্রতিহত গতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, মহামারী-উত্তর বিশ্বে সরবরাহের চেইন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। তিনি এ ব্যাপারেও আশাবাদী যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং অনেক ইউরোপীয় দেশ তাদের অর্থনীতি থেকে চীনকে বিচ্ছিন্ন করবে। তারা ভারতকে অংশীদার ও মিত্র হিসেবে চাইবে। তাদের কারখানাগুলো স্থানান্তরিত হবে এবং ভারত হয়ে উঠবে একটি নতুন গন্তব্য।
তবে, ভারতে করোনাভাইরাস সংকট শুরু হয়েছে মাত্র কিছুদিন আগে। ভারতীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই বছরের শেষ নাগাদ মোট ৬৭০ মিলিয়ন মানুষের সংক্রমণ এবং ৫ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে বলে অনুমান করছেন। পাশাপাশি, অর্থনীতি আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন। ভারতীয় রফতানির ভোক্তারা মূলত নিম্ন-মধ্যম আয়ের পরিবার। এই পরিবারগুলো কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরের বছর তাদের চাহিদা আরও কমে যেতে পারে।
মহামারীর আগে, ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইতিবাচক ছিল। এবং মোদীর টার্গেট হলো আমেরিকা ও ইইউ,এর যে সব সংস্থাকে প্রধান মিত্র বানানো যারা চীন থেকে ভারতে স্থানান্তরিত হবে।
তবে মার্কিন সংস্থাগুলো যে ভারতে স্থানান্তরিত হবেই, তেমন কোনও গ্যারান্টি নেই, কারণ ২০১৮ সালের মার্চ মাসে মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে ৫% এরও কম সংস্থা ভারতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। এবং তারা স্থানান্তরিত হলেও, এটি ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশের নিশ্চয়তা দেয় না, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যগুলোর কার্যকর চাহিদা কয়েক বছরে বেড়ে যাবার তেমন সম্ভাবনা নেই।
‘আত্মনির্ভর ভারত’ (স্বনির্ভর ভারত) গড়ার ধারণা থেকে মোদী গত ১২ মে মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ২৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন। বেইজিং বুঝতে পেরেছিল যে মোদীর অভিপ্রায় চীনা পণ্য ঠেকানো। একইসঙ্গে চীন থেকে স্থানান্তরিত করতে চায় এমন আমেরিকান সংস্থাগুলোতে ভারতে স্বাগত জানানো।
চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। দু’দেশের মধ্যে ৩,৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত থাকার কারণে ভারতের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে চীনের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। চীনা নীতিনির্ধারকরা মনে করেন যে, হিমালয় ও ভারত মহাসাগরে চীনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমেরিকা ভারতকে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান কোনও বিশেষ চুক্তির কথা উল্লেখ না করেই গত মাসে জোর দিয়ে বলেছিলেন, “আমরা ভারতীয় পক্ষকে আমাদের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করার, স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো মেনে চলার এবং একতরফা কর্মকান্ড যা পরিস্থিতিকে জটিল করছে তা থেকে বিরত থাকার আহবান জানাই।” তিনি উহান ও মামল্লাপুরামে দুটি অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনের সময় মোদী ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও ঐকমত্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন।
বেইজিং আরও বুঝতে পেরেছে যে “দ্য এশিয়ান সেঞ্চুরি” তৈরির ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে কাজ করার চুক্তি সত্ত্বেও মোদী আমেরিকার দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের পরে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বর্ণিত “একে অপরের সংবেদনশীলতা, উদ্বেগ এবং আকাক্সক্ষাকে সম্মান করার গুরুত্ব” মানতে মোদী নারাজ।
মোদী এবং শি জিনপিং ভারত-চীন সীমানা ইস্যুতে সুষ্ঠু, যুক্তিসঙ্গত এবং পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমঝোতা চাইতে সম্মত হয়েছিলেন। তবে, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার পরে, ভারত একটি নতুন মানচিত্র চালু করেছে যাতে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর উচ্ছ্বসিত হয়ে, সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বক্তব্য রেখে মোদীর ডানহাত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন যে, তিনি চীন-শাসিত লাদাখের আকসাই ফিরিয়ে আনবেন। এরপরে জয়শঙ্কর বেইজিংয়ে গিয়ে চীনকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ভারতের এই অঞ্চল প্রসারিত করার কোনও ইচ্ছা নেই।
চীন প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাটিকে ভারতের ঘরোয়া রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে মনে করেছিল। তবে পর পর ঘটে যাওয়া পরবর্তী ঘটনাবলি, যেমন-তাইওয়ানের ইস্যুতে নীতিগত পরিবর্তন, ভারতে চীনের বিনিয়োগকে চেপে ধরা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুনর্গঠন, কোভিড-১৯ নিয়ে তদন্ত, কোয়াড এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি ইত্যাদি বেইজিংয়ের সন্দেহকে বাড়িয়ে তোলে।
চীনা নীতিনির্ধারকরা মনে করেন যে, মোদী “একটি উন্মুক্ত, বহুত্ববাদী, বৈচিত্র্যময় এবং অংশগ্রহণমূলক বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরির” ক্ষেত্রে সম্পাদিত চুক্তির ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছেন এবং তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বকে ত্যাগ করেছেন এবং মার্কিন নির্দেশের ভিত্তিতে ইন্দো-প্যাসিফিক বলয় গড়ার এই পদক্ষেপকে নিজের বাড়ির পিছনের উঠোনে নস্যাৎ করতে চান।
চীন মোদীকে দুটি অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনের সময় বেইজিংয়ের সঙ্গে সমঝোতা ও চুক্তি মেনে চলার জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, তা না হলে লাদাখের সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থান ১৯৬২ সালের চেয়ে খারাপ পরিণতি বয়ে আনবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে উনিশ শতকের রাশিয়ার ইতিহাসবিদ ভ্যাসিলি ক্লিওয়েভস্কির একটি উক্তির কথা মনে পড়ে। তিনি বলেছিলেন, “ইতিহাস আমাদের কিছুই শেখায় না, কেবল তার পাঠগুলো না শেখার জন্য শাস্তি দেয়।” চীন সম্পর্কে মোদীর বর্তমান কৌশল কি ভারতকে তেমন পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে?
(এশিয়ান টাইমস-এ প্রকাশিত ভীম ভুরতেল রচিত ‘ইনডিয়া পেয়িং প্রাইস ফর মোডি’স মায়োপিক’ নিবন্ধ অবলম্বনে)
লেখক : কলামিস্ট।

Previous articleকরোনা চিকিৎসা : বৃহৎ ভবন লইয়া কী করিব!
Next articleকলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতে গডফাদার প্রসেঞ্জিত, শ্রীলেখার অভিযোগ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here