‘সীমিত আকারে’ খেলাধুলা শুরুর ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর : খেলাধুলা শুরু করতে যে ১০টি শর্ত মানতে হবে

0
18

ক্রীড়া ডেস্ক : করোনার কারণে গত মার্চ থেকে দেশে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে আছে। এ জন্য আর্থিক সংকটে পড়ে গেছেন অসংখ্য ক্রীড়াবিদ এবং খেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দেশের করোনা পরিস্থিতি এখনো আশঙ্কাজনক। এর মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে খেলাধুলার আয়োজন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার ঘোষণা দিল ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
সোমবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করা যাবে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। এ অবস্থায় গত ১৬ মার্চ দেশে সব ধরনের খেলাধুলা স্থগিত করার নির্দেশ দেয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
এবার সীমিত আকারে খেলাধুলা শুরু করতে ১০টি শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য গত কিছুদিন আগেই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য স্বাস্থবিধি মেনে ব্যক্তিগত অনুশীলনের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরপর ফুটবল দলেরও ক্যাম্প শুরু হয়েছে। কিন্তু ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ২৪ ফুটবলারের ১৮ জনই করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খেলাধুলা শুরু করতে যে ১০টি শর্ত মানতে হবে : করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের সকল পর্যায়ে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত আকারে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। করোনার কারণে গত মার্চ থেকে দেশে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে আছে। এ জন্য আর্থিক সংকটে পড়ে গেছেন অসংখ্য ক্রীড়াবিদ এবং খেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দেশের করোনা পরিস্থিতি এখনো আশঙ্কাজনক হলেও সীমিত আকারে খেলা শুরুর ঘোষণা দিয়ে ১০টি শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

১। খেলাধুলা শুরুর আগে খেলার মাঠ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর পূর্বে, মহামারি প্রতিরোধক সরঞ্জাম যেমন মাস্ক, গ্লোভস, জীবাণুনাশক এবং নন-কন্ট্যাক্ট ইনফ্রারেড থার্মোমিটার সংরক্ষণ করে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। তদারকি ও বাস্তবায়ন এর দায়িত্বের জন্য একজনকে নির্দিষ্ট করলে ভাল হয়। সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীদের স্বাস্থ্য বিধি প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।

২। সীমিত আকারে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে।

৩। খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং খেলাধুলা সংশ্লিষ্ট সকলের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে ক্যাম্প শুরুর পূর্বে প্রয়োজনবোধে সবার কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা যেতে পারে।

৪। খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণকালীন ক্যাম্পে অবস্থানের সময় স্বাস্থ্য বিধি মেনে থাকার ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। খাওয়া দাওয়ার ব্যপারে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিক দুরত্ব বজার রেখে খাবার গ্রহণ ও খাবারের ব্যবহৃত থালা বাসন পরিস্কার ও জীনাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। সম্ভব হলে ডিসপোজেবল প্লেট ব্যবহার করাই ভাল। ধুমপান নিরুৎসাহিত করতে হবে। খেলোয়াড়দের ঘুম, বিশ্রাম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখতে হবে। ডিজিটাল/অনলাইনের মাধ্যমে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

৫। খেলা ও প্রশিক্ষণের সময় ব্যক্তিগত পানির বোতল ও তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত সরঞ্জাম এবং জামাকাপড় নিজস্ব ব্যাগে রাখতে হবে। টিস্যু, রুমাল বা অন্যান্য ব্যবহৃত উপকরণ যেমন প্লাস্টার, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে উপযুক্ত পাত্রে (মুখবন্ধ ময়লার পাত্র) ফেলে দিতে হবে।

৬। অধিক জন সমাগম না করে সীমিত আকারে খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে। মাঠে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময় দর্শকদের সারিবদ্ধভাবে পরস্পর হতে এক মিটারেরও বেশি দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মাঠে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট দূরত্ব (১মিটার) বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি দুইজন দর্শকদের মাঝে এক সিট খালি রাখতে হবে।

৭। খেলার মাঠের প্রবেশ পথে খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং বহগিরাগত দর্শনার্থীদের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যাদের শরীরের তাপমাত্রা ৯৮.৪μ ফারেনহাইটের বেশি হলে তাদের মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।

৮। খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক/কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট কমিটির মধ্যে কোভিড-১৯ এর সন্দেহভাজন কোনো রোগী থাকলে তাৎক্ষিণকভাবে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৯। খেলার মাঠের আবর্জনা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে এবং আবর্জনা সংরক্ষণকারী পাত্র প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

১০। স্টেডিয়ামে আগত সকলকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার জন্য সহজে দৃশ্যমান হয় এমন স্থানে বিলবোর্ড, রেডিও, ভিডিও ও পোস্টারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচার করার ব্যবস্থা করতে হবে।

LEAVE A REPLY