ওয়েব সিরিজ বিতর্ক : গন্তব্য কোথায়?

34

রেজানুর রহমান
প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো আমি সব পজিটিভ পরিবর্তনের পক্ষে। সে কারণে ওয়েব সিরিজের পক্ষেই আছি। তাই বলে ওয়েব সিরিজের নামে যৌনাচার মোটেও সমর্থন করি না। অনেকে যৌনাচারকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা মনে করেন। তা করতেই পারেন। তবে তা নিজের ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। সময়ের কথা তুলে আধুনিকতার দোহাই দিয়ে যৌনতাকে গ্লোরিফাই করার জন্য যারা অতি বিপ্লবী হয়ে উঠেছেন আমি তাদের পক্ষে নই।
যুগের দাবি বলে একটা কথা আছে। যুগ অর্থাৎ সময়ের কথা বলছি। সময়ের সাথে সাথে সংস্কৃতির ধারাও বদলে যেতে থাকে। সময় যে বদলে গেছে বা বদলে যায় তা মানুষের সাংস্কৃতিক আচরণ দেখলেই বোঝা যায়। বেশি না, আজ থেকে দশ বছর আগের কথা একবার ভাবুন তো। কেমন ছিল বাংলাদেশের সামাজিক আচার-আচরণ? বাসা-বাড়ির ড্রয়িং রুম অর্থাৎ বসার ঘরের পরিবেশ কেমন ছিল? একটি পরিবার কতটা আধুনিক অর্থাৎ কতটা অগ্রসরমান তা সহজেই বোঝা যায় পরিবারটির ড্রয়িংরুম অর্থাৎ বসার ঘরের পরিবেশ দেখে। অনুভবের আয়নায় দেখার চেষ্টা করলে সহজে বুঝতে পারবেন প্রায় প্রতিটি পরিবারের ড্রয়িংরুম অর্থাৎ বসার ঘরের পরিবেশ বদলে গেছে। আগে হয়তো বসার ঘরের দেয়ালে শোভা পেত সাদা কাপড়ে রঙবেরঙের সুতোয় বোনা ‘যাও পাখি বলো তারে সে যেন ভোলে না মোরে’ এই ধরনের অন্তর ছোঁয়া সম্পর্কের ছবি ও কথামালা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কবি জসীমউদদীনসহ ইতিহাসখ্যাত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ছবি অনেকের বসার ঘরের দেয়ালে ঝুলে থাকতো। এখন ওই ছবিগুলো আর দেখা যায় না। দেশের অগ্রসরমান প্রায় প্রতিটি পরিবারের বসার ঘরে বইয়ের আলমারি ছিল। এখন বইয়ের আলমারিও উধাও। সেখানে স্থান করে নিয়েছে টেলিভিশন সেট। ১০ বছর আগেও টেলিভিশনই ছিল আনন্দ-বিনোদনের প্রধানতম মাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ধাক্কায় টেলিভিশনও যেন এখন কোণঠাসা। শুরু হয়েছে মোবাইল যুগ। মানুষ এতটাই অলস হয়ে উঠেছে যে একই পরিবারের লোকজন এই ঘর থেকে ওই ঘরে মোবাইলে কথা বলে। আতঙ্কজনক এই পরিবর্তনকেই লুফে নিয়েছে সাংস্কৃতিক বেনিয়ারা। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ধুয়া তুলে ওয়েব সিরিজ নির্মাণের নামে যৌনতাকে উসকে দিচ্ছে। ভাবটা এমন-এটাই আধুনিকতা। কোনও প্রয়োজন ছাড়াই নাটকে যৌনতাকে তুলে ধরাকে অনেকে মহৎ ও সৃষ্টিশীল কর্ম বলে মনে করছেন। ভাবটা এমন, পৃথিবীতে যৌনতাই সত্য। এর চেয়ে আর কোনও সত্য নাই। কাজেই এসো সবে মিলে যৌনতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা শুরু করি।
অনেকে হয়তো ভাবছেন, আমি কি তাহলে যৌনতাকে অস্বীকার করছি। মোটেই না। যৌনতা জীবনেরই অংশ। তবে তা প্রকাশ্যে চর্চার বিষয় নয়। হ্যাঁ, নাটক সিনেমায় কাহিনির প্রয়োজনে যৌনতা বিষয় হয়ে উঠতেই পারে। কিন্তু তা যেন কখনও আরোপিত মনে না হয়। মা তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন। মায়ের স্তন দেখা যাচ্ছে। কাহিনির প্রয়োজনে এই দৃশ্য দেখানো যেতে পারে। কারণ, এই দৃশ্যে মায়ের প্রতি সকলের শ্রদ্ধা বাড়বে বৈ কমবে না। কিন্তু কোনও যুক্তি ছাড়াই যখন কোনও নাটক অথবা সিনেমায় নারীর স্তনসহ শরীরের গোপন অংশ ফুটে ওঠে তখনই নির্মাতার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
দেশের তিন জন গুণী নির্মাতা সাম্প্রতিক সময়ে ৩টি ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করেছেন। ভেবেছিলাম তাদের শুভেচ্ছা জানাবো। কিন্তু ওয়েব তিনটি দেখার পর একজন নির্মাতা হিসেবে যারপরনাই বিব্রতবোধ করছি। দেশের সিনেমা ডুবেছে অশ্লীলতার দায়ে। এবার না অশ্লীলতার দায়ে টেলিভিশন নাটক ডুবে যায়।
ওয়েব সিরিজ নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর নিজেকে বারবার প্রশ্ন করেছি- আমি কি ব্যাকডেটেড? কেন আমি ক্ষুব্ধ? বলা হচ্ছে ৩টি ওয়েবেই যৌনতাকে উসকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যৌনতা তো জীবনেরই অংশ। নাটক, সিনেমায় তা উঠে এলে ক্ষতিটা কোথায়? যার যা ইচ্ছে দেখাক না। বিচার তো করবে দর্শক। এখানে আমি ক্ষুব্ধ হচ্ছি কেন? আমার ক্ষুব্ধতায় কারও কিছু যায় আসে নাকি? এমন অস্থির সময়ে একজনের ফোন পেলাম। অপরিচিত ভদ্রলোক। এর আগে তার সাথে আমার কথা হয়নি। অথচ ফোন ধরতেই ধমকের সুরে বললেন, আপনারা পেয়েছেন কী? এসব কী শুরু করেছেন?
আমি একটু বিব্রত, দ্বিধাগ্রস্ত। জিজ্ঞেস করলাম- কে বলছেন?
তিনি ক্ষুব্ধ ভঙ্গিতেই বললেন, আমাকে আপনি চিনবেন না। কিন্তু আমি আপনাকে চিনি। আপনারা ওয়েব সিরিজের নামে এসব কী শুরু করেছেন? পরিবারের ছেলেমেয়েদের কি আপনারা ‘বেশ্যা’ বানাতে চান?
আমি আরও বিব্রত। কারণ, আমি তখনও ওয়েব সিরিজ ৩টি দেখিনি। না দেখা বিষয় নিয়ে কতটুকুই বা আলোচনা করা যায়? বয়স্ক ভদ্রলোক আবার ধমকের সুরে বললেন, শোনেন আমাকে মোটেই ব্যাকটেডেট ভাববেন না। আমি একজন ব্যাংকার। অবসরে আছি। আমার ছেলেমেয়েরা আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আমরা একসাথে সিনেমা দেখি, নাটক দেখি, টিভির অনুষ্ঠান দেখি, আড্ডা দেই। একদিন আমার কলেজ পড়–য়া মেয়ে বললো, বাবা চলো বাংলাদেশের একটা ওয়েব সিরিজ দেখি। মেয়ের কথায় রাজি হয়ে গেলাম। পরিবারের সবাই মিলে ‘আগস্ট-১৪’ নামে একটি ওয়েব সিরিজ দেখতে শুরু করলাম। নাটকের শুরুতেই ভাগ্যাহত সেই ন্যায়পরায়ণ পুলিশ অফিসারের কথা মনে পড়ে গেলো। বখে যাওয়া মেয়ের হাতে স্বামী-স্ত্রী নৃশংসভাবে খুন হন। তারই কাহিনি নিয়ে নির্মিত হয়েছে আগস্ট-১৪। আগ্রহ নিয়ে দেখতে শুরু করলাম। হঠাৎ দেখি আমার মেয়ে টেলিভিশনের সামনে থেকে উঠে চলে গেল। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে নাটকটি দেখছিল আমাদের কাজের মেয়ে। সেও লজ্জায় মুখ ঢেকে চলে গেলো। আমার দশম শ্রেণি পড়–য়া ছেলেটি মাথা নিচু করে বসে আছে। ওর মা মৃদু ধমক দিলো তাকে- বসে আছিস কেন? যা এখান থেকে। ছেলেটি বোধকরি ধমকের অপেক্ষায় ছিল। ধমক খেয়ে দ্রুত চলে গেলো। আমরা স্বামী-স্ত্রী চুপচাপ বসে আছি। কেউ কোনও কথা বলছি না। হঠাৎ আমার স্ত্রী মন্তব্য করলো- ছি ছি ছি… নাটকের নামে এসব কী হচ্ছে! এসব দেখার কি কেউ নাই?
এই পর্যন্ত বলে ভদ্রলোক থামলেন। দম নিয়ে বললেন, ভাই আপনি তো শুধু সাংবাদিক নন, একজন নির্মাতাও বটে। তাই আপনার কাছে আমার প্রশ্ন- নাটকে অশ্লীল ভাষার ব্যবহার ও অহেতুক নারীর শরীর দেখানোর এই যে উদ্যোগ শুরু হলো, এর ভবিষ্যত কী বলেন তো…।
ভদ্রলোকের সাথে কথা এটুকুই। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে দেখলাম ‘আগস্ট-১৪’ ওয়েব সিরিজটি। এটি নির্মাণ করেছেন বিশিষ্ট নির্মাতা শিহাব শাহীন। আমার অনেক পছন্দের একজন নির্মাতা। সে কারণে ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে এই ওয়েব সিরিজটি দেখা শুরু করলাম। বাস্তব কাহিনির নাটক নির্মাণ অনেক ঝামেলার। কারণ কাহিনিটি জানা থাকায় দর্শক সহজেই গ্রহণ করতে চায় না। আগস্ট-১৪ দেখতে গিয়ে প্রথমেই হোঁচট খেলাম। নাটকের মূল চরিত্র ঐশী। বখে যাওয়া মেয়ে। নাটক যতই এগুচ্ছে ততই বিরক্ত হচ্ছি। বারবার একই প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে, বাস্তবের সব ঘটনাই কি টেলিভিশনের পর্দায় দেখানো উচিত? পুলিশ অফিসারের বখে যাওয়া মেয়ে ঐশী পর্নো ছবিতে আসক্ত ছিল। যৌনতাকে জীবন সঙ্গী করেছিল সে। এটাই বাস্তব সত্য। কিন্তু এই সত্যের কতটুকু দেখাবেন আপনি পর্দায়? নাটক দেখে মনে হলো ঐশীর কদর্য জীবনের কাহিনি বলতে গিয়ে পরিচালক বারবার যৌনতারই আশ্রয় নিয়েছেন। বিছানায় একাধিক যৌন দৃশ্যের অবতারণা করেছেন। একজন নির্মাতা হিসেবে আমি মনে করি এত কিছু না দেখালেও কাহিনির অঙ্গহানি হতো না!
সবিনয়ে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই। ঐশীর কদর্যময় জীবনের কাহিনি নিয়ে এই স্পর্শকাতর নাটকটি বানানো হলো। ঐশী কিন্তু বেঁচে আছে। সে মারাত্মক অপরাধী। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঐশী নিশ্চয়ই তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। ধরা যাক, মেয়েটি নিজেকে সংশোধন করতে চায়। আগস্ট-১৪ কি তাকে সংশোধন হওয়ার পথ দেখাবে? আরও একটি বিনীত প্রশ্ন। এমনিতে পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে নাটক, সিনেমা নির্মাণ করতে গেলে কর্তৃপক্ষের নানান ধরনের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম আছে।
‘আগস্ট-১৪’ তে পুলিশ বাহিনীকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তার ব্যাখ্যা কী? বাস্তবতাকে তুলে ধরার নামে যৌনতা প্রদর্শনের এই উদ্যোগ কী পুলিশ বাহিনীর কাছে সমর্থন যোগ্য?
প্রিয় পাঠক, বলতে পারেন ওয়েব সিরিজ নিয়ে কেন এত বিতর্ক তা বোঝার জন্যই মূলত অন্য দুটি ওয়েব সিরিজ দেখতে হয়েছে। তর্কের খাতিরে বলতে গেলে শিহাব শাহীন তার ওয়েব সিরিজে কোনও কোনও ক্ষেত্রে পরিচালক হিসেবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। বাকি দুটি ওয়েব সিরিজের সম্মানীত দুই পরিচালক নিজেদের মোটেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। যৌনতাকে পুঁজি করেই ওয়েব সিরিজ বানিয়েছেন। অন্য দুটি ওয়েব সিরিজের একটির নাম ‘বুমেরাং’। বানিয়েছেন ওয়াহিদ তারেক। অপরটির নাম- সদরঘাটের টাইগার। বানিয়েছেন সুমন আনোয়ার। দুটি ওয়েব সিরিজের শরীরই যৌনতায় ভরা। দেখে মনে হয়েছে কাহিনি নয় যৌনতাকে পুঁজি করেই সিরিজ দুটি বানানো হয়েছে। সৃজনশীলতা নয়, ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিই গুরুত্ব পেয়েছে বেশি। সে কারণে নাটক দুটির শরীরে অশ্লীল শব্দ (গালাগাল) ও ক্ষণে ক্ষণে যৌনতাকে উসকে দেওয়া হয়েছে।
আতঙ্কের বিষয় হলো, সিরিজ ৩টি প্রকাশের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় এসব নির্মাতার পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করেছিল একশ্রেণির নির্মাতা। তাদের বক্তব্য ছিল অনেকটা এরকম- অচলায়তন ভাঙতে হবে। নাটক নির্মাণের স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে। কাজেই শিহাব শাহীন, সুমন আনোয়ার ও ওয়াহিদ তারেক যা করেছেন তা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। কোনও কোনও তরুণ পরিচালকের বক্তব্য ও ভাবভঙ্গিতে মনে হয়েছে, যারা অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কথা বলে তারা ব্যাকডেটেড। বিশিষ্টজনদের গঠনমূলক মন্তব্যেরও আপত্তিকর সমালোচনা করেছেন তারা। যদিও এখন তারা চুপ। শেষ খবর হলো, ওয়েব সিরিজ ৩টির ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় ৩ পরিচালকই টিভি নাটক সম্পর্কিত ৩ সংগঠন যথাক্রমে- ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয় শিল্পীসংঘ ও প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের কাছে ক্ষমা চেয়ে পৃথকভাবে চিঠি দিয়েছেন। ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি সালাহ উদ্দিন লাভলু, অভিনয় শিল্পীসংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ওয়েব সিরিজের পক্ষে-বিপক্ষে নির্মাতাদের দুটি অংশ দাঁড়িয়ে গেছে। এক অংশে রয়েছেন অপেক্ষাকৃত বয়োজ্যেষ্ঠ ও জনপ্রিয় নির্মাতারা। অন্যপক্ষে রয়েছেন অপেক্ষাকৃত তরুণ নির্মাতারা। একটি সূত্র জানায়, ওয়েব সিরিজের ব্যাপারে তথ্য মন্ত্রণালয় খোঁজ নিতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অচিরেই হয়তো এক্ষেত্রে একটি নিয়ন্ত্রিত নীতিমালা জারি হতে পারে।
কথায় আছে, স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ কিন্তু স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। স্বাধীনতা অর্জন মানেই যা খুশি তাই নয়। সময় ও পরিবেশ বিবেচনায় ‘সেলফ সেন্সরশিপ’কে গুরুত্ব দেওয়াই হলো আসল কথা। বিশ্ব এগিয়ে গেছে তাই আমাকেও এগুতে হবে। তাই বলে নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে বিসর্জন দিয়ে? একদল নির্মাতা বলছেন, ওয়েব সিরিজ হলো স্বাধীনভাবে নির্মাণ ভাবনা। এটি নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে দেখতে হবে। ওয়েব সিরিজে নির্ধারিত বয়সের কথা উল্লেখ থাকে। কাজেই সমস্যা তো হওয়ার কথা নয়।
সত্যি কথা বলতে কী, ওয়েব সিরিজ কোনও সমস্যা নয়। সমস্যা হলো কনটেন্ট। ওয়েব মানেই যদি যৌনতা প্রদর্শন হয় তাহলে নিশ্চিত বলে দিতে পারি নতুন এই উদ্যোগ জনপ্রিয় হবে না। যৌনতাকে গুরুত্ব দেওয়ায় দেশের চলচ্চিত্র ধ্বংস হয়েছে। পাছে না একই কারণে টিভি নাটকও নষ্ট ও ধ্বংস হয়ে যায়।
শেষে একটি ছোট্ট জিজ্ঞাসা- ওয়েব সিরিজে যারা অভিনয় করেছেন, সম্মানিত সেই অভিনেতা, অভিনেত্রীরা কি বুঝে শুনে অভিনয় করেছেন? তাদের পরিবার কী বলে? খুশি তো? নাকি….? প্লেবয়, প্লেগার্লকে অনেকেই বাহাবা দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের মনে রাখে না। প্রকৃত অভিনেতা অভিনেত্রীকেই মনে রাখে। এটি উপদেশ নয়, বন্ধু হিসেবে পরামর্শ। সবার জন্য রইলো শুভ কামনা।
লেখক : কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, সম্পাদক- আনন্দ আলো।

Previous articleকরোনায় আর্থিক বিপর্যয় : মানুষ বাঁচানোর পরিকল্পনা চাই
Next articleবিসিসিআই-শশাঙ্ক দ্বন্দ্বেই ঝুলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভবিষ্যত?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here