যশোরে করোনা রোগী পাঁচশ’ ছাড়ালো

0
60

 

কল্যাণ রিপোর্ট : যশোরে প্রায় অর্ধশত নমুনা পজেটিভ শনাক্তের দিন জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচশ’ ছাড়ালো।
শনিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া রিপোর্টে এই জেলার ৪৮টি নমুনা পজেটিভ এসেছে। ১২৮টি নমুনা পরীক্ষা করে এই ফলাফল পাওয়া যায়।
এছাড়া এদিন সাতক্ষীরার নয়টি নমুনাও পজেটিভ ফল দিয়েছে যবিপ্রবি জেনোম সেন্টারে। দক্ষিণের এই জেলার ৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল শুক্রবার।
আগের দিন পর্যন্ত যশোর জেলায় সরকারি হিসেবে আক্রান্ত বলে শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৪৬৬। শনিবার পাওয়া ফলের মধ্যে কতটি ফলোআপ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারাবাহিকতা অনুযায়ী বলা যেতে পারে, আক্রান্তের সিংহভাগই নতুন রোগী।
যবিপ্রবির এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও চলমান পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. শিরিন নিগার জানান, শুক্রবার তাদের ল্যাবে যশোর ও সাতক্ষীরা- এই দুই জেলার মোট ১৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৫৭টি পজেটিভ ও ১২৯টি নেগেটিভ ফল দেয়। পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা দুটির সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, সকালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪৮টি নমুনার পজেটিভ রেজাল্ট এসেছে। এর মধ্যে ফলোআপ আছে কি-না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের ঠিকানা নিশ্চিত হয়ে তা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলো লকডাউনসহ অন্যান্য কাজ করবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গেল সপ্তাহজুড়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি ল্যাব-যশোর, খুলনা ও কুষ্টিয়ায় ব্যাপক সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। শুক্রবার খুলনা মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ১১৪টি নমুনা পজেটিভ রেজাল্ট দেয়। বৃহস্পতি ও বুধবার ওই ল্যাবে যথাক্রমে ৯০ ও রেকর্ড ১৭২ নমুনা পজেটিভ ছিল।
অন্যদিকে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গত এক সপ্তায় যশোর জেলার৬৬১টি নমুনা পরীক্ষা করে ২০১টিকে পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ২৬ জুন ৮২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩১টি, ২৫ জুন ১০৪টির মধ্যে ৩১টি, ২৪ জুন ১৪১টির মধ্যে রেকর্ড ৪৯টি, ২৩ জুন ১০৯টির মধ্যে ২৮টি, ২২ জুন ৮২টির মধ্যে ১৮টি, ২১ জুন ৪৯টির মধ্যে নয়টি এবং ২০ জুন ৯৪টির মধ্যে ৩৫টি নমুনা পজেটিভ রেজাল্ট দেয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেব মতে যশোরে গত শুক্রবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাতজন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫৭ জন। এর বাইরে ঢাকায় মৃত্যুবরণকারী অন্তত তিন করোনা রোগীকে যশোর এনে দাফন করা হয়েছে।
যশোর ছাড়াও যবিপ্রবি ল্যাবে ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটের নমুনা পরীক্ষা করে প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু নমুনা পজেটিভ বলে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।
সবশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, যবিপ্রবি জেনোম সেন্টারে এখন পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিমের আট জেলার সাত হাজার নয়টি নমুনা পরীক্ষা করে মোট ৯৩২টিকে পজেটিভ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এই ল্যাবে এখনো পর্যন্ত পজেটিভ শনাক্তের হার প্রায় ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। সারা দেশের ৬০টির বেশি ল্যাবে পরীক্ষিত নমুনাগুলোর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২২ শতাংশ মতো পজেটিভ রেজাল্ট পাওয়া যাচ্ছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন পর্যালোচনা করে দেখা যায়।

LEAVE A REPLY