আশা জাগাচ্ছে পাট : বহুমুখী বাজার তৈরি করতে হবে

0
12

বিজেএমসির ২৫টি পাটকলের ২৫ হাজার শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। তার পরও বিশ্ববাজারে আশার আলো জাগাচ্ছে পাট ও পাটজাত দ্রব্য। প্রাকৃতিক আঁশ বা পাটজাত পণ্যের চাহিদা বিশ্ববাজারে বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগানোর সময় এসেছে।
পাট যেহেতু একান্তভাবেই আমাদের ফসল, তাই এর গবেষণা ও উন্নয়নে আমাদেরই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায়ই বাংলাদেশের পাট গবেষণা আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে। পাটের জিনোম আবিষ্কৃত হয়েছে। রোগমুক্ত ও অধিক ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সেই সঙ্গে মানসম্মত পাটপণ্যের গবেষণাও এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশের পাটশিল্পের হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবেও যেসব সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সেগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সঠিক মানে পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরি করা গেলে বিশ্ববাজারে নতুন মাত্রা পাবে পাট। তবে সবার আগে আমাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের পথে যেতে হবে। বাংলাদেশ সবচেয়ে ভালো মানের পাট উৎপাদনকারী দেশ হলেও শুধু কার্যকর গবেষণা ও ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে বিশ্ববাজারে পিছিয়ে পড়ছে। দেশে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও তহবিলের কারণে বাণিজ্যিকভাবে একে খুব বেশি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে ভারত পাটের জন্য তিনটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে। কাজেই গবেষণা ও ব্র্যান্ডিংয়ে আমাদের অধিক নজর দিতে হবে। এর পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে পাটের বহুমুখী ব্যবহার। পাটের আরো উন্নত জাত আবিষ্কারসহ পাটশিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যয় ও মান নিশ্চিত করতে হবে। সরকার পাটকল আধুনিকায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে পাট খাতে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও কলেজের আধুনিকায়ন করতে হবে। পাটশিল্পের বৈচিত্র্য আনতেও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন। বিশ্বে পাটের চাহিদা মূল্যায়ন, নতুন চাহিদা সৃষ্টি এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহারের জন্য একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করাও জরুরি।
পাট বিশেষভাবে বাংলাদেশের উপযোগী ফসল। এর উন্নয়ন ও ব্যবহার বৃদ্ধিতে আমাদেরই অবদান রাখতে হবে। সারা পৃথিবী আজ সিনথেটিক পণ্য ব্যবহারের কুফল বুঝতে পারছে। তাই পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের দিকে আবার সবার দৃষ্টি ফিরছে। বিশ্বের এই পরিবর্তিত মূল্যায়নের সুযোগ আমাদের নিতে হবে। আমরা চাই, পাটপণ্যের বহুমুখীকরণের প্রতি আরো বেশি দৃষ্টি দেওয়া হোক এবং বিশ্বব্যাপী বাজার সম্প্রসারণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হোক।

LEAVE A REPLY