প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার : বাকিরাও দ্রুত এই সহায়তা পাক

0
24

করোনায় কর্মহীন ও আয়-উপার্জনহীন হয়ে পড়া প্রায় ১৪ লাখ পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার। প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হবে আড়াই হাজার টাকা করে। মোট ৫০ লাখ পরিবারকে এই সহায়তা দেওয়ার কথা। প্রথম দফায় এই নগদ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৩৫৬ পরিবারকে। সে সময় তালিকা তৈরিতে বড় ধরনের ভুলের কারণে বাকি ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪৪ পরিবারকে নগদ সহায়তা পাঠানোর কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। এরপর এই তালিকা সংশোধন করে আরো ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪৪টি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে এখন এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৩৪৫ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার টাকা। বাকি প্রায় ২০ লাখ পরিবারের তথ্য যাচাই করে ঈদের পর আবারও অর্থ ছাড় করা হবে।
করোনা মহামারির কারণে সারা দেশে বহুসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে, দিনমজুর বা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের আয়-রোজগার অনেক কমে যায়। সে সময় প্রান্তিক দুই কোটি মানুষকে অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতি পরিবারে সদস্য চারজন করে ধরে ৫০ লাখ পরিবারকে এই অর্থ সহায়তায় আনার জন্য তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৫০ লাখের মধ্যে ২৮ লাখ পরিবারেই তথ্যে ব্যাপক গরমিল রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের পাঠানো তালিকায় দরিদ্রদের চেয়ে সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেখা যায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উঠে আসে যে মাঠপর্যায়ের তালিকায় দুই হাজার ৮৫৫ জন সরকারি কর্মচারীর নাম রয়েছে। পাঁচ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে এমন ৫৫৭ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। সরকারি চাকরিজীবন শেষ করে পেনশন ভোগ করছেন এমন ছয় হাজার ৭৮৬ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। দুই লাখ ৯৫ হাজার ৯১৯ জনের ক্ষেত্রে দেখা যায় ঘুরেফিরে একাধিকবার একই ব্যক্তির নাম লেখা হয়েছে। অন্য সামাজিক কর্মসূচিতে সুবিধা পাচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের নামও এসেছে এই তালিকায়। এর বাইরে আট লাখ ২৯ হাজার ৯৪৮ জনের যে মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ডের বিপরীতে সেগুলোর কোনো নিবন্ধন নেই। সাত লাখ ৯৮ হাজার ৬৭৭ জনের জন্য যে মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, তাতে উল্লিখিত জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ডের নম্বর ও জন্ম তারিখ নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে রক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মেলে না। এ রকম আরো অনেক অসংগতি। এরপর নগদ সহায়তা পাঠানো বন্ধ রেখে তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমাদের প্রশ্ন, এত বড় একটি মহতী রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এমন অসংগতি কেন হবে? আমরা চাই, বাকি ২০ লাখ প্রান্তিক পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা পাঠানোর কাজটিও দ্রুত সম্পন্ন হোক।

LEAVE A REPLY