তবু আশা বেঁচে থাক

0
14

রেজানুর রহমান
ছবিটার দিকে তাকিয়ে আছি। চোখ সরাতে পারছি না। একবার মনে হলো সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবিটা বোধকরি অনেক পুরনো। করোনাকালের নয়। করোনাকালের হলে রাস্তায় এত ভিড় থাকবে কেন? করোনা সতর্কতায় সবাইকে তো ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। কাজেই এরকম একটা ভিড়ের ছবি করোনাকালের হতে পারে না। কিন্তু ছবিটার নিচে ক্যাপশনের লেখা পড়ে যারপরনাই অবাক হলাম। ৪ জুলাই ২০২০ দেশের একটি শ্রেষ্ঠ দৈনিকের প্রথম পাতায় ছবিটা প্রকাশিত হয়েছে। ক্যাপশনে লেখা ‘ছুটির দিনে কেনাকাটার ভিড় বেড়েছে রাজধানীর নিউমার্কেট ও গাউছিয়া এলাকায়। সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। থাকছে না সামাজিক দূরত্বের নিয়ম। বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।’ ছবিটি গাউছিয়া মার্কেট সংলগ্ন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সরণি থেকে তোলা…ছবির ক্যাপশন পড়ার পর আরও বেশি কৌতূহলী হলাম। ভয় বেড়ে গেলো। পত্রিকার এই ছবি দেখে কোনোভাবেই বোঝার উপায় নেই যে এই দেশে করোনা সংক্রমণের ভয়ভীতি আছে। অথচ বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের দিক থেকে ঢাকা শহরই সবথেকে এগিয়ে আছে। কিন্তু পত্রিকার ছবিতো সে কথা বলছে না। বরং পত্রিকার ছবি প্রমাণ করছে ঢাকা শহরে করোনার কোনও ভীতি নেই। আসাদ চৌধুরীর কবিতার ভাষায়, ‘মানুষ খাচ্ছে, দাচ্ছে, ঝাঁকের কই ঝাঁকের সাথে মিছে যাচ্ছে…’। কিন্তু এখন কি ঝাঁকের কইয়ের মতো মানুষের সঙ্গে মানুষের মিশে যাওয়ার সময়। যেখানে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে করোনা সতর্কতায় ঘরে থাকুন, এবং ঘরেই থাকুন। বাইরে বের হলে সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ ভিড় এড়িয়ে চলুন। অবশ্যই মাস্ক পরবেন। বাসায় থাকলেও কিছুক্ষণ পরপর সাবান পানি দিয়ে হাত ধুবেন।
কিন্তু কথা হলো কতদিনইবা এভাবে ঘরে থাকা যায়? ঘরবন্দি জীবন কাটানো যায়? অপেক্ষারও তো একটা লিমিট আছে। যদি একটা টাইম লিমিট থাকতো যে, ২ মাস, ৩ মাস, ৬ মাস অথবা এক বছর এভাবে অপেক্ষা করতে হবে। ঘরেই থাকতে হবে। তাহলে মানসিক প্রস্তুতি নিতে সহজ হতো। দিন গণনা করে সময় কাটতো। কিন্তু সেই সম্ভাবনার কথাও তো বলা যাচ্ছে না। অনিশ্চিত এবং আতঙ্কের ভবিষ্যৎ সামনে। কাজেই দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকা সম্ভব নয়। তাছাড়া অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন খোলা। ফলে মানুষ তো ঘরের বাইরে যাবেই। ঢাকা শহরে জনসংখ্যার আধিক্য থাকায় রাস্তায় ভিড় হবে। এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে এত ভিড়? পারলে একজন অন্যজনের মাথার ওপর দিয়ে হেঁটে যায়। তার মানে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এই শহরের অধিকাংশ মানুষের মনে করোনা ভীতি কাজ করছে না। অথবা ভীতি কাজ করলেও অনেকেই হয়তো ভেবে নিয়েছেন তার করোনা হবে না। যদি আমার অনুমান সত্যি হয়, তাহলে তো ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছি আমরা। একথা সত্য, করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করেই আমাদের চলতে হবে। কিন্তু সেই যুদ্ধ করার মানসিকতা ও যুদ্ধের কৌশল হিসেবে প্রয়োজনীয় সতর্কতার সামান্যতম দৃষ্টান্তও তো দেখা যাচ্ছে না। আমরা যত কথাই বলি না কেন, রুটি রুজির প্রয়োজনে প্রতিদিন চাকরি ও ব্যবসার কারণে পরিবারের কাউকে না কাউকে ঘরের বাইরে বের হতে হচ্ছে। এই দেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ‘দিন আনে দিন খায়’। অর্থাৎ দিনের আয়-রোজগার দিয়েই দিন চালায়। কাজেই তাদের কঠোর নির্দেশনায় ঘরে বসিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু সময় বিবেচনায় নিজেকে ‘সেফ’ রাখার চর্চাটা তো করা যেতে পারে। সাধারণ হিসাব। ঘরের বাইরে বের হলে ‘মাস্ক’ পরুন। জীবন বাঁচাতে এই বিষয়টিকে তো গুরুত্ব দিতে পারি। কিন্তু সবাই কি তা মানছেন?

বেরসিক অজুহাত
যদি বলি মানুষের হাত তিনটি, তাহলে কি খুব অবাক হবেন? হয়তো অনেকে ভ্রু কুচকাতে শুরু করেছেন। এই লোক বলে কী? মানুষের তিনটি হাত হয় কী করে? হয়রে ভাই। মানুষেরও তিনটি হাত হয়। ডান হাত, বাম হাত এবং অজুহাত। আমরা যখন নিয়ম মানি না, মানতে চাই না, তখন তৃতীয় হাত অর্থাৎ অজুহাতকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করি। অনেক সময় বাম হাত, ডান হাতের চেয়েও অজুহাতই বেশ শক্তিশালী হয়। শরীরের দুই হাতকে থামানো যায়। কিন্তু মানসিকভাবে তৈরি অজুহাতকে থামানো যায় না। বরং অজুহাতের কাছেই হেরে যেতে হয়।
ছোট্ট একটা ঘটনার কথা বলি। অফিসে যাবো বলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি। রিকশার জন্য অপেক্ষা। একটু দূরে একটি চায়ের দোকানের সামনে লম্বা বেঞ্চির ওপর বসে আছে কয়েকজন জন মানুষ। তিন জনের মুখে মাস্ক আছে। দু’জনের একজনের মাস্ক মুখে নেই। মাথায় টুপির মতো জড়িয়ে আছে। অন্যজনের মাস্ক হাতের মুঠোয় ধরা। বাকিরা মাস্ক পরেনি। সবাই দিব্যি পাশাপাশি বসে চা খাচ্ছে। গল্প করছে। দোকানটার সামনে এগিয়ে এলাম। যারা মাস্ক পরেনি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, ভাই মাস্ক পরেননি কেন? একজন মৃদু হেসে উত্তর দিলো এমনি। অন্যেরা আমার কথায় বিরক্ত হয়ে চলে গেলো। যিনি মাস্ককে টুপির মতো মাথায় দিয়েছেন তাকে জিজ্ঞেস করলাম মাস্ক তো থাকবে মুখে। আপনার মাথায় কেন? সে হাসতে হাসতে জবাব দিলো, মুখে গরম লাগে…তাই…যিনি হাতের মুঠোয় মাস্ক রেখেছেন তার দিকে তাকাতেই বিরক্ত হয়ে বললো, ফিতা ছিঁড়ে গেছে। তাই…আপনার এই মাস্ক কতদিনের? এই প্রশ্নের উত্তরে কাচুমাচু হয়ে বললো, তা পরায় ২০ দিন…খেয়াল করে দেখলাম তার হাতের মুঠোয় চেপে রাখা মাস্কটি সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক। সাধারণত একবার ব্যবহার করার পর ফেলে দিতে হয়। অথচ এই লোক ২০ দিন ধরে ব্যবহার করছে। মাস্ক থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেদিকে তার কোনও খেয়াল নেই! তবে এক্ষেত্রে একটা যুক্তি দেখানো যেতে পারে। তবুও তো তিনি মাস্ক ব্যবহার করছেন। সতর্ক থাকার চেষ্টায় আছেন। সতর্ক থাকার নামে কাউকে প্রতারণা করছেন না।

প্রতারণার নতুন কৌশল
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম হলো দেশের দ্বিতীয়তম করোনা সংক্রমণের শহর। প্রচার মাধ্যমে এই শহরের পরিবহন সেক্টরের অভিনব প্রতারণার কথা জেনেছি। বাসে যাত্রী ওঠার সময় তাদের হাতে সাবান পানির বদলে শুধু পানি ছিটিয়েছে চতুর পরিবহন কর্মীরা। ঢাকার পরিস্থিতি কেমন তা দেখার জন্য রাজধানীর রাস্তায় শহরতলীর একটি বাসে উঠেছিলাম। দরজার মুখে ময়লা পোশাক পরা একজন তরুণ একটি বোতল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাসের নতুন যাত্রীর হাতে সাবান পানি স্প্রে করছে। আমার হাতেও স্প্রে করলো। কৌতূহলী হয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম এটি আদৌ সাবান পানি কিনা। মনে হলো সাবানের ‘স’ও নেই। শুধু পানি…ছেলেটিকে বললাম কিরে ভাই এ তো দেখি শুধু পানি…এভাবে প্রতারণা করছো? সে আমার কথায় বিরক্ত হয়ে বললো, বিশ্বাস হইলো আসল কথা। মনে মনে বিশ্বাস কইর‌্যা লন যে এইডা সাবান পানি। তাতেই কাম হইবো! তার সঙ্গে কথা বলার আর ইচ্ছে হয়নি। বাসের ভেতর কোনও সিট খালি নাই। ড্রাইভারের সিটের কাছে বাসের ইঞ্জিনের ওপরও গাদাগাদি, ঠাসাঠাসি করে বসে আছে যাত্রীরা। অধিকাংশের মুখে মাস্ক নাই। প্রায় প্রতিটি সিটে একজন অন্যজনের শরীরে হেলান দিয়ে বসে আছে। কেউ কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন। আবার কেউ কেউ মোবাইলে ব্যস্ত। দেখে মনে হলো না এদের মাঝে করোনা নিয়ে কোনও ভয় বা আতঙ্ক আছে।

ভয় জেগেছে পশু কোরবানি নিয়ে
ওই যে ভয়ের কথা বললাম। করোনার ব্যাপারে ভয়ে ভয়ে দিন কাটাতে হবে এমনটাও ঠিক নয়। এখানে ভয় বলতে বুঝাতে চেয়েছি প্রয়োজনীয় সতর্কতা। ভয়কে জয় করার সাহসটাই জরুরি। সেজন্য কিছু নিয়ম-কানুনের মধ্যেই তো আমাদের থাকতে হবে। আসছে কোরবানির ঈদ। পশু কোরবানি নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কোরবানির পশুর হাট বসবে কী বসবে না এই নিয়ে জোর বিতর্ক চলছে। মাননীয় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক্ষেত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার যত্রতত্র পশুর হাট বসতে দেওয়া ঠিক হবে না। কিন্তু মন্ত্রীর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা বোধকরি কোনও কাজে দেবে না। মহাসমারোহে কোরবানির পশুর হাট বসানোর জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে তিন ফুট দূরত্ব মেনেই হাটে পশুকে দাঁড় করাতে হবে। মানুষই তিন ফুট দূরত্ব মানছে না। সেখানে পশুরা কি মানবে? জানি না পশুর হাটকে কেন্দ্র করে আমরা করোনার নতুন কোনও সংকটের দিকে পা বাড়াচ্ছি কিনা। কথা উঠেছে পশু খামারিদের নিয়ে। ঈদে পশু সরবরাহের জন্য বছরব্যাপী তাদের একটা প্রস্তুতি চলে। অনেক টাকা লগ্নি করে। কাজেই এবার যদি পশু বিক্রি না হয় তাহলে তারা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই কথায় হয়তো যুক্তি আছে। কিন্তু এটাই পশুর হাট নামক নাটকের আসল কাহিনি নয়। আসল কাহিনি হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা। প্রতি বছর পশুর হাটকে কেন্দ্র করে অর্থাৎ হাট ইজারা নেওয়ার প্রতিযোগিতায় কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। হাট বসাতে পারলেই টাকায় টাকা। সে কারণে পশুর হাট যত্রতত্র বসানোর পক্ষেও ক্যাম্পেইন হচ্ছে। অথচ অনলাইনেও এখন কোরবানির পশু কেনা যায়। সময় বিবেচনায় এবার অনলাইনের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। করোনা সতর্কতায় আমাদের অনেক কার্যকর পদক্ষেপ আছে। কিন্তু মাঝে মাঝে সামান্য ভুলের কারণে আমরা এগিয়ে যাওয়ার পরও পরক্ষণেই পিছিয়ে যাচ্ছি। চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেওয়া সত্ত্বেও আমরা প্রথম দিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মোটেই গুরুত্ব দেইনি। যার মাশুল আমাদের গুনতে হচ্ছে। ঈদের পশু কোরবানির বাধ্যবাধকতায় পড়ে আমরা যেন নতুন কোনও ভুলের দিকে পা না বাড়াই, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ভুল যখন ভাঙবে…
করোনা যেমন ভয়ের তেমনি অনেকের কাছে করোনা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার বিষয়ও হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকাকে ‘লকডাউন’ করে রাখার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রথমে লকডাউন করা হয় পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা। এক্ষেত্রে স্থানীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু লকডাউনকে কেন্দ্র করে এলাকার অধিবাসীদের কারও কারও বিস্ময়কর আবদার সত্যি ছিল বিব্রতকর। রাত ১২টায় ঝাড়– কেনার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবকদের। রাত ৩টায় কারও বারবিকিউ করতে ইচ্ছে হয়েছে। ব্যস সেজন্যও স্বেচ্ছাসেবকদের বিরক্ত করার খেলায় মেতে উঠেছিল কেউ কেউ। রাত ৩টায় ওষুধ এনে দেওয়ার জন্যও অহেতুক চাপ দিয়েছে কেউ কেউ। এ যেন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য খেলা…পূর্ব রাজাবাজারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার ওয়ারীতে লকডাউন শুরু হয়েছে। পত্রিকায় পড়লাম, লকডাউনের ভয়ে অনেকেই নাকি এলাকা ছেড়েছেন। ভয়টা কিসের? নিয়ম মানার ভয়? কিন্তু সময় বিবেচনায় কিছু নিয়ম তো মানতে হবে। আবেগের বশবর্তী হয়ে আর কোনও ভুল করা যাবে না। যারা ভুল করছেন অর্থাৎ করোনা সতর্কতায় কোনও নিয়মই মানতে চাইছেন না, ভুল করেই চলেছেন। তাদের উদ্দেশে একটা কথা বলি, ভুল যখন ভাঙবে হয়তো দেখবেন অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে!

বাড়ি ভাড়ার বিড়ম্বনা
করোনা আমাদের সমাজ জীবনের ভিত্তিটাই নড়বড়ে করে দিয়েছে। রাজধানীর অধিকাংশ মানুষ ভাড়া বাড়িতে থাকে। যাদের মধ্যে মধ্যবিত্তের সংখ্যাই বেশি। অনেকের চাকরি চলে গেছে। ফলে বাড়ি ভাড়া দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। ভাড়া মওকুফের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাদের বক্তব্য, ভাড়া মওকুফ করলে তারা চলবেন কীভাবে? অনেক বাড়িওয়ালা আছেন বাড়ি ভাড়ার অর্থেই তাদের সংসার চলে। আবার অনেকে আছেন যাদের বাড়ি ভাড়া ব্যাংকে জমা হয়। তারা তো ইচ্ছা করলেই অসহায় ভাড়াটের এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়াতে পারেন। বাড়ি ভাড়া দিতে না পারায় অনেক ভাড়াটেকে বাসা থেকে জোর করে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত বলে অনেকে মনে করছেন।

স্বপ্ন দেখো মন
করোনার থাবায় অসীম আঁধারে ছেয়ে আছে গোটা পৃথিবী। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থা খুবই করুণ। তবুও স্বপ্ন দেখে মন। করোনার এই আতঙ্কজনক সময়েও শত বছরের প্রকল্পে গতি ফেরাতে চান আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলায় যার নাম বদ্বীপ পরিকল্পনা, ইংরেজিতে ‘ডেল্টা প্ল্যান’। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উচ্চপর্যায়ের একটি কাউন্সিল গঠন করেছে সরকার। ‘ডেল্টা গভর্ন্যান্স’ কাউন্সিল’ শীর্ষক এই কাউন্সিলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ১০০ বছর মেয়াদি এ পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও নদী অববাহিকা কেন্দ্রিক টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যার মাধ্যমে দেশের কৃষি, জীবন-জীবিকা তথা অর্থনৈতিক উন্নতির আশা করা হচ্ছে।

আশা বেঁচে থাকুক
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ প্রায়শই একটা কথা বলেন, মানুষ তবে স্বপ্নের সমান বড়। তার মানে স্বপ্ন দেখতে শিখতে হয়। তাহলেই কী ব্যক্তি, কী সমাজ এবং অবশ্যই রাষ্ট্রীয় জীবনে সাফল্য লাভ করা যায়। প্রিয় পাঠক, করোনার এই দুঃসময়ে সাহস হারাবেন না। মনকে শক্ত করুন। আশা জাগিয়ে রাখুন। সবার জন্য রইলো শুভ কামনা।
লেখক : কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, সম্পাদক আনন্দ আলো

LEAVE A REPLY