“সুস্থ পরিবেশ গঠনে অর্থনৈতিক বিকাশের সাথে সাংস্কৃতিক বিপ্লব জরুরি-ভরসা মানবতার মা শেখ হাসিনা”

0
9

কাজী বর্ণ উত্তম
আদিম-অবাধ যৌনাচার প্রথার ওপর সমাজ বিধি-নিষেধ আরোপ করতে পেরেছিল বলেই, মানুষের সমাজ আদিম খোলস ছেড়ে বন্য-বর্বর জীবন ছেড়ে সভ্যতার জন্ম দিতে পেরেছিল। আদিম মানুষ নগ্ন অবস্থায় থাকত, সম্ভাবত ৭২,০০০ বছর আগে মানব সমাজে নগ্নতা নিবারণের জন্য পোষাকের ব্যবহার শুরু হয়। সাধারণভাবে শালীনতাবোধ নগ্নতাকে সমর্থন করে না। তবে স্থান কাল ভেদে শালীনতা বোধের ধারণা ভিন্ন ভিন্ন। সভ্য সমাজে যা শালীন, অসভ্য সমাজে তা বিপরীত যে কারনেই অসভ্য সমাজকে আদিম সমাজের সাথে তুলনা করা হয়। কোনো কোনো নির্দিষ্ট সমাজ ব্যবস্থায় চিত্রে, ভাস্কর্যে ও সাহিত্যে নগ্নতাকে নান্দনিকতার এক বিশেষ উপাদান মনে করা হয়।
ভোগবাদী জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশের কাছে ধর্মের মর্ম কথা, দর্শন শাস্ত্রের মর্ম কথা সবই অকেজো র্দুবল হয়েছে।
র্দুবল হয়েছে মানবিকতা দ্বায়িত্ব বোধ সম্পন্ন মানুষ গড়ার অঙ্গীকার। ধর্মের সাথে দর্শনের দ্বন্দ্ব তৈরি করে এক
আদর্শহীন ভোগবাদী জীবন ব্যবস্থার মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছে সমাজ রাষ্ট্র তথা গোটা বিশ্ব।যার ছোট্ট একটি ছবি দেখতে পাই অসংখ্য নারী কেলেঙ্কারি নাটকের এক চরিত্রকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতা ধর রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে জনগণের ভোট পেতে।
“কতগুলো কালো ঘোড়া
চালাচ্ছে আজ বিশ্ব টা কে।
পৃথিবীর গ্রামে গ্রামে পৌঁছে গেছে
অহঙ্কার, ক্রোধ, কর্কশ ব্যবহার, অবিবেচকেরা,
অসুরদের দাপটে দমবন্ধ ময় এক বিশ্ব। ”
আকাশ সংস্কৃতি আর ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে চিত্রকর্ম, সাহিত্য চর্চা এমন কি নিউজ প্রিন্টের প্রভাব কমতে থাকে। বৃদ্ধি পেতে থাকে ভিডিও তৈরি।
বৃদ্ধি পেতে থাকে নারীকে পন্য সামগ্রীর মত ব্যবহার। বিজ্ঞাপনে নারী কে ব্যবহার করা আদীম লালসার চিন্তা থেকে, যার মধ্যে নান্দনিকতা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা হাস্যকর। তেমনি ভাবে খেলার মাঠে স্বল্প পোশাকে নারী কে যখন প্রদর্শন করা হয় তখন সেটা আর দশটা পণ্য সামগ্রী ছাড়া বিশেষ কিছু কি? বিদেশী টিভি সিরিয়ালে নারী কে যে ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে তার সাথে সমাজের কতটুকু বাস্তব রূপ আছে বরং দিনের পর দিন অসুস্থ সংস্কৃতি দেখাতে দেখাতে সমাজকে অসুস্থ করে তোলা হচ্ছে। ইন্টারনেটে চাইলেই আপনি নগ্ন যে কোন ভিডিও দেখতে পাবেন। আর সব কিছু মিলেই তৈরি করছে পরিবেশ পরিস্থিতি যা আপনাকে আপনার মস্তিষ্ক কে প্রবাহিত করার জন্য যথেষ্ট। মনে রাখতে হবে আপনি যেমন পরিবেশ পরিস্থিতিতে থাকবেন আপনার চিন্তা ও সেই রকমই আচরণ করবে যা বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত।
অবাধ ইন্টারনেট প্রযুক্তির ব্যবহার,আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব, ভোগবাদী জীবনের লালসা মানুষ কে নিয়ে যাচ্ছে আবারও আদিম যুগে। যেখানে জন্মদাত্রী মা আর মা নয় ভোগের পন্য সামগ্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যার দরুন খবরের কাগজে শিরোনাম হচ্ছে পাপিয়া কাহিনী। নারায়ণগঞ্জের পতিতা পল্লী যেন আজ পাঁচ তারা হোটেল থেকে দেশের সর্বত্র। যতদুর মনে পরে কোন এক পুলিশ অফিসার ফেসবুকে লিখেছিলেন থানার আয়ের প্রধান উৎস গুলির অন্যতম পতিতা ব্যবসা। আইনজীবিদের মতে অপরাধ সংগঠনের পিছনে মাদক-টাকার লেনদেন – নারী এযেন একে অপরের সম্পূরক। নারী ব্যবহারিত হচ্ছে মনোরঞ্জনে সমাজের নানা তলায়, নানা স্তরে। গড়ে উঠছে এক ধরনের সিন্ডিকেট, কেউ হয়ে উঠছেন নেত্রী, কেউ আবার সংস্কৃতি চর্চার নামে গড়ে তুলছে সাংস্কৃতিক সংগঠন, যেখান থেকে অভাব আর স্বভাবের সুযোগ নিয়ে উপর তলার মনোরঞ্জনের এক ধরনের সাপ্লাই কারখানায় পরিনত করছে। ধর্ষিত হচ্ছে সাংস্কৃতিক চর্চা।
তাইতো নারী কনস্টেবল যখন তার অফিসার দ্বারা ধর্ষিত হয় বিচার পায় না,নিজের গাঁয়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করতে হয়। ধর্ষণের তালিকা এত বড় হচ্ছে যা ভাইরাস মহামারির মতোই বড় মাহামারি বললেও ভূল বলা হবে না। যা র্দুবল আইনী ব্যবস্থা, আদর্শহীন ভোগ লালসার সমাজ জীবনের প্রতিচ্ছবি।সংসদে দাড়িয়ে অনেকেই বলছেন ধর্ষক কে গুলি করে মারার কথা। শক্ত আইন করুন কিন্তু তাতে কি ধর্ষন বন্ধ হবে। খুঁজে বের করুন কেন মানুষের বিবেক সত্ত্বা কাজ করছে না। আইনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের দ্বায়িত্ব সেই চিকিৎসা টা সম্পূর্ণ করার।
ভোগবাদী জীবনের লালসা মানুষ কে পৃথিবী ময় বিবেক সত্ত্বা হীন করে তুলছে তার থেকে বাংলাদেশ ও বাহির হতে পারেনি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সাংস্কৃতিক বিপ্লব, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা আজ সমাজকে প্রভাবিত করতে পারছে না। ধর্মের মর্ম কথা, দর্শন শাস্ত্রের মর্ম আজ আর প্রভাবিত করতে পারছে না। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সামনে নানান অপসংস্কৃতি। পাপলুর মত আদর্শহীনরা উড়ে এসে জুড়ে বসা এম পি, নেতা নেত্রী চারিদিকে -এদের হাতে আস্তে আস্তে দল তথা রাষ্ট্র নামক গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল চলে যাচ্ছে। ত্রিশ চল্লিশ বছরের ত্যাগীরা হয় বাড়ি উঠে গেছে নয় তো ঐ গোষ্ঠীর গোলামে পরিণত হয়েছে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন আমাদের এই বাংলায় এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটিয়ে ছিল। যার দরুন সৃষ্টি করতে পেরেছিল মানবিক গুন সম্পন্ন একটি প্রজন্ম। একটি প্রজন্ম জেগেছিল বলেই বিপ্লব ময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সৃষ্টি করতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতা। তারপর ও বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না যদি কি না পশ্চিম পাকিস্তানের কোষাগারে চলে না যেত পূর্ব পাকিস্তানের অর্থ। ছয় দফা আন্দোলন ও হতো না, বাংলাদেশ স্বাধীন ও হতো না। ১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ যখন শত্রু মুক্ত হল সেই দিনই পাকিস্তান জানিয়ে দিল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গচ্ছিত রিজার্ভের বিদেশি মুদ্রার এক কনাও বাংলাদেশ পাবে না। অর্থাৎ বাংলাদেশের হাতে তখন ছিল শূন্য বিদেশি মুদ্রা। সেই কারণে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত আমাদের অতি কষ্টে পণ্য বিনিময় ব্যবস্থায় পণ্য ক্রয় করতে হত। আমাদের পণ্য বলতে পাট, চা ও চামড়া ছিল তখন। সাংস্কৃতিক বিপ্লব আর অর্থনৈতিক বিপ্লব এক সাথে না হলে কখনোই পূর্ণতা পায় না তা আমরা আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস থেকেই উপলব্ধি করি।
বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ বিকাশমান। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৩১৭.৪৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বের মধ্যে ৩৯ তম। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আসে প্রধানত ৫ টি খাত থেকে – উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, পরিবহন, নির্মাণ এবং কৃষি থেকে। অর্থবছর ২০১৮-১৯ জিডিপিতে ৬৭ শতাংশ (সাড়ে সাত লাখ কোটি টাকা) অবদান রেখেছে এই খাতগুলি। এই বিকাশমান অর্থনীতির অগ্রগতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
বাংলাদেশের মানুষ এখনো বিশ্বাস করে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংঙালি জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পারবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়ে একটি সুস্থ সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি যে ভাবে যে পারিবারিক পরিবেশে বড় হয়েছেন আজ আপনার দ্বায়িত্ব বাংলাদেশের সকল পরিবার যেন সেই রকম পরিবেশ পায়। আপনি যেমন ধর্ম চর্চা করেন তেমনি যেন সকলেই করে, আপনাকে যেমন রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের গান দোলা দেয়, তেমনি যেন সকলের মনে দোলা দেয়, সেই রকম একটা পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরির মহা পরিকল্পনা নেওয়া আজ সকলের চ্যালেঞ্জ। পৃথিবীর যত গুলো জাতি সত্তা আছে তার মধ্যে অন্যতম একটি জাতি বাঙালি। সমৃদ্ধ ময় বাংলা ভাষা, সাহিত্য, গান, আচার, আচারণ, পোশাক সব মিলিয়ে শিল্প সংস্কৃতির সকল অংগনে বাঙালি কত সমৃদ্ধ তা যেমন এদেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ উপলব্ধি করে না তেমনি বিশ্ববাসীর বেশির ভাগ মানুষও জানে না। বাঙালি সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক কোন কিছু আকাশ সংস্কৃতিতে নিয়ন্ত্রণ, ইন্টারনেটে নগ্ন ছবি নিয়ন্ত্রণ আজ জরুরি। জরুরি আর্দশিক রাজনৈতিক চর্চা রাজনীতির সকল স্তরে। তাইতো বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন -“ আন্দোলন গাছের ফল নয়, আন্দোলন মুখ দিয়ে বললেই করা যায় না,
আন্দোলনের জন্য জনমত সৃষ্টি করতে হয়, আন্দোলনের জন্য আদর্শ থাকতে হয়,আন্দোলনের জন্য নিঃস্বার্থ কর্মী হতে হয়, ত্যাগী মানুষ থাকা দরকার,আর সর্বোপরি জনগণের সংঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ সমর্থন থাকা দরকার।”
যে রাষ্ট্র তার নাগরিকের দ্বায়িত্ব যত বেশি নেয় সেই রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন ততো সুন্দর, ততো ভালো হয়। একথা টি বারবার প্রমাণিত। মানুষের বিবেক সত্ত্বা ততো পরিস্ফুটিত হয়। আগামীর মহা পরিকল্পনায় প্রবৃদ্ধির সাথে নতুন প্রজন্ম তৈরির করতে হবে। আর্দশিক নাগরিক গঠনের জন্য সাংস্কৃতিক বিপ্লব আজ সময়ের দাবি। বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনা প্রয়োজন। বাংলাদেশে আগামী পঞ্চাশ বছরে কি কি কলকারখানা তৈরী হতে পারে সেই অনুযায়ী কারিগরি পাঠ্য শিক্ষা তৈরি হওয়া দরকার, দরকার জরুরি ইলেকট্রনিকস সেবার কারিগরি শিক্ষা পাঠ্য, বাংলাদেশের সকল নাগরিকের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কি পরিমান ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মি আগামীতে প্রযোজন সেই অনুসারে ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মি সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি, জরুরি সকল স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়,
কলকারখানায়, পাড়া মহল্লায় সুস্থ ধারার বাঙালি সাংস্কৃতিক চর্চা এবং খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা।
আকাঙ্খা বাস্তবায়নে মানবতার মা শেখ হাসিনার উপর ভরসা করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘মা’ কবিতার কয়েকটি লাইন দিয়ে শেষ করি-
“যেখানেতে দেখি যাহা
মায়ের মতন আহা
একটি কথায় এত সুধা মেশা নাই,
মায়ের যতন এত
আদর সোহাগ সে তো
আর কোনখানে কেহ পাইবে না ভাই।
হেরিলে মায়ের মুখ
দূরে যায় সব দুখ,
মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান,
মায়ের শীতল কোলে
সকল যাতনা ভোলে
কত না সোহাগে মাতা বুকটি ভরান।
কত করি উৎপাত
আব্দার দিন রাত,
সব স’ন হাসি মুখে, ওরে সে যে মা!
আমাদের মুখ চেয়ে
নিজে র’ন নাহি খেয়ে,
শত দোষে দোষী তবু মা তো ত্যাজে না।”
লেখক কলামিস্ট

LEAVE A REPLY